প্রচারের ভাষা শুনে মনে হচ্ছে না সভ্য দেশে আছি

71

সুকুপ্রচারের ভাষা শুনে মনে হচ্ছে না সভ্য দেশে আছি| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal Indiaমার সমাজপতি

আমি রাজনীতির নয়, সম্পূর্ণ অন্য জগতের মানুষ। কিন্তু এটাও ঘটনা যে আমি সমাজ বহির্ভূত জীব নই। সাধারণ আর পাঁচটা মানুষের মতো মতামত আমার মধ্যেও প্রতিফলিত হয়। কারণ আমি সাধারণ নাগরিক। রাজনীতি বা পরিষ্কার করে বলতে হলে, ভোট নিয়ে এবার যা চলছে, তাতে আমি মর্মাহত বলতে পারেন। আমার এখন ৮১ বছর বয়স, ৮২ বছরে পা দিতে চলেছি। অর্থাৎ প্রায় জীবনসায়াহ্নে পৌঁছেছি। ছোটবেলা থেকে বহু নির্বাচন আমি দেখে ফেলেছি ইতিমধ্যে। শুধু দেখিনি, ১৯৫২ সালের নির্বাচনে নিজেরা খেটেছি। তখন আমরা ছোট। সেসময় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জনসংঘের হয়ে কাজ করেছিলাম। এরপর আর সরাসরি কখনও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হইনি। তবে নিয়মিত ভোট দিয়েছি। ভোটের ব্যাপারে খোঁজখবর রেখেছি আর পাঁচজন সাধারণ নাগরিকের মতোই। কিন্তু জীবনের এই শেষ প্রান্তে এসে যা দেখলাম, তাতে আমি মর্মাহত।

- Advertisement -

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে স্পর্ধা ও পালটা স্পর্ধা দেখতে পাচ্ছি, এরকম জিনিস এর আগে কখনও দেখেছি বলে তো মনে পড়ে না। যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে প্রতি মুহূর্তে, এতে সভ্য দেশে বাস করি বলেও মনে হচ্ছে না। অন্তত এই বয়সে এসব শুনতে হবে, ভাবিনি। এই বিষয়ে কারা জড়িত? না অবাক হয়ে দেখছি, প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রীর মতো পদাধিকারীরাও এই কাজ করছেন।  প্রধানমন্ত্রীর মুখের ভাষা এত নীচে নামতে পারে, ভাবা যায় না! এই কি মুখ্যমন্ত্রীর মুখের ভাষা! নন্দীগ্রামে আর যিনি দাঁড়িয়েছেন, তাঁর কথাবার্তা এবং ঔদ্ধত্য দেখে অবাক হচ্ছি।

নির্বাচনে যুক্তি-পালটা যুক্তির বদলে বিশ্রী ভাষার প্যাঁচপয়জার এবং তার জেরে খুনোখুনি – এই এখন সংস্কৃতি। ওঁরা কি একবারও ভাবছেন, এসব বৃহত্তর সমাজের জন্য কতৃটা খারাপ? ওঁদের ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য সাধারণ মানুষ শাস্তি পাচ্ছে। আমার এই চলে যাওয়ার সময়ে যে ধরনের কাণ্ডকারখানা দেখলাম, এতে খুব কষ্ট পাচ্ছি। কোভিড ভাইরাসের মতোই ভয়াল এবং ক্ষতিকর এঁরা। কষ্ট হচ্ছে বড্ড। বিরক্তি তো আছেই। কোন সমাজ আমার উত্তরসূরিদের দিয়ে যাচ্ছি, কষ্টটা সেটা ভেবেই। সাধারণ নাগরিক হিসাবে আমার প্রথম চাহিদা শান্তিপূর্ণ সমাজ। জীবনবোধটা যেন নষ্ট না হয়ে যায়। বিনয় ও ভদ্রতাটা কেন চলে যাবে মানুষের ভিতর থেকে? এসব তো মানুষের স্বাভাবিক প্রবণতা হওয়া উচিত।

এসব না করে বরং জনপ্রতিনিধি যাঁরা, তাঁরা সমাজ থেকে দারিদ্র‌্যমোচনের চেষ্টা করুন না। তবে সেটা যেন গিমিক না হয়। বাস্তবে কাজটা যেন হয়। সমাজে সাম্য ও সমানাধিকার আসুক, ক্ষুধানিবৃত্তি হোক। বড় বড় কথার তো দরকার নেই। যদি সত্যিই এসব করতে পারেন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তাহলে ওঁদের আর বড় বড় কথার প্রয়োজন পড়বে না। কুকথা বলতে হবে না। আমি তো বলব, সাধারণ মানুষকে খেটে খেতে দাও। যা যা দেওয়ার কথা বলে ভোটভিক্ষা করছেন জনপ্রতিনিধিরা, সেসব তো সাধারণ মানুষের অধিকার। তাহলে ওঁরা দেওয়ার কে?