অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপকের মৃত্যু, কলকাতায় ধারাভির হদিস

341

কলকাতা: করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ তথা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক হরিশঙ্কর বাসুদেবনের। শনিবার রাতে বিধাননগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। অন্যদিকে, এদিন কলকাতা পুলিশ এলাকা সংলগ্ন দক্ষিণ ২৪ পরগনার রবীন্দ্রনগর থানা এলাকায় হদিস মিলল মুম্বইয়ের ধারাভির।

অধ্যাপক হরিশঙ্কর বাসুদেবন বিধাননগরের সিডি ব্লকে থাকতেন। গত ৪ মে বাড়ির লোকেরা তাঁকে বিধাননগরের আমরি হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন। সেখানেই তাঁর লালার নমুনায় করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপরই তাঁর বাড়ির লোকেদের কোয়ারান্টিনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আর ওই হাসপাতালেই শনিবার রাতে তিনি মারা যান।

- Advertisement -

অপরদিকে, শনিবার রাতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার অন্তর্গত রবীন্দ্রনগর থানার ভাগাড় ও পাঁচু নস্কর পাড়ার পাশাপাশি দুটি বস্তিতে একাধিক ব্যক্তির শরীরে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ল। এর জেরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি রাজ্য সরকারের তরফে আজমের শরীফ থেকে ফেরেন। তাঁদেরই লালার নমুনা সংগ্রহ করতে গিয়ে বিষয়টি ধরা পড়ে। বস্তির দুটির আরও ২৫ জনের শরীরের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। তবে তাঁদের রিপোর্ট এদিন পুরোপুরি এসে পৌঁছায়নি। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিকদের মতে ওই ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি দুটিতে মুম্বইয়ের ধারাভির মত আরও বহু লোকের শরীরে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়তে পারে। আর সেই কারণেই সমগ্র এলাকাটিকে পুরোপুরি ঘিরে ফেলা হয়েছে। বসানো হয়েছে পুলিশের বুথ। যাতে সেখানকার বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পুলিশের তরফে তাঁদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া যায়।

প্রসঙ্গত, গত ৫ মে আজমীর শরীফ থেকে প্রায় বারশো তীর্থযাত্রীকে এরাজ্যে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ১০০ জনকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলা পাঠানো হয়। ওই ১০০ জনের মধ্যে ৫৪ জনকে পাঠানো হয়েছিল ওই জেলার বিষ্ণুপুর থানা এলাকায়। এছাড়া ৯ জনকে নোয়াখালী, ডায়মন্ড হারবারে দুজন, মহেশতলায় ১২ জন, রবীন্দ্রনগরে ১০ জন ও বজবজ থানা এলাকায় পাঠানো হয় তিনজনকে।

বিষ্ণুপুর থানা এলাকায় যে ৫৪ জনকে তাঁদের বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল তাঁদের মধ্যে ৩০ জনের লালার নমুনা জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরে তরফে সংগ্রহ করা হয়। আর ওই ৩০ জনের মধ্যে ১১ জনের নমুনা রিপোর্ট গতকাল এসে পৌঁছায়। দেখা যায়, যে তাঁদের মধ্যে পাঁচ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে ওই পাঁচজনকে এম আর বাঙ্গুর হাসপাতাল পাঠানো হয়। আর তাঁদের সংস্পর্শে যাঁরা ছিলেন তাঁদের পাঠানো হয় কোয়ারান্টিনে। এর পরপরই গতরাতে রবীন্দ্রনগরের বাসিন্দাদের লালার নমুনার রিপোর্ট আসলে দেখা যায়, তাঁদের মধ্যেও পাঁচ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ রয়েছে। এরপরই সেখানকার অন্যান্য বাসিন্দাদের লালার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তবে এদিন পর্যন্ত সেইসব নমুনার রিপোর্ট পুরোপুরি এসে পৌঁছায়নি।

অপরদিকে মধ্য কলকাতার ট্রপিক্যাল স্কুল অফ মেডিসিনের একজন স্বাস্থ্য কর্মীর শরীরে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে। আর সেই কারণে সেখানকার ৪০ জন স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসককে কোয়ারান্টিনে পাঠানো হয়েছে। দুজন রোগীকে পাঠানো হয়েছে কলকাতা মেডিকেল কলেজে।

পূর্ব কলকাতার মানিকতলা থানায় কর্মরত এক মহিলা সাব-ইন্সপেক্টরের শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তাঁকে বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেইসঙ্গে ওই মহিলা আবাসনে থাকতেন সেখানকার নয় জনকে কোয়ারান্টিনে পাঠানো হয়েছে।

এদিন কলকাতা পুরসভার প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম জানান যে, যাঁরা করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন তাঁদের দেহের সৎকার পুর-কর্মীরা করছেন। তবে সেই সঙ্গে করোনায় আক্রান্ত না হয়ে অন্যান্য রোগে মৃত ব্যক্তিদের দেহে যদি করোনার আতঙ্ক জনিত কারণে পরিবারের লোকেরা দেহ নিতে রাজি না হন তাহলে তাঁদের দেহেরও সৎকার পৌরসভার কর্মীরা করবেন।

অপরদিকে, উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর মহকুমার কামারহাটি পৌরসভা এলাকায় বেশকিছু স্থানে করোনা সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। উল্লেখ্য, মাত্র দুদিন আগেই ওই এলাকারই এক বৃদ্ধ মারা যান। তিনি অবশ্য অন্য রোগে বি এন বোস হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। সেখানেই তাঁর করোনা ধরা পড়ে। আর সেখানে চিকিৎসা চলাকালীন করোনা আক্রান্ত অবস্থাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। এর জেরে ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।