সারাদিনই খোলা ভূতকুড়ার রেডিও মাস্টারের বেতার যন্ত্র

241

কৌশিক সরকার, দিনহাটা: টিভি ও ইন্টারনেটের যুগে রেডিও হারিয়েছে জনপ্রিয়তা। গ্রাম কিংবা শহরের সিংহভাগ বাড়িতেই আর দেখা মেলে না এই যন্ত্রটির। কেউ কেউ অবশ্য মহালয়ার প্রাক্কালে বাড়ির অব্যবহৃত যন্ত্রটিকে সচল করে তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু মাতালহাটের অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক স্কুল শিক্ষক গুণধর সেন (৭২)-এর বাড়িতে ১৯৬৮ সাল থেকে আজও সচল রয়েছে রেডিও। শুধু তাই নয়, ভোরে ঘুম থেকে ওঠার পর থেকে রাতে ঘুম না আসা পর্যন্ত রেডিও তার সঙ্গী। রেডিওতে খবর থেকে শুরু করে কৃষিকর্মের পরামর্শ, ভাওয়াইয়া গান ইত্যাদি শুনেই দিন কাটে তাঁর। কাউকে ছুঁতে দেন না তাঁর প্রিয় যন্ত্রটিকে। তবে রেডিও প্রীতির জন্য প্রতিবেশীদের কাছে তিনি রেডিও মাস্টার বলে পরিচিত।

দিনহাটার মাতালহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের ভূতকুড়া গ্রামের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত এই প্রাথমিক স্কুল শিক্ষক জানান, রেডিওর খবর, গান ইত্যাদি না শুনলে মন ভালো থাকে না। টিভির সামনে খুব একটা বসি না। রেডিওতে ভাওয়াইয়া গান আর দেশ ও দুনিয়ার খবর শোনা আমার নেশায় পরিণত হয়েছে। তাঁর স্ত্রী বাসিন্তীদেবী জানান, ওই যন্ত্রে কেউ হাত দিলে ভীষণ রাগ করেন উনি। তাই আমরা কেউ সেটি ছুঁয়ে দেখি না। রাতেও বিছানাতে ওঁর মাথার কাছে থাকে সেটি। ছোট ছেলে দুলাল জানান, ছোটবেলা থেকেই বাবাকে দেখি রেডিওতেই খবর, গান ইত্যাদি শোনেন। বাড়িতে টিভি থাকলেও সেটার সামনে খুব একটা বসেন না। বড় ছেলে হিমাংশু জানান, বাবা এখনও রেডিওতে মহালয়া শোনেন। রেডিওতে ক্রিকেটের কমেন্ট্রি শুনতে বাবা খুবই ভালোবাসেন। এছাড়া তিস্তাপাড়ের গান, বিবিসির খবর খুবই প্রিয়। প্রতিবেশী গৌরাঙ্গ সেন বলেন, তিন-চার দশক আগে এই গ্রামের অনেক বাড়িতে রেডিও ছিল। তবে এখন কেবলমাত্র গুণধরবাবুর বাড়িতেই সচল রয়েছে রেডিও।

- Advertisement -

আলাপচারিতার ফাঁকে গুণধরবাবু জানালেন, বিয়ের সময় উপহার হিসেবে মিলেছিল একটা রেডিও। প্রায় সেই সময় থেকেই রেডিওর প্রতি তাঁর ভালোলাগা ও ভালোবাসা জন্মায়। যদিও পরবর্তীতে সেই রেডিও বদলাতে হয়েছে যন্ত্রাংশ বিকল হওয়ার কারণে। কিন্তু রেডিওর প্রতি ভালোবাসা তাঁর কমেনি। বরং এখনও তা অটুট। আর জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তা বজায় থাকুক মনে প্রাণে এটাই চান গুণধরবাবু।