সুবিচার পাচ্ছেন না প্রাক্তন সেনাকর্মী

367

রামপুরহাট: প্রাক্তন সেনাকর্মীর অনুমতি না নিয়ে তাঁর জমিতেই প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার বাড়ি নির্মাণ করছেন তারই দুই নিকট আত্মীয়। বীরভূমের নলহাটি ২ নম্বর ব্লকের শীতলগ্রাম পঞ্চায়েতের হামিদপুর গ্রামের ঘটনা। এই নির্মাণ কাজ বন্ধের আর্জি জানিয়ে পঞ্চায়েত,বিডিও,থানা- মহাকুমা শাসকের দ্বারস্থ হলেও সুরাহা মিলছে না বলে অভিযোগ। অবশেষে আদালতের দ্বারস্থ হন প্রাক্তন সেনাকর্মী মাবুদ আলি। এরপরেই চাপে পড়ে বৃহস্পতিবার গ্রামে গিয়ে কাজ বন্ধ করে পুলিশ। এর পরপরই তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে মারধর করে অভিযুক্তরা। এ বিষয়ে মাবুদ আলি ফের নলহাটি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

মাবুদ আলির অভিযোগ, তাঁর জায়গা দখল করে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার বাড়ি নির্মাণ করছেন তারই দুই নিকট আত্মীয়। এই ঘটনার সুবিচার চেয়ে পঞ্চায়েত, বিডিও’র দ্বারস্থ হয়েছেন। কিন্তু বিচার মেলেনি। বিডিও অফিস থেকে তাঁকে থানায় যেতে বলা হয়। কিন্তু থানা থেকে তাঁকে অসম্মান করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। অবশেষে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। কিন্তু আদালতের নির্দেশকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না বলেও মাবুদ আলির অভিযোগ।

- Advertisement -

মাবুদ আলি আক্ষেপ করে বলেন, “কয়েক দিন আগে চিন সীমান্তে ২০ জন সেনা কর্মী শহীদ হয়েছেন। পুলিশ-প্রশাসন থেকে তাঁদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। নেতা, মন্ত্রী, আমলারা ছুটেগেছেন। কিন্তু আমরা প্রাণ দিতে পারিনি বলে সুবিচার পাচ্ছেন না। আমার সঙ্গে বিমাতৃসুলভ আচারণ করা হচ্ছে। অথচ, আমি দীর্ঘদিন সেনাবাহিনীতে কাজ করেছি। ভূপাল, গুজরাট, শ্রীনগর সহ দেশের একাধিক জায়গায় কাজ করেছি। এমনকি কার্গিল যুদ্ধের সময় সামনের সারিতে থেকে লড়াই করে জয়ী হয়েছি। কিন্তু, ২০১৩ সালে অবসরের পরে সম্মানটুকু পাচ্ছি না প্রশাসনের তরফে।

এ বিষয়ে পঞ্চায়েত প্রধান শিবানী মাল বিডিওকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, “অভিযুক্তরা গায়ের জোরে কাজ করছেন। কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযুক্তরা কথা শোনেনি। অবিলম্বে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

বিডিও হুমায়ূন চৌধুরী বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছি। পুলিশকে বিষয়টি দেখতে বলেছি। কেন পুলিশ ব্যবস্থা নেয়নি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

হামিদপুর গ্রাম সংসদের সদস্য প্রকাশ লেট বলেন, “প্রতিদিন কাজ করছে দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু কাজ বন্ধ করার ক্ষমতা তো আমাদের নেই। ফলে আমরা চোখের দেখা দেখছি।