কোভিড-যুদ্ধে নুপি মানবীর ব্যতিক্রমী লড়াই

442

ইম্ফল: উত্তরপূর্ব ভারতের প্রথম রূপান্তরকামী চিকিৎসক তিনি। মণিপুরের প্রান্তীয় নুপি মানবী (রূপান্তরকামী নারীদের স্থানীয় নাম) গোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে করোনা সংক্রামিতদের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন বিয়ঞ্চে লেইসরম। রিজিওনাল ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সের এই প্রাক্তনী বর্তমানে ইম্ফলের এক বেসরকারি হাসপাতালের রেসিডেন্ট চিকিৎসক হিসেবে কাজ করছেন। করোনা সংক্রমণ রুখতে তাঁর সক্রিয়াতা গোটা উত্তর-পূর্বে প্রশংসা কুড়িয়েছে। আইনি স্বীকৃতি মিললেও রূপান্তরকামীদের প্রতি সরকারি উদাসীনতা রয়ে গিয়েছে।

সমাজের এই অংশের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ নতুন নয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে বিয়ঞ্চে যেন রূপান্তরকামীদের কাছে আশার আলো। তাঁর কথায়, ছেলে হয়ে জন্মালেও নিজেকে মেয়ে ভাবতাম। দশম-একাদশ শ্রেণিতে ওঠার পর পুরুষ পরিচয়টা আমার কাছে বোঝার মতো মনে হত। ২০১১-তে এমবিবিএসে ভর্তি হই। ২০১৩তে পরিবার থেকে দূরে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমার সিদ্ধান্তে বাবা খুবই কষ্ট পেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত ২০১৬ নাগাদ আবার পরিবারের কাছে ফিরে আসি। তখনই ঠিক করে ছিলাম, নিজেকে প্রকাশ করব। তখন থেকে নুপি মানবী পরিচয় গ্রহণ করলাম।

- Advertisement -

পুদুচেরির এক হাসপাতালে লিঙ্গ পরিবর্তন করে পুরুষ থেকে নারী হয়েছেন বিয়ঞ্চে। করোনা চিকিৎসার পাশাপাশি মণিপুরের নুপি মানবীদের স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। তাঁর সঙ্গে কাজ করতে পেরে গর্ববোধ করেন হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসকরা। বিয়ঞ্চের সহকর্মী শল্য চিকিৎসক সরখাইবাম যুগিন্দ্রা বলেন, সব মানুষ সমান। নারী-পুরুষ নিয়ে না ভেবে আমাদের উচিত, বিয়ঞ্চের কথা মন দিয়ে শোনা। মণিপুরে করোনা সংক্রামিতের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৫ হাজার। বুধবারের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যে অ্যাক্টিভ পজিটিভ ১,৬০৮ জন। ৩,৮১২ জন পুরোপুরি সুস্থ হয়েছেন। বিয়ঞ্চের মতো চিকিৎসকদের লড়াইয়ে ভর করেই করোনা-যুদ্ধ জয়ে স্বপ্ন দেখছে মণিপুর।