শিশির গুহ, তুফানগঞ্জ, ৭ মার্চ ঃ উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে আবগারি থানার সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। কোচবিহার জেলায় আবগারি দপ্তরের তিনটি থানা তৈরি হচ্ছে। এই থানাগুলি কোচবিহার রেঞ্জের অধীনে থাকা কোচবিহার সদর, তুফানগঞ্জ ও বক্সিরহাট সার্কেলে গড়ে উঠবে। এছাড়া আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং জেলায় দপ্তরের আরও ১১টি থানা গড়ে উঠতে চলেছে। আলিপুরদুয়ার জেলার ক্ষেত্রে আলিপুরদুয়ার, বীরপাড়া, জয়গাঁ ও কুমারগ্রামদুয়ার, জলপাইগুড়ি জেলার জলপাইগুড়ি (সদর), মালবাজার, বানারহাট ও নিউ জলপাইগুড়ি এবং দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ি, নকশালবাড়ি ও বাগডোগরায় আবগারি দপ্তরের থানা গড়ে উঠতে চলেছে বলে জানা গিয়েছে।

আবগারি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, আবগারি থানা তৈরি হলে দপ্তরের কর্মীদের প্রয়োজনীয় কাজকর্ম করতে সুবিধে হবে। এক-একটি থানার দায়িত্বে থাকবেন একজন করে ইনস্পেকটর। ওই ইনস্পেকটর পদমর্যাদার আধিকারিকের অধীনে থাকবেন তিনজন  সাব-ইনস্পেকটর, আর ছজন করে অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইনস্পেকটর (এএসআই)। আবগারি দপ্তরের থানায় আবগারি দপ্তরের মহিলা কনস্টেবল সহ ২১ জন কনস্টেবল থাকবেন। কোচবিহার জেলায় আবগারি দপ্তরের মাথাভাঙ্গা ও কোচবিহার (সদর) রেঞ্জে সাতটি সার্কেল রয়েছে। তেমনই আলিপুরদুয়ারে দুটো রেঞ্জে পাঁচটি সার্কেল, জলপাইগুড়িতে দুটো রেঞ্জে ছটি সার্কেল, দার্জিলিংয়ে তিনটি রেঞ্জে ছটি সার্কেল, উত্তর দিনাজপুরে দুটো রেঞ্জে পাঁচটি সার্কেল, দক্ষিণ দিনাজপুরে একটি রেঞ্জে তিনটি সার্কেল ও মালদা জেলাতে দুটো রেঞ্জে সাতটি সার্কেল রয়েছে। জানা গিয়েছে, মালদা জেলার মালদা (সদর), গাজোল, হাবিবপুর, চাঁচল, দক্ষিণ দিনাজপুর  জেলার সদর, বুনিযাদপুর, তপন, কুশমণ্ডি ও উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ, ডালখোলা ও পাঞ্জিপাড়াতেও আবগারি দপ্তরের থানা তৈরি হবে। জেলার ভেতর থাকা আবগারি দপ্তরের রেঞ্জগুলোর দাযিত্ব সামলাবেন একজন করে ডেপুটি এক্সাইজ কালেক্টর। আর জেলার দায়িত্ব সামলাবেন সুপারিন্টেন্ডেন্ট অফ এক্সাইজ পদমর্যাদার একজন আধিকারিক। কোচবিহার জেলায় আবগারি দপ্তরের তিনটি থানা তৈরির সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অনেকেই। ওযাকিবহাল মহল মনে করছেন যে, রাজ্যের বিভিন্ন স্থলে বিষমদ কাণ্ডে অনেকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। পর্যাপ্ত কর্মীর অভাবে এক সার্কেল অন্য সার্কেল থেকে আবগারি দপ্তরের কর্মী এনে অভিযান চালাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে চোলাই, হাঁড়িয়ার মতো বড়ো ধরনের অভিযানের জন্য স্থানীয় থানার সহযোগিতা নিতে হচ্ছে। সেক্ষেত্রে আবগারি দপ্তরের অভিযানের গোপনীয়তা নষ্টের সম্ভাবনা থাকে। আবগারি দপ্তরের থানা তৈরি হলে অন্য সার্কেল থেকে কর্মী আনা বা স্থানীয় থানার সহযোগিতা নেওয়ার প্রবণতা কমবে। আবগারি দপ্তর অভিযান চালাতে স্বযংসম্পূর্ণ হবে। আবগারি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এ বিষযে ইতিমধ্যে অর্থ দপ্তর থেকে গত ৮ জানুয়ারি নোটিফিকেশন জারি করা হয়েছে। বর্তমানে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। ওযাকিবহাল মহল আরও মনে করছেন, অবৈধ মদের প্রস্তুতি ও ব্যবহার যখন আবগারি দপ্তরের কর্মীরা কড়া হাতে দমনের চেষ্টা করছেন, তখন গ্রামেগঞ্জে বেড়েছে লাইসেন্সপ্রাপ্ত বিদেশি মদের দোকানের সংখ্যা। বেড়েছে বিদেশি মদের  চাহিদা। আবগারি থানা তৈরি হলে, তাদের ওপর নজরদারি চালানোর কাজ সহজ হবে বলে তাঁরা মনে করছেন। আবগারি দপ্তরের কোচবিহার রেঞ্জের ডেপুটি এক্সাইজ কালেক্টর প্রবীণ থাপা অবশ্য এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। প্রসঙ্গত, তুফানগঞ্জে আবগারি দপ্তরের সার্কেলে একজন এক্সাইজ অফিসার ও তিনজন কনস্টেবল রয়েছেন। অপরদিকে, আবগারি দপ্তরের সার্কেলে একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইনস্পেকটর সহ চারজন কনস্টেবল রয়েছেন।