মৃতের ফ্ল্যাট দখলকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের বিবাদ

496

হলদিবাড়ি: মৃত সাবেক ছিটের বাসিন্দার ফাঁকা ফ্ল্যাট দখলকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের বিবাদে চাঞ্চল্য ছড়াল হলদিবাড়িতে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসতেই শনিবার ব্লক প্রশাসনের তরফে পুলিশের সাহায্যে ইতিমধ্যেই দখল করে থাকা পরিবারের সদস্যদের বের করে সিল দেওয়া হয়। করোনা পরিস্থিতিতে ঘর থেকে বিতাড়িত হয়ে বিপাকে পড়ে পরিবারটি। তাই পুনরায় ফ্ল্যাটটি পাওয়ার দাবিতে দুই বছরের শিশু কন্যাকে কোলে নিয়ে বিডিওর দপ্তরের সামনে অনশনে বসে পড়ে পরিবারের সদস্যরা। যদিও ব্লক প্রশাসনের তরফে জানানো হয়, অবৈধভাবে ফ্ল্যাট দখল করে থাকায় জেলা প্রশাসনের নির্দেশে পরিবারটিকে বের করে দিয়ে আইনানুগভাবে ঘরটিকে সিল করে দেওয়া হয়। মানবিক দিক থেকে বিচার করে অধিক সদস্যযুক্ত ওই পরিবারটিকে পুনরায় ফ্ল্যাট বাড়িটি ফেরত দেওয়ার দাবি জানান তৎকালীন ছিটমহল আন্দোলনের অন্যতম নেতা জয়প্রকাশ রায়।

শনিবার দুপুরে উত্তরবড় হলদিবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের তেঁতুলতলায় অবস্থিত সাবেক ছিটের বাসিন্দাদের জন্য নির্মিত স্থায়ী শিবিরের আই-৮ নাম্বার ফ্ল্যাটির বসবাসরত পরিবারটিকে বের করে দিয়ে সিল করে দেওয়া হয়। সাবেক ছিট নাজিরগঞ্জ থেকে আগত শতায়ু সত্যরাম কাউয়ার একার জন্য ওই ফ্ল্যাটটি বরাদ্দ করা হয়। অকৃতদার সত্যরাম গত ৯ জুন রাতে মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই ওই ফ্ল্যাটটির অধিকার নিয়ে শুরু হয় দুই পরিবারের বিবাদ।

- Advertisement -

বর্তমানে সেই ফ্ল্যাটটি অধিকার করে থাকা সাগর রায় বলেন, সত্যরাম কাউয়ার কোন পরিজন না থাকায় ছিটে বসবাসকাল থেকে তাঁদের পরিবারের সঙ্গেই থাকতেন। দেশের মূলভূখণ্ডে আসার পরেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী তৎকালীন কোচবিহারের অতিরিক্ত জেলা শাসক আয়েশা রানীর নির্দেশে আমরা তার দেখভালের দ্বায়িত্ব নিয়েছি। এদিকে আমাদের পরিবারে মোট সদস্য সংখ্যা ১৩ জন। তাই ওই ফ্ল্যাটে শুরু থেকেই আমার আর আমার ভাইয়ের পরিবার একসঙ্গে বসবাস করতাম।

সাগর রায়ের অভিযোগ, সত্যরাম কাউয়ার মৃত্যুর পর এ-১ ফ্ল্যাটে বসবাসরত নৃপেন রায় নিজেকে সত্যরাম কাউয়ার ভাই বলে দাবি করে ওই ফ্ল্যাট দখল নিতে চায়। বিষয়টি তিনি ব্লক প্রশাসনের নজরে আনেন। সেই অনুযায়ী এদিন জেলা শাসকের নির্দেশে ফ্ল্যাটটি সিল করা হয়। অনশনে বসা সাগরের স্ত্রী মুক্তা রায়ের অভিযোগ, আগাম না জানিয়ে ফ্ল্যাটটি সিল করা হয়। এতে শিশুর খাদ্য, কাপড় সহ আমাদের নিত্যদিনের ব্যবহারিক জিনিসপত্র বের করার সুযোগ হয়নি। করোনা পরিস্থিতিতে এমনিতেই কর্মহীন হয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে। তারউপর মাথা গোঁজার ঠাঁই টুকুও কেড়ে নিল প্রশাসন। তাই ফ্ল্যাটটি যাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয় সেই দাবি জানিয়ে বিডিও দপ্তরের সামনে কোলের সন্তানকে নিয়ে আমরণ অনশনে বসেছি।

এ-১ ফ্ল্যাটে বসবাসরত নৃপেন রায় বলেন, হলদিবাড়ির সাবেক ছিটের স্থায়ী শিবিরের আই-৮ নাম্বার ফ্ল্যাটে আমার দাদা(সত্যরাম কাউয়া)বসবাস করতেন। তাঁর মৃত্যুর পর সাগর রায়রা অবৈধভাবে সেটি দখল করে। তাই বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এনেছি। হলদিবাড়ির বিডিও সঞ্জয় পন্ডিত বলেন,নিয়ম অনুযায়ী ওই ফ্ল্যাটগুলি হস্তান্তর যোগ্য নয়।তাই ওই ফ্ল্যাটের বাসিন্দার মৃত্যুর কারণে জেলা শাসকের নির্দেশে আই-৮নাম্বার ফ্ল্যাটটি খালি করে সিল করে দেওয়া হয়েছে।