করোনা টেস্ট করাতে গিয়ে ধুন্ধুমার কাণ্ড রায়গঞ্জ হাসপাতালে

68

রায়গঞ্জ: করোনা টেস্ট করাতে গিয়ে ধুন্ধুমার কাণ্ডের মুখে পড়ল কয়েকশ মানুষ। সোমবার কয়েকশ মানুষ করোনা উপসর্গ থাকায় করোনা পরীক্ষা করাতে যান রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ক্যাম্পাসে অবস্থিত ফিভার ক্লিনিক ওয়ার্ডে। তাঁরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পরীক্ষা না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর রীতিমতো ভাঙচুর চালানো শুরু করে ওই ফিভার ক্লিনিকের গার্ডওয়ালে। সেই গার্ডওয়াল ভেঙে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে স্বাস্থ্যকর্মীদের দিকে। এই ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই রায়গঞ্জ থানার বিশাল পুলিশবাহিনী কমব্যাট ফোর্স ঘটনাস্থলে হাজির হন। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারি অধ্যক্ষ প্রিয়ঙ্কর রায় বলেন, ‘এদিন ফিভার ক্লিনিকে বহু মানুষ করোনা পরীক্ষার জন্য এসেছিলেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আইন ভেঙে গোলমাল পাকানোর চেষ্টা করে। এরপর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’

রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন প্রচুর মানুষ। লাইন এতটাই দীর্ঘায়িত হয় যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকেই বিরক্ত হয়ে ওঠেন। আবার অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। অভিযোগ, সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থেকেও কারও পরীক্ষা হচ্ছে না। অথচ যারা পরে আসছেন হাসপাতাল কর্মীর পরিচিতদের পেছনের দরজা দিয়ে ঢুকিয়ে দ্রুত পরীক্ষা করিয়ে তাঁরা বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। এই বৈষম্যের জন্য অনেকেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই গোলমাল বেঁধে যায়।

- Advertisement -

চিকিৎসা ব্যবস্থাকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা না করায় এরকম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে অনেকের অভিযোগ। এই হয়রানির ফলে অনেকেই যাতে হাসপাতালে না আসে এবং বেসরকারি হাসপাতালে যেতে বাধ্য করানো হচ্ছে বলে অনেকের অভিযোগ এর পেছনে একটা চক্র কাজ করছে। ফলে স্বাস্থ্যকর্মীদের একটা স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তার থেকেও ভয়ঙ্কর বিষয় যেখানে করোনা সংক্রমণ একজন থেকে আরেকজন ছড়াতে পারে সেখানে সবাই ডিসটেন্স না মেনে সর্দি-জ্বর সহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে যারা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন তাদের স্বাস্থ্যবিধি এদিন শুরু থেকেই মানা হয়নি এবং সেরকম কোনও ব্যবস্থাও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে করা হয়নি। ফলে যারা হয়ত সংক্রামিত হননি, সন্দেহজনক ভাবে পরীক্ষা করাতে এসেছেন তাঁরাও এই ভিড়ের চাপে নতুন করে সংক্রামিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।