বদ্ধ কালভার্টের মুখ খোলা নিয়ে উত্তেজনা

582

মালদা: বদ্ধ কালভার্টের মুখ খোলা নিয়ে শনিবার ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল ইংরেজবাজারের যদুপুরে৷ বর্ষার জলে হাজারো মানুষের জলবন্দি দশা ঘুচাতে এদিন দু’বছর পর বন্ধ কালভার্টের মুখ খুলতে যায় ইংরেজবাজার ব্লক প্রশাসন। পুলিশের সহযোগিতায় মেশিন চালিয়ে বদ্ধ কালভার্টের মুখ খুলে দেওয়া হলেও আধঘণ্টা পরেই সেই মুখ ফের বন্ধ করে দেন প্রাক্তন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দুনারায়ন চৌধুরি৷ ফলে এখনও জলবন্দি হয়েই থাকতে হবে কালভার্টের একধারে থাকা তিনটি গ্রামের প্রায় এক হাজার পরিবারকে৷

যদুপুর গ্রামে দীর্ঘদিন আগেই তৈরি করা হয়েছিল কালভার্টটি৷ কালভার্টের একদিকে রয়েছে যদুপুর, কেচুহায়ি ও মডেল কলোনি গ্রাম, অন্যদিকে রয়েছে জহরপুর, খাসপাড়া গ্রাম৷ এই দুই পাড়ের গ্রামের মাঝে রয়েছে একটি কালভার্ট। দীর্ঘদিন এই কালভার্ট দিয়েই মডেল কলোনি এলাকার জল বেরোত। বছর দুয়েক আগে এই কালভার্টের মুখ বন্ধ করে দেয় জহরপুরের এক আমবাগানের মালিক।

- Advertisement -

তিনি দাবি করেন, রাস্তার ওপারের জল তাঁর ব্যক্তিগত জমিতে ফেলা হচ্ছে। আর এই জল তাঁর আমবাগানকে নষ্ট করছে। জল বেরোনোর ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মডেল কলোনি সহ আরও ৩টি গ্রামের হাজারো মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন। প্রতি বর্ষায় এই তিনটি গ্রামের মানুষজনের সমস্যার সীমা থাকে না৷ এবারও বর্ষার শুরু থেকে তিনটি গ্রামই জলবন্দি৷ জল জমে রয়েছে এলাকার বিপুল পরিমাণ কৃষিজমিতে৷ দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা জল এখন পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে৷

কালভার্টটির মুখ খুলে দেওয়ার জন্য একাধিকবার প্রশাসনের কাছে আর্জি জানিয়েছেন স্থানীয় মানুষজন৷ শেষ পর্যন্ত শনিবার জেলা পরিষদের সদস্য প্রতিভা সিং ও ইংরেজবাজারের বিডিও সৌগত চৌধুরির উপস্থিতিতে কালভার্টটির মুখ খুলে দেওয়া হয়৷ কালভার্ট দিয়ে বেরিয়ে যেতে শুরু করে বদ্ধ জল৷ কিছুক্ষণ পরেই সেখান থেকে চলে যান প্রশাসনিক কর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা৷

প্রায় আধঘণ্টা পরেই সেখানে উপস্থিত হন প্রাক্তন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরি৷ তিনি ফোন করে জেলাশাসককে বলেন, কালভার্টের অন্যদিকে তাঁর একটি আমবাগান রয়েছে৷ কয়েক কোটি টাকা দাম৷ আজ কালভার্টের মুখ কাটার খবর পেয়ে তিনি বিডিও ও ইংরেজবাজার থানার অফিসার অনুপ সিংকে সেই কাজ করতে বারণ করেন৷ কিন্তু তাঁর কথা শোনা হয়নি৷ এখন এই পচা জল তাঁর বাগানের উপর দিয়ে বইছে৷ এতে বাগানের সব গাছ নষ্ট হয়ে যাবে৷

এরপরেই তিনি ফের ওই কালভার্টের মুখ বন্ধ করে দেন৷ পরে তিনি বলেন, কালভার্টের একপাশে এলাকার কিছু দালাল প্রোমোটিং করে বসতি বসিয়েছে৷ এর সঙ্গে জেলা পরিষদের মেম্বার জড়িয়ে রয়েছে৷ অন্যদিকে আমাদের আমবাগান ও জমি রয়েছে৷ আজ তারা এই কালভার্টের মুখ কেটে দেয়৷ আমি সব ঘটনা জেলা প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের জানিয়েছি৷ রাতের মধ্যে আমি আরও অনেক জায়গায় বিষয়টি জানাব৷

প্রাক্তন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দুনারায়ন চৌধুরির তোলা অভিযোগ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে জেলাপরিষদের কর্মাধ্যক্ষ প্রতিভা সিংহ বলেন, প্রাক্তন মন্ত্রী সরকারি কাজে বাধা দিচ্ছেন। আমরা জনপ্রতিনিধি, মানুষের সমস্যা শুনে সমাধানের জন্য এসেছিলাম। এই কালভার্টের মুখ বন্ধ থাকার ফলে হাজারো পরিবার প্রায় ৭ মাস ধরে জলের মধ্যে বসবাস করছেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা এলাকার জলনিকাশি ব্যবস্থার স্থায়ী সমাধানের জন্য এলাকায় ড্রেনেজ সিস্টেম গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছি। এই কাজের জন্য দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। কিন্তু জল বের না করলে সেই কাজ শুরু করা যাবে না। তাই কালভার্টের মুখ সাময়িক ভাবে খোলা হয়েছিল। ড্রেন তৈরি হয়ে গেলে কালভার্টের প্রয়োজন ফুরাবে। প্রাক্তন মন্ত্রী মানুষের উন্নয়নকে থামানোর চেষ্টা করছেন। গোটা বিষয়টি রাজ্য নেতৃত্বদের জানাব।