উচ্চমাধ্যমিকের ছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য, উদ্ধার সুইসাইড নোট

209

মেখলিগঞ্জ: উচ্চমাধ্যমিকের ছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। ঘটনাটি ঘটেছে মেখলিগঞ্জের কুচলিবাড়িতে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার নাম প্রিয়াঙ্কা রায়(১৮)। বুধবার মধ্যরাতে শোবার ঘর থেকে ওই ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। কুচলিবাড়ি থানার পুলিশ বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাথাভাঙা পাঠিয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ওই ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে দাবি পুলিশের। তবে ওই ছাত্রী সুইসাইড নোটে আত্মহত্যার জন্য কাউকে দায়ী না করার কথা বলেছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

মৃতার মা রেখা রায় বলেন, ‘গতকাল রাতে খাওয়া দাওয়া করে একই ঘরে মেয়ের সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়ি। মাঝরাতে দেখি মেয়ে নেই। তারপর খোঁজাখুঁজি করে দেখতে পাই অন্য একটি ঘরের দরজা বন্ধ। ডাকাডাকি করে সাড়া না পাওয়ায় বেঁড়া কেটে সেখানে ঢোকে স্বামী ও ভাইপোরা। সেই ঘরে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় মেয়ের। কী কারণে মেয়ে এমন করল আমরা বুঝতে পারছি না।’ পরিবার মেয়ের আত্মহত্যার কোনও কারণ জানতে না পারলেও সুইসাইড নোট ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা। সুইসাইড নোটে তেমন কিছু না থাকলেও ওই খাতায় বেশ কিছুদিন ধরে নিজের সমস্যা ও ইচ্ছার কথা লিখেছেন। যা খুবই ইঙ্গিতবহ। কখনও মা কালী ঠাকুরের নামে সম্মোধন করে লিখেছেন বাড়িতে পূজা আছে আমার ভালোবাসার মানুষ আসবে তো? আবার কখনও লিখেছেন আমার ভাগ্য এতটা খারাপ কেন। আমার কী কোনও ইচ্ছা নেই। আবার লিখেছেন আমি বাঁচবো না। আমার মা কে ভালো রেখো মা কালী।

- Advertisement -

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা বাতিল তারপরও বেশ কয়েকদিন ধরে খাতা কলম নিয়ে লেখালেখি করত বলে জানান মৃতার দাদা কালিপদ রায়। তিনি বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারিনি এভাবে মনের যন্ত্রণা পুঁষে রেখেছিলেন এবং সেই যন্ত্রণা আমাদের না জানিয়ে খাতায় লিখে রাখতেন।’ পরীক্ষা বাতিলের পরও কী লিখছে তা নিয়ে কৌতূহল থাকলেও খাতা দেখা হয়নি বলে আফসোস করছেন কালিপদ। তিনি আরও বলেন, ‘যদি আগে দেখতাম একবার খাতা টা। তাহলে সমস্যার কথা বোনের কাছে শুনে তা সমাধান করা যেত।’ কুচলিবাড়ি থানার এক আধিকারিক, মৃতার মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তদন্ত চলছে।