ডবল ইঞ্জিনই উন্নয়নের চাবি, বালুরঘাটে অকপট অশোক 

99

নাম ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বালুরঘাট কেন্দ্রে পা রেখেছেন বিজেপি প্রার্থী অশোক লাহিড়ি। তাঁর সঙ্গে উত্তরবঙ্গ সংবাদের প্রতিনিধি সুবীর মহন্তের দীর্ঘ আলাপচারিতায় উঠে এসেছে একাধিক প্রসঙ্গ। ডবল ইঞ্জিন সরকার থেকে শুরু করে বহিরাগত প্রসঙ্গ, বিজেপি জিতলে অর্থমন্ত্রী হওয়া নিয়ে গুঞ্জন, নানা বিষয়ে খোলামেলা কথা বললেন সদ্য রাজনীতির আঙিনায় পা রাখা এই অর্থনীতিবিদ।

 ডবল ইঞ্জিন সরকার হলে কী হবে…
রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার একটা যৌথ পরিবারের মতো। অথচ ১৯৭৭ সালে রাজ্যে বামফ্রন্ট সরকার আসার পর থেকেই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বিমাতৃসুলভ আচরণের অভিযোগ তোলা শুরু হয়েছিল। আজও তা চলছে। যা-ই গণ্ডগোল হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে, সব নাকি কেন্দ্রের বিমাতসুলভ আচরণের জন্য। অথচ কেন্দ্রীয় সরকার তো আমাদেরই সরকার। আমাদের দেশের সরকার। এটা তো কোনও বিদেশি শক্তি নয়। এরাজ্যের এক কোটি ৮০ লক্ষ বাঙালি গোটা দেশজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছেন। অথচ এখানে বহিরাগত বলে প্রচার চলছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প রাজ্যে চালু হতে দেওয়া হচ্ছে না। যেমন, আয়ুষ্মান ভারত। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প চালু করতে কীসের অভিমান, সেটাই তো বুঝি না। এ তো নিজের নাক কেটে পরের যাত্রাভঙ্গ। ডবল ইঞ্জিন মানে হচ্ছে মিলেমিশে কাজ করা। এইভাবেই উন্নয়ন সম্ভব। কেন্দ্র বলে তো আলাদা কিছু নেই। কেন্দ্র মানে সারা ভারতবর্ষ।

- Advertisement -

বিজেপি প্রার্থীর বাড়ি কোথায়, এনিয়ে তীব্র কৌতূহল মানুষের…
আমার জন্ম কলকাতার ষষ্ঠীতলায়। বড় হয়েছি উত্তর কলকাতার পাইকপাড়া এলাকায়। প্রথমে রামকৃষ্ণ মিশনে পড়াশোনা করেছি, পরে প্রেসিডেন্সি কলেজে। এরপর দিল্লি থেকে অর্থনীতি নিয়ে পড়েছি। মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে। চাকরি সূত্রে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেরিয়েছি।

রাজনীতিতে কেন …
এই বাংলায় আমার জন্ম হলেও কর্ম বাইরে। বাংলা আমায় অনেক দিয়েছে। কিন্তু আমি তাকে কিছুই ফিরিয়ে দিতে পারিনি। আজ যখন দেশের বৃহত্তম দল আমায় সুযোগ দিল, তখন আমার তরফে বাংলাকে কিছু ফিরিয়ে দেওয়ার তাগিদেই রাজনীতির আঙিনায় পা রাখা।

বহিরাগত প্রসঙ্গেও তো অনেক প্রশ্ন…
অবিভক্ত দিনাজপুরের রায়গঞ্জে আমার মামার বাড়ি। তাই এটা অনেকাংশে আমার কাছে মামাবাড়ির আবদারের মতো। বালুরঘাটকেও আমি জানি। তবে বহিরাগত আর খেলা হবে, এই দুই স্লোগানে আমার আপত্তি রয়েছে। খেলা কেন হবে? রাজনীতি সিরিয়াস বিষয়। কীসের বহিরাগত? আমি তো বাংলারই ছেলে। শুধু কর্মসূত্রে বাইরে থাকি। আমি বহিরাগত নই।

জিতলে বালুরঘাট আপনাকে পাবে?
বালুরঘাটের মানুষ যদি আমাকে মেনে নেন তাহলে তো কোনও সমস্যা নেই। বছরের কিছু সপ্তাহ এখানেই থাকব। আর বালুরঘাটের মানুষ যদি আমাকে প্রত্যাখ্যান করেন, তাহলেও মাঝেমধ্যে বালুরঘাটে আসব।

 বালুরঘাটের জন্য কী করার কথা ভাবছেন…
বালুরঘাট নিয়ে বেশ কিছু অভাব অভিযোগ শুনেছি। যেমন, স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য একটি মেডিকেল কলেজ প্রয়োজন। বিশেষ করে একটি প্যারামেডিকেল কলেজ। দেশে নার্সের খুব অভাব রয়েছে। যেহেতু আমার মামার বাড়ি এই দিনাজপুরেই, তাই আমি স্থানীয় মেয়েদের সেবা শুশ্রূষায় দক্ষতার বিষয়টি জানি। তাই জাতীয়স্তরের প্যারামেডিকেল কলেজ ও মেডিকেল কলেজ গড়ার ওপর জোর দেব। এছাড়া বালুরঘাটের পাশেই রয়েছে বাংলাদেশ সীমান্ত। সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি এই সীমান্তকে ব্যবহার করে মেঘালয়ে যাতায়াতের জন্য হিলি-তুরা করিডর করারও চেষ্টা করব। এখানে শিল্প গড়ার উদ্যোগ অবশ্যই নেব। এমনিতে উদ্যোগপতিরা এখানে আসবেন না। শিল্পের জন্য যথেষ্ট পরিকাঠামো রয়েছে কিনা, দক্ষ শ্রমিক রয়েছে কিনা, সেই বিষয়গুলি দেখতে হবে। জাপানে কোনও কাঁচামাল পাওয়া যায় না। তবুও শিল্পায়নে ওরা বিশ্বে এগিয়ে বালুরঘাটেও শিল্প না হওয়ার কোনও কারণ দেখছি না।

আপনি জিতলে এবং রাজ্যে বিজেপি সরকার হলে আপনিই হবেন অর্থমন্ত্রী। রাজ্য জুড়ে এমনই গুঞ্জন চলছে। আপনি কি বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতত্বের তরফে এমন কথা শুনেছেন…
আমাকে শুধু বলা হয়েছে ভোটে দাঁড়াতে হবে। কাজ করতে হবে। আমাকে কোনও পদ দেওয়া হবে কি হবে না, তা নিয়ে কেউ কিছু বলেনি।

দেশজুড়ে অর্থনীতি ও বেকারত্ব প্রশ্নের মুখে। অথচ বিজেপি সংকল্পপত্রে বলেছে, পশ্চিমবঙ্গের কর্মসংস্থান হবে। কীভাবে সম্ভব? বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিই তো সেটা করতে পারছে না…
সম্ভব। কারণ, দেশের সব রাজ্যের র‌্যাংকিং সমান নয়। কর্মসংস্থান সহ অন্য বিষয়ে তৃণমূল সরকারের দিশাহীনতায় পশ্চিমবঙ্গ দেশের বাকি রাজ্যগুলির তুলনায় অনেক পিছিয়ে গিয়েছে। আমরা রয়েছি ১৯ নম্বরে। আমাদের কাজ হল সঠিকভাবে সঠিক দিশার মাধ্যমে, বিনিয়োগের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গকে দেশের প্রথম সারিতে তুলে আনা।