স্বাধীন ভারতে প্রথম মহিলার ফাঁসির প্রস্তুতি মথুরায়

168

মথুরা: স্বাধীন ভারতে ইতিহাস গড়তে চলেছে উত্তরপ্রদেশ। দেশে এই প্রথম কোনও মহিলাকে ফাঁসি দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে উত্তরপ্রদেশের মথুরায়। আমরোহা জেলার শবনম হল সেই মহিলা যার ফাঁসি নজির গড়তে চলেছে দেশে৷ ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশের মথুরার ফাঁসির জায়গাটি পরিদর্শন করেছেন পবন জল্লাদ৷ যিনি নির্ভয়াকাণ্ডে দোষীদের ফাঁসি দিয়েছিলেন।

জানা গিয়েছে, ২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিলে আমরোহার বাসিন্দা শবনম তার প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে কুঠুরি দিয়ে একই পরিবারের ৭ সদস্যকে নির্মমভাবে খুন করে। উত্তরপ্রদেশের আমরোহা জেলার হাসানপুর এলাকার বাওয়ানখেদি গ্রামের শিক্ষক শওকত আলির একমাত্র মেয়ে হল শবনম৷ ১৪ এপ্রিল, ২০০৮ সালের রাতে প্রেমিক সেলিমের সঙ্গে পরিবারের সবাইকে কুপিয়ে খুন করে সে৷ এক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট শবনমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে। প্রাণভিক্ষার আর্জি প্রত্যাখ্যান করেন রাষ্ট্রপতিও৷ সুতরাং স্বাধীনতার পরে শবনম হল প্রথম মহিলা বন্দি যাকে ফাঁসি দেওয়া হতে চলেছে।

- Advertisement -

প্রসঙ্গত, শবমন শিক্ষিকা হিসেবে কাজ করতেন৷ এরপরই ওই গ্রামের ছেলে সেলিমের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পরে সে৷ কিন্তু তাদের এই প্রেম মানতে চায়নি। এরপরই শবনম ও সেলিম সিদ্ধান্ত নেয় সকলে খুন করার৷ সেইমতো নিজের পরিবারের সদস্যদের কুপিয়ে খুন করে শবনম৷ সকাল হতে গ্রামে রটিয়ে দেয় যে দুষ্কৃতীরা খুন করেছে৷ তবে ধীরে ধীরে তার ওপর সন্দেহ যায় এবং তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ৷ গ্রেপ্তার করা হয় সেলিমকেও৷ জেরায় ঘটনা স্বীকার করে দু’জনে৷ সুপ্রিমকোর্টেও ফাঁসির সাজা বহাল রাখে শবনমের৷ প্রাণভিক্ষার আর্জি খারিজ করেছেন রাষ্ট্রপতি৷ ফলে পরিবারের সবাইকে খুন করে ফাঁসিতেই ঝুলতে চলেছে শবনম৷

উল্লেখ্য, মথুরা জেলে ১৫০ বছর আগে মহিলাদের ফাঁসির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হলেও, তাতে কোনও দিন ফাঁসি হয়নি৷ জেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিক শৈলেন্দ্র কুমার বলেন, ‘এখনও ফাঁসির তারিখ নির্ধারিত হয়নি, তবে আমরা প্রস্তুতি শুরু করেছি। মৃত্যুর পরোয়ানা জারি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শবনমকে ফাঁসি দেওয়া হবে।’