আধিকারিককে নোংরা জলে হাঁটালেন আবাসিকরা

679

রায়গঞ্জ, ১ অক্টোবরঃ টানা দশদিন ধরে আটকে রয়েছে বৃষ্টির জমা জল। নোংরা জলের দুর্গন্ধে এলাকায় থাকাই দায় হয়ে পড়েছে। এর ওপর মশা এবং সাপ সহ নানান বিষাক্ত পোকামাকড়ের দংশনের আশঙ্কায় দিন কাটছে বাসিন্দাদের। এমনই দুরঅবস্থার মধ্যে দিন কাটছে রায়গঞ্জের কর্নজোড়ায় সরকারি আবাসনের আবাসিকদের। এরই প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সরকারি আবাসনে বসবাসকারী সরকারী কর্মচারী ও তাঁদের পরিবার পরিজনেরা আবাসনের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারকে ওই জমা জলে নিয়ে গিয়ে হাঁটালেন। কার্যত আবাসনের মহিলারা ওই আধিকারিকের দপ্তরে চড়াও হয়ে তাঁকে জলে নামিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বাধ্য করেন।এরপর তালাবন্ধ করে দেওয়া হয় দপ্তর।আবাসিকদের আন্দোলনের চাপে পড়ে শেষ পর্যন্ত আধিকারিক মিহির সরকার আশ্বাস দেন খুব শীঘ্রই বিকল্প ব্যবস্থা করে আবাসন এলাকা থেকে জল বের করা হবে। আর্থ মুভার দিয়ে ড্রেন কাটার উদ্যোগ নিয়েছে আবাসন দপ্তর।

উত্তর দিনাজপুর জেলা সদর রায়গঞ্জ কর্নজোড়ায় রয়েছে জেলা প্রশাসনিক কার্যালয় এবং সরকারি আবাসন। প্রায় পাঁচ হাজার আবাসিক থাকেন সরকারি আবাসনগুলিতে। দশ দিনের বেশি হল আবাসনের বিভিন্ন এলাকা জলের তলায় রয়েছে। টানা প্রবল বর্ষণের জেরে ওই এলাকা জলে প্লাবিত হয়ে গিয়েছে। উন্নত নিকাশির ব্যাবস্থা না থাকায় জমা জল বের হচ্ছে না। ফলে, প্রায় দশদিন ধরে বৃষ্টির জল আটকে রয়েছেন বাসিন্দারা। ছবি দাস নামে এক আবাসিক জানান, প্রতিদিন জল ভেঙে বাজারঘাট করতে যেতে হচ্ছে। অফিস যেতে কর্মচারীদেরও সমস্যা হচ্ছে।আবাসনের শিশুরাও বিপদে পড়েছে। এই জমা জল নিকাশির জন্য বহুবার জেলা প্রশাসনের কাছে দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা। এমনকি কর্নজোড়ায় রায়গঞ্জ-বালুরঘাট রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভও দেখিয়েছেন। কিন্তু তাতেও সমাধান হয়নি।কুম কুম রায় নামে আরেক আবাসিক জানান, সমস্যার কথা জেনেও প্রশাসন নিশ্চুপ। এইভাবে আর কয়েকদিন থাকলে মহামারি আকার নেবে এলাকায়। অবিলম্বে প্রতিকার চাই।

- Advertisement -

এদিন আবাসনের মহিলা আবাসিকরা দলবদ্ধভাবে আবাসন দপ্তরের দায়িত্বে থাকা এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারের অফিসে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান। এরপর অফিস তালাবন্ধ করে দেন। বাসিন্দারা এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার মিহির সরকারকে জমা জলে পায়ে হাঁটিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বাধ্য করেন। আবাসিকরা যে ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে আছে তা তুলে ধরেন। এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার মিহির সরকার এরপরই আবাসন দপ্তর থেকে দ্রুত জল নিকাশির জন্য বিকল্প ড্রেন খোঁড়ার উদ্যোগ নেন। তিনি জানান, আবাসন চত্বরে বেশ কিছুদিন ধরেই বৃষ্টির জল জমে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যেই, বিকল্প ড্রেন কেটে সেই জল বের করার কাজ শুরু করা হয়েছে।