দেদারে বিক্রি নিষিদ্ধ চিনা জালের, বিপন্ন নদীয়ালি মাছের অস্তিত্ব

282

মণীন্দ্রনারায়ণ সিংহ, আলিপুরদুয়ার : ফাঁসজালে সংকটে পড়ছে নদীয়ালি ও খালবিলের মাছের অস্তিত্ব। সরকারিভাবে ওই জাল বিক্রি নিষিদ্ধ হলেও প্রায় সর্বত্র দেদারে বিক্রি হচ্ছে। চিন ও কোরিয়ায় তৈরি বিশেষ ধরনের ওই জাল স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে কারেন্ট জাল নামেও পরিচিত। ওই জাল জলে ফেললে ধারেকাছে থাকা সমস্ত মাছ জালে আটকাবেই বলে জালটির কদর বাসিন্দাদের কাছে খুব বেশি।

বর্ষার শুরুতেই নদী, খালবিলে ওই জালের ব্যবহার অবাধে শুরু হওয়ায় উদ্বিগ্ন পরিবেশপ্রেমীরা। তাঁরা ওই জালের ব্যবহার ও বিক্রি বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। মৎস্য দপ্তরের আলিপুরদুয়ার জেলার সহ অধিকর্তা সোনম ছোওয়াং বলেন, বেআইনি ফাঁসজাল ব্যবহার বন্ধ করতে মৎস্যজীবীদের মধ্যে অনেকবার সচেতনতামূলক প্রচার করা হয়েছে। মৎস্যজীবীরা এধরনের জাল ব্যবহার করেন না। ওই জাল ব্যবহার বেআইনি। শীঘ্রই বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।

- Advertisement -

সপ্তাহ দুয়েক ধরে আলিপুরদুয়ারের বাজারে চিন ও কোরিয়ার তৈরি এই জালের ঢালাও বিক্রি শুরু হয়েছে। বড়বাজার ছাড়াও শহরের কালজানি সেতু সংলগ্ন এলাকায়, বিএফ রোডের বিভিন্ন দোকানে সাজিয়ে রাখা থাকে নিষিদ্ধ এই জাল। বর্ষায় মাছ ধরতে অতি উৎসাহী কিছু মানুষ এই জাল কিনে নিয়ে গিয়ে নদী, খাল, বিলে মাছ ধরছেন। আলিপুরদুয়ারে কালজানি সেতু সংলগ্ন এক জালের কারবারি বলেন, চিন-কোরিয়া থেকে এই জাল এখানে আসে। বৃষ্টি হলে ওই জালের চাহিদা বাড়ে।

মাছের বংশবিস্তারের এই মরশুমে এভাবে মাছ ধরা হলে আগামীদিনে স্থানীয় প্রজাতির ও বিভিন্ন নদীয়ালি মাছ পুরোপুরি হারিয়ে যাবে বলে পরিবেশকর্মীদের আশঙ্কা। আলিপুরদুয়ারের ছোট-বড় বহু পাহাড়ি নদীতে অতীতে প্রচুর মাছ পাওয়া গেলেও এখন বহু মাছ প্রায় বিলুপ্ত। আলিপুরদুয়ারের পরিবেশপ্রেমী অমল দত্ত বলেন, নদীয়ালি মাছ রক্ষা করতে চিনের তৈরি ওই জালের ব্যবহার অবিলম্বে নিষিদ্ধ করতে হবে। এমনিতেই দূষণের জেরে নদীতে মাছের বংশবিস্তারের সুস্থ পরিবেশ নেই। এরপর জাল বিছিয়ে নদীর সব মাছ তুলে নেওয়া হলে এর ফল মোটেই ভালো হবে না।

আলিপুরদুয়ারের মৎস্যজীবী গোবিন্দ বর্মন বলেন, কালজানি নদীতে দূষণের ফলে মাছের পরিমাণ কমে গিয়েছে। গরম, পারো নদীতে ইলেক্ট্রিক শক দিয়ে মাছ ধরার প্রবণতা রয়েছে। এতে ভয়ংকর ক্ষতি হচ্ছে। ওই জাল নদীতে পাতা থাকলে চুনোপুঁটিও ধরা পড়তে বাধ্য। স্থানীয়ভাবে হাতে তৈরি সুতোর জালে মাছ ধরা হলে নদীয়ালি ও খালবিলের মাছের উপর ততটা প্রভাব পড়ে না।