তলবি সভায় বহিষ্কৃত পুরপ্রধান

392

মুর্শিদাবাদ, ২৫ জুলাইঃ দীর্ঘ প্রায় এক মাস ধরে মুর্শিদাবাদের ডোমকল পুরসভার পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এবং কাউন্সিলারদের তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থার অবসান হল। বৃহস্পতিবার পুরসভার ১৮ জন কাউন্সিলার মিলে তৃণমূল পরিচালিত ডোমকল পুরসভার বিরুদ্ধে তলবি সভা ডেকে পুরপ্রধান সৌমিক হোসেনকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নিলেন। যদিও কাউন্সিলারদের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হতে চলেছেন ডোমকল পুরসভার সদ্য বহিষ্কৃত পুরপ্রধান সৌমিক হোসেন।

২০১৭ সালে পুরসভার সাধারণ নির্বাচনের পর ডোমকল পুরসভার ২১ জন কাউন্সিলারের মধ্যে ১৮ জন সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তৃণমূলের প্রতীকে জয়লাভ করেছিলেন। এরপরই বিরোধী আসনে থাকা তিনজন কাউন্সিলার তৃণমূলে যোগদান করে। যে কারণে সেই পুরসভা বিরোধী শূন্য হয়ে যায়। জানা গিয়েছে, কয়েকবছর ঠিকমতো চললেও কয়েকমাস যাবৎ সৌমিক হোসেনের বাকী কাউন্সিলারদের সঙ্গে মতবিরোধ তৈরি হয়। এমনকি কাটমানি নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরদ্ধে। এই বিষয়ে ডোমকল পুরসভার উপ পুরপ্রধান প্রদীপ চাকির অভিযোগ, ‘চলতি মাসের প্রথম দিকে পুরসভার ১৩ জন কাউন্সিলার তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা আনেন। পরে আরও তিনজন কাউন্সিলার তাতে যোগদান করেন। আমরা একাধিকবার তাঁকে সাধারণ সভা ডেকে নিজের প্রতি আস্থা প্রমাণের কথা বলেছিলাম। কিন্তু তিনি সাধারণ সভা ডাকতে রাজি ছিলেন না। এমনকি রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কলকাতায় সমস্ত কাউন্সিলারদের ডেকে একটি সভাতে সবার মতামত নিয়েছিলেন। সেখানে সৌমিকবাবু পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু তারপরও তিনি কোনো সাধারণ সভা ডাকেননি বা কাউন্সিলারদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। এই কারণই আমরা তলবি সভা ডেকে পুরপ্রধানকে তাঁর পদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী দিনে সমস্ত কাউন্সিলারের মতামতের ভিত্তিতে নতুন পুরপ্রধান ঠিক করা হবে।’ ডোমকল পুরসভার বহিষ্কৃত পুরপ্রধান সৌমিক হোসেন বলেন, ‘আমাকে এই বিষয়ে পুরসভা থেকে কোনো চিঠি বা ফোন করে কিছু জানানো হয়নি। যদিও দলের পক্ষ থেকে এখনও কোনো নেতৃত্ব আমাকে পদ ছাড়ার নির্দেশ দেননি। দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টি দেখবেন বলে জানান। যদি কোনোভাবে আমাকে পুরসভায় যেতে অথবা কাজ করতে বারণ করেন তবে আমি কাজ করব না। এই সভার কোনো গুরুত্ব নেই।’ এই বিষয়ে তৃণমূলের মুর্শিদাবাদ জেলার মুখপাত্র অশোক দাস জানান, ‘ডোমকল পুরসভার কাউন্সিলাররা সৌমিক হোসেনের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে এসেছে। পুরসভার কাউন্সিলারদের সিদ্ধান্তের বাইরে কোনো সিদ্ধান্তই কার্যকরী নয়। দল এখনও এই বিষয়ে কিছু জানায়নি।’

- Advertisement -