খোলামুখ খনিতে বিস্ফোরণ, বাড়িতে ফাটলের জেরে আতঙ্ক

120

আসানসোল: ইসিএলের খোলামুখ খনিতে বিস্ফোরণের ফলে বাড়িতে ধরছে ফাটল। বিস্ফোরণের কারণে বড় বড় পাথর ছিটকে পড়ছে অ্যাডভেস্টারের ছাদের উপর, বাড়ির বারান্দা ও উঠোনে। এই কারণে প্রতিমুহূর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় রয়েছেন আসানসোলের জামুড়িয়ার তপসি গ্রামের বাসিন্দারা। ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার ইসিএলের কুনুস্তোরিয়া এরিয়ার নর্থ সিয়ারসোল কোলিয়ারি এজেন্ট সহ আধিকারিকদের অফিস ঘরে তালা মেরে ও উৎপাদন বন্ধ করে বিক্ষোভ দেখালেন গ্রামবাসীরা। পরে আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান সূত্র বেরোবে এই আশ্বাস পাওয়ায় সাময়িক বিক্ষোভ তুলে নেন তাঁরা।

তপসি গ্রামের বাসিন্দা শ্যামলী মণ্ডল বলেন, ‘গত দু’বছর ধরে নর্থ সিয়ারসোল খোলামুখ খনির বিস্ফোরণের জেরে গ্রামের বহু বাড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছে। বিস্ফোরণের সময় প্রচুর পাথরের টুকরো গ্রামে ছিটকে এসে পড়ায় ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এদিন প্রায় দুই কিলো ওজনের পাথরের টুকরো মণ্ডল বাড়ির উঠানে এসে পড়ে। অল্পের জন্য রক্ষা পায় বাড়ির লোকজনেরা। প্রায় দিন অল্পবিস্তর এই পাথর বৃষ্টি হয়। কম বেশি আহত হন গ্রামবাসীরা।’

- Advertisement -

আরও এক বাসিন্দা বনানী গোপ বলেন, ‘পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে বিস্ফোরণের ফলে বাড়িঘর কেঁপে উঠছে। গ্রামের বাসিন্দা রাজু মুখোপাধ্যায়ের দাবি, ২০২১ সালের শুরুতে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল ইসিএল কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি, বিজ্ঞানসম্মতভাবে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এই খোলামুখ খনি থেকে কয়লা উত্তোলন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তারা। কিন্তু ইসিএল বা কোলিয়ারি কর্তৃপক্ষ কেউই সেই প্রতিশ্রুতি পালন করেনি। উপরন্তু বিস্ফোরণের মাত্রা দিনের পর দিন বাড়িয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফলে গ্রামের বহু ঘরবাড়িতে ফাটল দেখা দিচ্ছে নতুন করে। যে কোনও মুহূর্তে সেই ঘর বাড়ি ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। ঘণ্টাখানেক আধিকারিকদের তালাবন্দি করে রাখার পর সেই তালা অবশ্য খুলে দেন বিক্ষোভরত গ্রামবাসীরা।’ এবিষয় নিয়ে ইসিএলের কুনুস্তোড়িয়া এরিয়া কর্তৃপক্ষের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।