চ্যাংরাবান্ধা ২৪ জুলাই : সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশে রাস্তার অবস্থা এমনিতেই খারাপ। কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিতে সেই অবস্থা আরও বেহাল হয়েছে। তার প্রভাব পড়েছে ভারত-বাংলাদেশ বৈদেশিক বাণিজ্যেও। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে বাংলাদেশে ট্রাক পাঠাতে সাহস দেখাচ্ছেন না এপারের বিভিন্ন ভারতীয় ট্রাকমালিক। তাঁদের বক্তব্য, বাংলাদেশে পণ্য নিয়ে যাবার পর ১০০ ট্রাকের মধ্যে ৭০টি ট্রাকই খারাপ হচ্ছে। পণ্য নিয়ে গিয়ে ওপারের রাস্তার খানাখন্দে ট্রাক আটকে যাচ্ছে। বিকল হয়ে পড়ে থাকছে।

চ্যাংরাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে ভারত এবং ভুটান থেকে দৈনিক গড়ে ৫৫০ ট্রাক পণ্য নিয়ে বাংলাদেশে যায়। গত তিনদিনের ভারী বৃষ্টিতে  এপার থেকে ২৮১ ট্রাক পণ্য বাংলাদেশে গিয়েছে। এপারের ট্রাক মালিকদের একাংশ যেমন বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত তেমনই বাংলাদেশের ব্যাবসায়ীদের একটি অংশও রাস্তার পরিস্থিতি বুঝে তবেই ট্রাক পাঠাতে বলছেন। কবে ওই দেশের রাস্তার হাল ফিরবে সেটা এখনও স্পষ্ট নয় ভারতীয় ব্যবসায়ীদের কাছে। তাই বর্ষায় চ্যাংরাবান্ধা-বুড়িমারি সীমান্ত দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ এবং ভুটান-বাংলাদেশ বৈদেশিক বাণিজ্যে দারুণভাবে ব্যাঘাত ঘটার আশঙ্কা করছেন অনেকেই।

চ্যাংরাবান্ধা ট্রাক মালিক সমিতির সম্পাদক আব্দুল ছামাদ বলেন, ‘বুড়িমারি সীমান্তের রাস্তাঘাটের বর্তমানে খুব খারাপ অবস্থা। রাস্তার গর্তে এক কোমর অবধি জলও দাঁড়িয়ে যাচ্ছে বলে ট্রাক কর্মীদের কাছে শুনেছি। ওই দেশে পণ্য নিয়ে যাওয়ার পর অনেক ট্রাক চালক দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।’

করিমুল হক, বিমল থাপার মতো  ট্রাককর্মী জানিয়েছেন, এমনিতেই বুড়িমারি স্থলবন্দর এলাকার রাস্তার বেহাল অবস্থা। রাস্তার বড় বড় গর্তে বৃষ্টির জল জমে মরণফাঁদ তৈরি হয়েছে। ট্রাকের যন্ত্রাংশ বিকল হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকছে। কিন্তু যেহেতু এই এলাকার অধিকাংশ ট্রাকের ভাড়াই বাংলাদেশে পণ্য পরিবহণের উপর নির্ভরশীল তাই বাধ্য হয়েই ওপারে ট্রাক নিয়ে যেতে হচ্ছে অনেককে।

ছবি -বাংলাদেশের ভিতরে বুড়িমারি সিমান্তে রাস্তার বেহাল অবস্থা।- গৌতম সরকার