মাল উদ্যানে হড়পা বানে ব্যাপক ক্ষতি

397

মালবাজার: উদ্যান ও কানন (উত্তর) বিভাগ পরিচালিত মাল উদ্যানের মধ্য দিয়ে ঝোরা বয়ে গিয়েছে। শনিবার রাতে প্রবল বৃষ্টিতে ফুলে-ফেঁপে ওঠা ঝোরার জলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হল উদ্যানের। ঝোরার পাশে থাকা খরগোশদের রাতেই অন্যত্র নিরাপদস্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। রবিবার সকালে উদ্যান থেকে পলি সরানোর পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। প্রবল বৃষ্টির জেরে ঝোরার হড়পা বান নিয়ে উদ্বিগ্ন উদ্যান বিভাগ। তারা সেচ বিভাগকে বিষয়টি জানাচ্ছে।

উদ্যান ও কানন (উত্তর) বিভাগ পরিচালিত উদ্যান হল মাল উদ্যান। রাজা চা বাগানের পাশেই উদ্যানটি আছে। রাজা চা বাগান থেকে নেমে এসে একটি পাহাড়ি ঝোরাটি উদ্যানের মধ্য দিয়ে এঁকে বেঁকে প্রবাহিত। প্রবল বৃষ্টিতে উদ্যানে হড়পা বানের ঘটনা কয়েক দফায় ঘটেছে। উদ্যানের ইতিহাস বলছে, পূর্বে একসময় উদ্যানে ময়ূর, হরিণও রাখা হত। একবার হড়পা বানে হরিণ ভেসে গিয়েছিল।

- Advertisement -

প্রবীণ বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শনিবারের রাতের প্রবল বৃষ্টি পুরোনো সেই স্মৃতিকে উসকে দেয়। উদ্যানকর্মীরা জানান, রাতে প্রবল বৃষ্টিতে ঝোরার জল বাড়তে শুরু করে। রাত প্রায় এগারোটা নাগাদ ঝোড়া উপচে পড়ে। ঝোরার জল উদ্যানের উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে। ঝোরার পাশেই পাখি এবং খরগোশের থাকার জায়গা। সেগুলো জলে পরিপূর্ণ হয়ে যায়।

রাতেই খরগোশদের গিনিপিগের থাকার স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাই। ওই এলাকাটি নিরাপদ ছিল। এদিকে ঝোরার জল হু হু করে ঢুকে উদ্যানের বিভিন্ন এলাকাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। উদ্যানের নার্সারি কার্যত বিপর্যস্ত হয়েছে। উদ্যানজুড়ে যত্রতত্র বিপুল পরিমাণে পলি মাটির স্তর পড়েছে। ঝোরার উপরে অবস্থিত সেতুর অ্যাপ্রোচ রাস্তায় ভাঙন দেখা গিয়েছে।

রবিবার সকাল থেকেই উদ্যানকর্মীরা পরিস্থিতি সামাল দিতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করেন। বিভাগীয় আধিকারিক অঞ্জন গুহ বলেন, মাল উদ্যানের ঝোরাতে মাঝেমধ্যেই হড়পা বান হচ্ছে। আমরা মৌখিকভাবে সেচ বিভাগকে বিষয়টি দেখতে অনুরোধ করেছি। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এবার সেচ বিভাগে চিঠি লিখব। উদ্যানের সৌন্দর্য রক্ষা করেই ঝোরার হড়পা বান রোধে পরিকল্পনা করা দরকার।

সেচ বিভাগের মালের এসডিও কেশব রায় বলেন, উদ্যান ও কানন (উত্তর) বিভাগ থেকে চিঠি পেলে আমরা তা অবশ্যই খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ নেব।