ভূতনিতে ফের গঙ্গার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের বিস্তীর্ণ অংশ

149

মানিকচক, ১৮ অগাস্টঃ গঙ্গার ভাঙনে বুধবার দুপুরে নতুন করে তলিয়ে গেল ভুতনি কোশিঘাটের বাঁধ। গঙ্গা এবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করছে ভাঙন রক্ষাকারী দ্বিতীয় বাঁধে। ফলে, আশঙ্কায় ঘুম উড়েছে লক্ষাধিক ভুতনিবাসীর। মালদা সেচ দপ্তর দ্বিতীয় বাঁধ বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাহী বাস্তুকার প্রণব কুমার সামন্ত।

ভূতনিতে ফের নতুন করে ক্ষতিগ্রস্ত হল বাঁধের বিস্তীর্ণ অংশ। এদিন গঙ্গার তলদেশে ভাঙনের ফলে কোশিঘাটের কাছে বাঁধের বিস্তীর্ণ অঞ্চল তলিয়ে যায়। ফলে, গঙ্গা এবং সংরক্ষিত এলাকায় জলের স্তর সমান হয়ে গিয়েছে। এবার সরাসরি গঙ্গার ঢেউ আছড়ে পড়ছে দ্বিতীয় রক্ষাকারী বাঁধে। এই বাঁধের অবস্থাও খুব ভালো নয়। তাই, রাতের ঘুম উড়েছে ভুতনিবাসীর।তাঁরা আতঙ্কের প্রহর গুনছেন।

- Advertisement -

গত ১৩ অগাস্ট ভূতনিতে কেশরপুর কলোনির কাছে প্রথম বাঁধের বিস্তীর্ণ অংশও ভাঙনে তলিয়ে গিয়েছিল। সেদিন থেকেই জল ঢুকেছে ভুতনির সংরক্ষিত এলাকায়। যদিও, রক্ষাকারী দ্বিতীয় বাঁধে এখনও জল আটকে রয়েছে। সেখানে বাঁধের গায়ে প্রায় ৫ ফুট উঁচু জল। তাই, প্রবল জলের চাপে সেই বাঁধ যে কোনও সময় বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

হীরানন্দপুর এবং উত্তর চণ্ডীপুর অঞ্চলের একাংশে অবস্থিত এই বাঁধ গত ৩ দিন ধরে বিপন্ন হয়েছিল। গত ২ দিন আগে বিকেল থেকে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়। তাতে এই বাঁধের প্রায় ৩ ভাগ অংশই তলিয়ে যায়। সেদিন থেকেই কার্যত বাঁধ ভাঙার কাউন্টডাউন শুরু হয়ে যায়। মঙ্গলবার জলস্তর আরও বেড়ে যাওয়ায়, ভাঙনের তীব্রতা কম ছিল। যদিও, সেচ দপ্তরের নির্বাহী বাস্তুকার বলেন, উপর থেকে ভাঙন দেখা না গেলেও, তলদেশে ভাঙন চলছিলই। যার পরিণতিতে এদিন দুপুরের মধ্যে কোশিঘাটের কাছে বাঁধের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ মিটারের মত অংশ ধীরে ধীরে তলিয়ে যায়।

গত কয়েকদিনে বাঁধের ৩ ভাগ প্রায় তলিয়ে গিয়েছিল। বাকি যে অংশটুকু ছিল তাও, এদিন তলিয়ে যায়। জল এখন দ্বিতীয় বাঁধে আটকে আছে। এই বাঁধের কোথাও ৪ ফুট কোথাও ৫ ফুট জল। যদিও, বাঁধ অনেক উঁচু। ফলে আরও কয়েকদিন জল বাড়লেও, বন্যার আশঙ্কা নেই বলে মনে করছে সেচ দপ্তর। কর্তৃপক্ষ বালির বস্তা দিয়ে বাঁধ শক্তপোক্ত করার কাজ করে চলেছে। যেকোনও মূল্যে বন্যা রুখতে তৎপর সেচ দপ্তর।