আইসোলেশন ওয়ার্ডে রোগী মৃত্যু ঘিরে চরম উত্তেজনা,পরিস্থিতি সামাল দিল পুলিশ

466

আসানসোল: আসানসোল জেলা হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার দুপুরে হাসপাতালে চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আসানসোল উত্তর থানার রেলপারের চাঁদমারির শ্রীনগরের বাসিন্দা মৃত রোগীর নাম চন্দনা দে(৫২)। করোনা সন্দেহ ওই রোগীর মৃতদেহর ময়নাতদন্ত করাতে পরিবারের সদস্যরা অস্বীকার করেন। তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষর বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে হাসপাতালের এমারজেন্সি বিভাগের সামনে পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। পুলিশ বাড়ির লোকেদের স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশ ভালো করে বোঝায়। তাদের পুলিশের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রোটোকল মেনে যা করার করতে হবে। শেষ পর্যন্ত বিকাল সাড়ে তিনটের পরে বাড়ির লোকেরা ময়নাতদন্ত করতে রাজি হন। বিকাল চারটের পরে আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ ওই রোগীর মৃতদেহর ময়নাতদন্ত করে। আপাততঃ দেহ জেলা হাসপাতালের মর্গে রাখা থাকবে। রোগীর সোয়াব বা লালা নমুনা পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে। রিপোর্ট এলে তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে বাড়ির লোকেরা চন্দনা দে’কে অসুস্থ অবস্থায় আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। বেশকিছু উপসর্গ থাকায় তাকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। দুপুরে বাড়ির লোকেরা নিজেদের দায়িত্বে তাকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ড থেকে বাইরে নিয়ে আসেন। কিন্তু বাইরে স্ট্রেচারে ওই মহিলার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। তাকে এমারজেন্সি বিভাগে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। নিয়ম মতো চিকিৎসক রোগীর নাম ” ব্রড ডেথ ” হিসাবে হাসপাতালের খাতায় নথিভুক্ত করেন।

- Advertisement -

এরপরই চন্দনা দে’র স্বামী উত্তম দে সহ পরিবারের সদস্যরা এমারজেন্সির সামনে বিক্ষোভ দেখানো শুরু করেন। তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষর বিরুদ্ধে গাফিলতি ও হয়রানির অভিযোগ করেন। খবর পেয়ে আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ হাসপাতালে ছুটে আসে। পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে ঘেরাও করে দাবি করেন যে, রোগীর দেহর ময়নাতদন্ত করা যাবে না। কারণ রোগী স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি তিনি করোনা আক্রান্ত নন। পুলিশ তাদের বোঝানোর চেষ্টা করে এই বলে যে, রোগী আইসোলেশান ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন। তাকে তারা নিজেদের দায়িত্বে নিয়ে যাচ্ছিলেন। রাস্তায় তার মৃত্যু হয়েছে। সেক্ষেত্রে তাদের নিয়ম মানতে হবে।

পুলিশ জানায়, রোগীর লালা নমুনা পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে। তার রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত তাদের অপেক্ষা করতে হবে। রিপোর্ট পজিটিভ এলে, পরিবারকে দেহ দেওয়া হবে না। নেগেটিভ এলে দেহ দেওয়া হবে। তবে পজিটিভ দেহর যে প্রোটোকল তা মানতে হবে। ঘন্টা দু’য়েকের চেষ্টায় বাড়ির লোকেরা পুলিশ কথা মেনে নেন।

অন্যদিকে, হাসপাতালের সুপার ডাঃ নিখিল চন্দ্র দাস বলেন, আমাদের কোন গাফিলতি ছিল না। রোগীর পরিবারের সদস্যরা নিজেদের দায়িত্বে তাকে ছুটি করিয়ে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন। রাস্তায় তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালের তরফে পুলিশকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ যা করার করবে।