সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন ট্রেন্ড বুড়ো হওয়া। ফেসবুকে একটি মোবাইল আপের মাধ্যমে নিজের বুড়ো বয়সের ছবি প্রকাশ করছেন নেটিজেনরা। অধিকাংশই একে নির্মল আনন্দ বলছেন। কিন্তু এর পেছনে গভীর বিপদ লুকিয়ে রয়েছে।
আদতে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নির্ভর ওই অপ্পটি তৈরী করেছে রাশিয়ান ডেভলপাররা। প্রযুক্তির মাধ্যমে ওই অপ্পে বয়স বাড়ানো-কমানো, ছেলেকে মেয়ে বা মেয়েকে ছেলে করা যায়। এই নিয়েই এখন রসিকতা চলছে নেট দুনিয়ায়। সাধারণ ব্যাবহাৰকারির পাশাপাশি অভিনেতা বরুন ধাওয়ান, অর্জুন কাপুর, ফুটবলার হ্যারি কেন, ভারতের বহু ক্রিকেটারের বুড়ো বয়সের ছবি ভার্চুয়াল দুনিয়ায় ছড়িযে পড়েছে। কিন্তু এর সম্ভাব্য বিপদ নিয়েও সরব হয়েছেন অনেকে।করণ, রসিকতার চলে ওই আপের ডেভলপারদের কাছে ব্যাবহারকারির যাবতীয় ছবি ও অন্য তথ্য চলে যাচ্ছে! তারা ওই ছবি ও তথ্য কী কাজে লাগাবে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন অনেকেই।
ভারতের প্রথম সারির এক এথিকাল হ্যাকার জানিয়েছেন, বহু মানুষের ছবি ওই কোম্পানির সার্ভারে রয়েছে। এটা বিপজ্জনক। কারণ এখন অনেক ফোন-ল্যাপটপ ফেস রিকগনিশনপ্রযুক্তি ব্যবহার করে, অর্থাৎ ব্যাবহারকারির মুখ দেখে খোলে। ফলে অন্যের পাসওয়ার্ড ওই কোম্পানির কাছে চলে যেতে পারে। ওই ডেভলপাররা সার্ভারে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে একসঙ্গে অনেকের গতিবিধি ও মনোভাবের উপর নজর রাখতে পারবে। তাঁর মোতে, তথ্য ফাঁসের ভয় সবার আছে। তাই স্বয়ং মার্ক জাকারবার্গও নিজের ল্যাপটপের ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন বন্ধ রাখেন। সেই ছবি নেট দুনিয়ায় ভাইরালও হয়েছে। ফলে সাধারণ ব্যাবহারকারির এই বিষয়গুলি নিয়ে আরও সাবধান হওয়া জরুরি।
সাইবার বিশেষজ্ঞদের মোতে, অধিকাংশ ব্যাবহারকারী এই ধরণের আপা ব্যবহার করার আগে শর্তগুলি ঠিক মতো না পরেই হা করে দেন। যার ফলে অপ্পগুলি ব্যাবহারকারির ব্যাক্তিগত তথ্য ব্যবহারের অনুমতি পেয়ে যায়। এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় কেমব্রিজ এনালিটিকা ও ফেসবুকের গোপন আঁতাত নিয়ে বিতর্ক শুরু হওয়ার পর এভাবে তথ্য চুরির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। শুধু এই একটি আপাই নয়, বুদ্ধির পরিচয় নিতে চাওয়া, কোন কোন ছবিতে বেশি লাইক পড়েছে তা বেঁছে দেওয়া, ভবিস্যতে কটা গাড়ি-বাড়ি হবে তা বলা অপ্পগুলির প্রধান লক্ষ্য থাকে ব্যাবহারকারির তথ্য সংগ্রহ করা। আর নিজের অজান্তে সাময়িক মজার জন্য ব্যবহারকারীরাও সব তথ্য অজানা ডেভলপারদের দিয়ে দিচ্ছেন।
তবে মজার বিষয়, বিতর্ক শুরু হতেই ফেসআপের ডেভলপাররা বিবৃতি দিয়েছেন। সেখানে তারা জানান, আপের সার্ভারে ওই ছবি যোগ-একদিনের বেশি থাকে না। আর তারা চাইলেই ওই ছবি অন্য কাজে লাগাতে পারতেন, কিন্তু তারা সেটা করবে না! যদিও তাদের আশ্বাস কতটা বিশ্বাসযোজ্ঞ তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাই সাধারণ ব্যবহারকারীকে এই ধরণের আপা ব্যবহার করে নির্মল আনন্দ করার আগে ভেবে দেখার পরামর্শ দিচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা।