ধর্ষণের পর নির্যাতিতার নগ্ন ছবি দিয়ে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, গ্রেপ্তার শিক্ষক

3034

বর্ধমান: মহিলাকে বেহুশ করে ধর্ষণের পর নগ্ন ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার এক শিক্ষক। ধৃতের নাম শ্যামল কুমার দাস। তার বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের মাধবডিহি থানার চকভুড়া গ্রামে। নির্যাতিতা মহিলার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে মাধবডিহি থানার পুলিশ ধৃতকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তের প্রয়োজনে ধৃতের মোবাইল ফোনটি পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে। বুধবার ধৃতকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হলে ভারপ্রাপ্ত সিজেএম ধৃতকে ৫ দিন পুলিশ হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মাধবডিহিতে শ্যামল দাসের একটি কম্পিউটার সেন্টার ছিল। সেখানে কম্পিউটার শিখতে আসা বিভিন্ন জনকে ভালো কাজের টোপদিয়ে হুগলীর আরামবাগের বাড়িতে নিয়েগিয়ে শ্যামল অশালীন কাজকর্ম করতো। এদিকে পারিবারিক সম্পর্কের সুবাদে নির্যাতিতা মহিলার সঙ্গে শ্যামলের পরিচয় ছিল। দুই পরিবারের লোকজনের একে অপরের বাড়িতে যাতায়াত ছিল। পুলিশকে নির্যাতিতা মহিলা জানিয়েছেন, ঘর দেখানোর জন্য শ্যামল বছর পাঁচেক তাকে আরামবাগের একটি ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে শ্যামল তাকে ঠাণ্ডা পানীয় খেতে দেয়। ঠাণ্ডা পানীয় খাওয়ার কিছুক্ষণ পর মহিলা অচৈতন্য হয়ে পড়েন। সেই সুযোগে শ্যামল তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। জ্ঞান ফিরলে মহিলা বুঝতে পারেন শ্যামল তার সঙ্গে খারাপ কাজ করেছে। মহিলা প্রতিবাদ করলে শ্যামল জানায়, সে তার নগ্ন ছবি তুলে রেখেছে। ঘটনার কথা কাউকে জানালে সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও মহিলাকে দেয় কম্পিউটার শিক্ষক শ্যামল। এরপর মহিলার নাম ও ছবি ব্যবহার করে শ্যামল ৩টি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে মহিলাকে দেহ ব্যবসায়ী বলে উল্লেখ করে।

- Advertisement -

শুধু তাই নয়, অ্যাকাউন্ট খোলার সময়ে শ্যামল তাতে আবার মহিলার ছেলের ফোন নম্বর দিয়ে দেয়। এরপরই মহিলার কাছে বিভিন্নজনের ফোন আসতে শুরু করে। ফোনে তারা মহিলাকে অশালীন কথাবার্তাও বলে। এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে মহিলা মাধবডিহি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে ধর্ষণ, ভীতি প্রদর্শন, শ্লীলতাহানি, বিষ পানীয় খাওয়ানো ও তথ্য প্রযুক্তি আইনের ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ শ্যামলকে গ্রেপ্তার করে।