ঘৃণা ছড়াচ্ছে ফেসবুক, ইস্তফা ভারতীয় বংশোদ্ভূত ইঞ্জিনিয়ারের

723

ওয়াশিংটন : ফেসবুকের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগ ছিলই। ভারতে রাজনৈতিক দল ছাড়াও বিভিন্ন মহলে এই অভিযোগ বেশ কিছুদিন ধরে উঠছে। এবার অভিযোগ উঠল ফেসবুক সংস্থার অন্দরেই। ঘৃণা ছড়িয়ে মুনাফা করার অভিযোগে ফেসবুকের চাকরি ছাড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার অশোক চান্দেওয়ান। কর্তৃপক্ষকে লেখা ১৩০০ শব্দের চিঠিতে তিনি বিশ্বজুড়ে ঘৃণা ছড়ানোর জন্য এই সংস্থার সঙ্গে আর কাজ করতে পারছেন না বলে উল্লেখ করেছেন। বর্ণ, লিঙ্গ, ধর্ম, ভাষা ইত্যাদি সব ক্ষেত্রেই ফেসবুক ঘৃণা ছড়াচ্ছে বলে কড়া মন্তব্য করেছেন ২৮ বছর বয়সি এই ইঞ্জিনিয়ার। সংস্থার মুখপাত্র কিন্তু জানিয়েছেন, সমাজ থেকে ঘৃণা, বিদ্বেষ দূর করার জন্য কোটি কোটি ডলার ব্যয় করছেন তাঁরা। সিয়েটেলের বাসিন্দা অশোক তাঁর চিঠিতে ফেসবুককে ঘৃণার স্বর্গরাজ্য আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে কখনও জাতপাত ঘিরে, কখনও ধর্মকে কেন্দ্র করে, কখনও আবার বর্ণবৈষম্য বা লিঙ্গবৈষম্য নিয়ে।

ভাষা বিদ্বেষের ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগ আছে তাঁর চিঠিতে। চিঠিতে তিনি বলেন, আমার কাছে এটা স্পষ্ট যে, আমাদের কয়েজনের সর্বোত্তম চেষ্টা সত্ত্বেও ফেসবুক ভুল পথে যাচ্ছে। মঙ্গলবার ইস্তফা দিয়েছেন এই তরুণ এশীয়। সম্প্রতি আমেরিকার বিভিন্ন প্রদেশে বিশেষত মিনিয়পলিসে জর্জ ফ্লয়েড হত্যা, উইসকনসিনের কেনেসায় বর্ণবিদ্বেষমূলক ঘটনার উল্লেখ করে তাতে ফেসবুকের প্রচ্ছন্ন ভূমিকা ছিল অভিযোগ করে অশোক প্রশ্ন তুলেছেন, কেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্য মুছে দিল না ফেসবুক? চলতি বছরের মে মাসে একটি ফেসবুক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছিলেন, লুট করলেই গুলি করা হবে। অশোক ওই পোস্টের উল্লেখ করেছেন। ফ্লয়েড হত্যার পর সংস্থার কর্ণধার মার্ক জুকেরবার্গ ও চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) শ্রেইল স্যান্ডবার্গের কাছে ট্রাম্পের ওই পোস্ট সম্পর্কে অভিযোগ জানিয়েছিলেন এই সংস্থার কৃষ্ণাঙ্গ কর্মচারীরা। তাতে কাজ হয়নি। ইস্তফা দেওয়ার পর দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফেসবুকের মূল্যবোধ, নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অশোক। তাঁর কথায়, নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে ফেসবুক বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাঁটছে সভ্যতার উলটো পথে। ফেসবুকের নৈতিকতা নিয়ে কিছুদিন আগে রাহুল গান্ধি সহ ভারতের একাধিক রাজনৈতিক নেতা প্রশ্ন তুলেছিলেন। অশোক চান্দেওয়ানের চাকরি ছাড়ার পর নৈতিকতার বিষয়টি আরও একবার সামনে এল।

- Advertisement -