নিজেদের প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তিগত মেসেজ এনক্রিপট করার পথে এগোচ্ছে ফেসবুক। সংস্থার কর্ণধার মার্ক জুকেরবারগ মনে করেন, ব্যক্তিগত মেসেজের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য এটাই সঠিক সিদ্ধান্ত। তিনি জানিয়েছেন, বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়ার পর পরিকল্পনায় কিছু রদবদল হতে পারে। ফেসবুকের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর জনপ্রিয় এই সোশ্যাল মিডিয়ার উপর নজরদারি অনেক কঠিন হয়ে পড়বে। এবং ফেসবুকের আয়ের উপরও এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়বে। কারণ, বেশিরভাগ বিজ্ঞাপনের জন্ম হয় গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে। তা থেকেই ক্রেতাদের পছন্দ- অপছন্দের আঁচ পাওয়া যায়। কিন্তু জুকেরবারগ বলছেন, এই সবে তার কোনও সমস্যা নেই। তাঁর প্রথম অগ্রাধিকার গ্রাহকদের তথ্য সুরক্ষিত রাখা। জুকেরবারগের কৌশল অনুযায়ী, মেসেঞ্জার অ্যাকাউনট থাকলেই ফেসবুকের গ্রাহক হোয়াটসঅ্যাপের সঙ্গে বার্তা বিনিময় করতে পারবেন এবং ব্যক্তিগত বার্তা বিনিময়ের সময় গ্রাহকরা এটা ভেবে নিশ্চিন্ত থাকবেন যে, তাদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত থাকছে।

২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য অবৈধভাবে ব্যবহারের কথা জানাজানি হওয়ার পর থেকে তথ্যসুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য, বিনিয়োগকারী এবং গ্রাহকরা এ ব্যাপারে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন, তথ্যসুরক্ষায় ফেসবুক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছে না। অথচ হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ইনস্টাগ্রামের মতো ব্যক্তিগত বার্তাবিনিময়ের বড় প্ল্যাটফর্মগুলি ফেসবুকের নিয়ন্ত্রণে এবং প্রতিটির গ্রাহক সংখ্যা ১০০ কোটির বেশি। এদের মধ্যে একমাত্র হোয়াটসঅ্যাপেই তথ্য পুরোপুরি সুরক্ষিত বলে দাবি করা হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মেসেজ এনক্রিপশনের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর আপত্তিকর পোস্টের উপর নজর রাখা অসুবিধাজনক হতে পারে। পুলিশ যখন তখন অনলাইন চ্যাট রেকর্ড খতিয়ে দেখতে পারবে না।