টানা লকডাউনে মুখ থুবড়ে উত্তরের কলকারখানা

শুভঙ্কর চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি : টানা লকডাউনে কার্যত কোমর ভেঙে গিয়েছে উত্তরবঙ্গের ছোট ও মাঝারি শিল্পের। কাপড় কাচা সাবান থেকে জ্যাম, জেলি কিংবা সিমেন্ট, প্লাইউড সব কারখানাতেই উৎপাদন ও বিক্রি কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। ফলে কোটি কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

ইতিমধ্যেই কাজ হারিয়েছেন বহু শ্রমিক। সুতোয় ঝুলছে আরও অনেকেরই কর্মজীবন। আর এই পরিস্থিতিতে কারখানা সচল রাখতে বিশেষ প্যাকেজ দাবি করেছেন উত্তরবঙ্গের ছোট ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগীরা। লকডাউনের লোকসান বুঝতে ইতিমধ্যেই বিশেষজ্ঞ দল তৈরি করে একটি সমীক্ষা করেছে নর্থবেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন। সেই সমীক্ষায় বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একের পর এক উল্লেখযোগ্য তথ্য উঠে এসেছে। কয়েকদিনের মধ্যেই সমীক্ষা রিপোর্ট সহ বিশেষ প্যাকেজের জন্য তাঁদের আবেদন রাজ্য এবং কেন্দ্র দুই সরকারের কাছে পাঠানো হবে বলেই জানিয়েছেন অ্যাসোসিয়েনের সম্পাদক সুরজিৎ পাল।

- Advertisement -

লকডাউনে জীবিকা হারিয়েছেন অনেকেই। টানা ব্যবসা বন্ধে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ছোট ব্যবসায়ীরা। সঠিক সময়ে ফসল বিক্রি করতে না পারায় কৃষকদের হাতেও আগের মতো টাকা নেই। ক্রয়ক্ষমতা কমেছে মধ্যবিত্তদের। লকডাউনের ধাক্কা লেগেছে নির্মাণশিল্পেও। পাশাপাশি অনুসারী শিল্পগুলিও ধুঁকছে। নর্থবেঙ্গল এবিসি চেম্বার অফ কমার্সের সমীক্ষা বলছে, মধ্যবিত্তের সংসারে মুড়ি, বিস্কুট কেনাতেও রাশ পড়েছে। কাঁটছাট শুরু হয়েছে শৌখিনতায়। আবাসন তৈরির ব্যবসায় যুক্ত একটি সংস্থার সমীক্ষা অনুসারে, গত সাড়ে চারমাসে উত্তরবঙ্গে নতুন ফ্ল্যাটের বিক্রি কমেছে গড়ে ৪০ শতাংশ। ফ্ল্যাট তৈরি কমেছে গড়ে ৩০ শতাংশ। ব্যক্তিগত বাড়ি তৈরি, সংস্কারের হার কমেছে গড়ে ৪৫ শতাংশ। ওই সংস্থার আধিকারিক সুমিত জালান বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জমানো টাকা খরচ করতে ভয় পাচ্ছেন বেশিরভাগ মানুষ। ফ্ল্যাট কেনার চেয়ে চিকিৎসার জন্য টাকা গচ্ছিত রাখাকেই তাঁরা বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন।

তরাই, ডুয়ার্সের বিভিন্ন এলাকা ও মালদায় বেশ কয়েকটি পাথর ভাঙার ইউনিট আছে। সেইসব ইউনিট সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েকমাসে উল্লেখযোগ্য হারে বিক্রি কমেছে পাথরের। একটি প্লাইউড কারখানার ম্যানেজার বলেন, বিক্রি অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন পুজো কমিটি মন্দির তৈরির কাজে প্লাইউড ব্যবহার করে। এই সময় থেকেই বাড়তি অর্ডার আসে। এবার কোনও বাড়তি অর্ডার নেই। সুরজিৎ পাল বলেন, উত্তরবঙ্গের ছোট ও মাঝারি শিল্প বাঁচাতে বিশেষ প্যাকেজ অত্যন্ত জরুরি। আমরা কেন্দ্র এবং রাজ্য দুই সরকারের কাছেই লিখিতভাবে সেই দাবি জানাব। প্রায় এক লক্ষ শ্রমিক উত্তরবঙ্গের ছোট ও মাঝারি শিল্পের উপর নির্ভরশীল। উদ্যোগপতি এবং শ্রমিক দুই পক্ষের কথা ভেবেই সরকারের উচিত আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করা। আমরা চাই প্রয়োজনে রাজ্য ও কেন্দ্র যৌথ বিশেষজ্ঞ কমিটি তৈরি করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখুক।