ভিড় নেই, আনন্দ মেলায় নিরানন্দে বিক্রেতারা

183

বীরপাড়া: আনন্দ মেলায় আনন্দে নেই বিক্রেতারা। করোনা পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে শীতের মেলাতেও। ১ লা জানুয়ারি থেকে বীরপাড়ার কালিবাড়ি ময়দানে শুরু হয়েছে আনন্দ মেলা। কলকাতা থেকে শুরু করে ভিনরাজ্যের ব্যবসায়ীরাও পসরা সাজিয়েছেন মেলায়। তবে, মেলায় ক্রেতার সংখ্যা আশানুরূপ না হওয়ায় মুখ ভার ব্যবসায়ীদের। তাদের বক্তব্য, বিক্রিবাটা হচ্ছে খুবই কম। অনেকেই মেলা প্রাঙ্গণে ঢুকে চক্কর কাটলেও কেনাকাটা না করেই ফিরে যাচ্ছেন। বিশেষ করে, কমবয়সী ছেলেপুলেরা মেলায় আসছে মূলত সময় কাটাতে। অবশ্য, মেলায় পসরা সাজিয়ে খুশি ফুচকা বিক্রেতারা। কিশোরী ও যুবতীদের অনেকেই অন্য কোনও কিছু কেনাকাটা না করলেও ফুচকা না খেয়ে ফিরছেন না। মেলা চলবে এক মাস ধরে। ঘড়ি, রকমারি সানগ্লাস, চেঞ্জারের পসরা নিয়ে বিহার থেকে বীরপাড়ার আনন্দ মেলায় এসেছেন বিকু কুমার। তিনি বলেন, ‘টুকটাক বিক্রি হলেও আশানুরূপ বিক্রি হচ্ছে না। অথচ, গত বছর জানুয়ারি মাসে এখানেই পসরা সাজিয়ে প্রচুর বিক্রিবাটা করেছি। আসলে মানুষের হাতে এখন টাকাকড়ি কম। হয়ত তার প্রভাবই পড়েছে মেলায়।‘ কলকাতা থেকে বেনারসী পানের পসরা নিয়ে এসেছেন তিমির চন্দ। বেনারসের নানা স্বাদের পান সহ আগুন পানও মিলছে তাঁর দোকানে।

তিনি বলেন, ‘বিক্রিবাটা হলেও আশানুরূপ নয়।’ মনিহারী জিনিসপত্র নিয়ে ফালাকাটা থেকে এসেছেন কান্তি দে। বুধবার বিকেল চারটে নাগাদ গিয়ে দেখা গেল মনিহারী জিনিসপত্রের পসরার সামনে নেই কোনো ক্রেতা। তিনি বলেন, ‘অনেকেই আসছেন মেলায়। কিন্তু বিক্রিবাটা হচ্ছে খুবই কম। অথচ, অন্যান্য বছর বহুগুণ বেশি বিক্রি হত।‘ অবশ্য ফালাকাটা থেকে আগত ফুচকা বিক্রেতা রাজেন মাহাতোকে বিক্রিবাটা নিয়ে প্রশ্ন করতেই তাঁর মুখে দেখা গেল হাসি। রাজেনবাবু বলেন, ‘আমার দোকানে ভালই ভিড় হচ্ছে। ক্রেতা মূলত কম বয়সী মেয়েরা।’ কালিবাড়ি পরিচালনা কমিটির সভাপতি পঙ্কজ দাস বলেন, ‘গত বছর জানুয়ারি মাসে পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল। এবারের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভিন্ন। তারই প্রভাব পড়েছে মেলায়। লোকজনের উপস্থিতি গতবারের তুলনায় অনেক কম।’ কালিবাড়ি কমিটির সম্পাদক সোনা সরকার বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির জেরে কাজ হারিয়েছেন অনেকেই। ভিনরাজ্যে কর্মরতদের অনেকেই পাকাপাকিভাবে ফিরে এসেছেন। মানুষের হাতে টাকাকড়ি কম। ফলে মেলায় কেনাবেচা কমে গিয়েছে।’

- Advertisement -