চামারকালী মেলায় উপচে পড়া ভিড়, করোনা সংক্রমণ নিয়ে আশঙ্কা

397

সৌরভ রায়, কুশমণ্ডি : শতাধিক বছরের পুরোনো কুশমণ্ডি ব্লকের ঊষাহরণ ও খাগাইল গ্রামের চামারকালী মেলাকে ঘিরে মঙ্গলবার আনন্দে মেতে উঠল ঊষাহরণ, খাগাইল, জামিরাইল, দেউল,  শব্দলপুর, কাশিডাঙা মহিষবাথান সহ প্রায় ২০টি গ্রামের রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষ। মেলা আদৌ হবে কিনা তা নিয়ে উদ্যোক্তাদের মধ্যে প্রথমদিকে সংশয় ছিল। অবশেষে আনলকের ফলে সমস্ত কিছু খুলে যাওয়ায় মেলার আয়োজন করা হয়। তবে করোনার আবহে মেলায় প্রচুর মানুষের সমাগম হলেও অনেককেই মুখে মাস্ক ছাড়া ঘুরতে দেখা গিয়েছে। বিষয়টি জানতে পারার পরেই অবশ্য এলাকায় পুলিশ যায়। পুলিশ দেখেই মেলায় আসা মানুষজন নিয়ম মেনে মেলায় অংশগ্রহণ করেন।

উদ্যোক্তারা জানান, এই উৎসব মূলত কৃষিভিত্তিক। জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষ মঙ্গলবার আয়োজন হয় পুজোর। একই সঙ্গে চলে মুখোশ মেলা। প্রথা মেনে এলাকার কৃষক পরিবারের ছেলেরাই আগের রাতে দল বেঁধে বিভিন্ন পাড়ায় ঘুরে সবজি ও শস্য সংগ্রহ করে, যা পুজোর প্রধান উপকরণ। গ্রাম থেকে সংগৃহীত সমস্ত সবজি মন্দির প্রাঙ্গণে সুন্দর করে ঝুলিয়ে রাখা হয়। স্থানীয়ভাবে যার নাম ঘাঘরভাঙা। মঙ্গলবার ভোর থেকে শুরু হয় পুজো। বাড়ির মহিলারা উপোস থেকে তেল, সিঁদুর, ধূপ, বাতাসা ও ধান থালায় সাজিয়ে চামারকালীর গহীলী মন্দিরে পুজো দেন। মূলত চণ্ডীপুজো হলেও স্থানীয়ভাবে গহীলী বুড়ি নামে পরিচিত। লোকসংস্কৃতি গবেষক শ্যামল রায় বলেন, কৃষিপ্রধান মানুষের রক্ষক হিসেবে পূজিতা হন গহীলী। বর্ষার শুরুতে এই মেলার আয়োজন এক অর্থে প্রকৃতি দেবতাকে সন্তুষ্ট করা।

- Advertisement -

মেলা কমিটির তরফে প্রত্যেককে মুখে মাস্ক পরার আবেদন জানানো হলেও মেলায় আসা মহিলা ও শিশুদের অধিকাংশের মুখেই কোনও মাস্ক দেখা যায়নি। মাস্ক ব্যবহার না করে মেলায় ঘুরতে দেখা যায় বেশিরভাগকেই। শারীরিক দূরত্ব বজায় না রেখে এমন অবাধ ঘোরাফেরা দিনভর চললেও প্রশাসনের কোনও তৎপরতা দেখা যায়নি। ভিনরাজ্য ফেরত শ্রমিকদের ১৪ দিন হোম কোয়ারান্টিনে থাকার নির্দেশ থাকলেও সেই নির্দেশ না মেনে শ্রমিকদের কেউ মেলায় ঘুরেছেন কিনা, তা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন ওঠে।

আকচা পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান রমানাথ রায় ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, মেলায় সাধারণ মানুষ কীভাবে থাকবেন, সেই বিষয়ে পঞ্চায়েত আগে থেকে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। কুশমণ্ডি ব্লকেই প্রথম  করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে চারজনের। ফিরে আসা শ্রমিকদের অনেকের লালা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হলেও সেইসব রিপোর্ট ব্লক বা জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরে এসে পৌঁছায়নি। তার মধ্যে গহীলী মেলায় মানুষের ভিড় ফের বিপত্তি ডেকে আনতে পারে। মুখোশ শিল্পী মাধব সরকার বলেন, মেলা করার ইচ্ছে না থাকলেও সাধারণ সমস্ত কৃষক ও সাধারণ মানুষের উৎসাহে এই মেলার আযোজন করা হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে দেউল পঞ্চায়েতের প্রধান বিনয় সরকার কোনও উত্তর দিতে পারেননি।  আকচা পঞ্চায়েতের প্রধান চামেলি চৌহান বলেন, পঞ্চায়েতের তরফে সোমবার থেকেই এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। সকলেই মুখে মাস্ক ব্যবহার করেন এই আবেদন করা হয়েছে। মেলার খবর পাওয়া মাত্রই কুশমণ্ডি থানার আইসি মানবেন্দ্র সাহা মেলা প্রাঙ্গণে পুলিশ পাঠান। পুলিশ দেখে অনেকেই গামছা, রুমাল অথবা মাস্ক দিয়ে নাক ও মুখ ঢাকতে শুরু করেন। তবে করোনার এই আবহেও কেন মেলা করা হল, জানতে বিডিও শৈপা লামাকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।