উত্তর দিনাজপুরে জাল আধার কার্ডের চক্র

126

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ : উত্তর দিনাজপুর জেলা জুড়েই সক্রিয় জাল আধার কার্ড তৈরির চক্র। বিনা লাইসেন্সে তথ্যমিত্র কেন্দ্র খুলে দিনের পর দিন অনলাইনে চলছিল যাবতীয় ভুয়ো নথি তৈরির কাজ। সকাল থেকেই দোকানের সামনে লেগে থাকত লম্বা লাইন। মোটা অঙ্কের টাকায় বিনিময়ে বিক্রি হত জাল আধার কার্ড সহ অন্য নথি। প্রশ্ন উঠেছে, কারা কিনতেন ওই আধার কার্ড? ঘুর পথে জঙ্গিদের হাতে চলে যাচ্ছিল না তো ওই জাল আধার কার্ড? রায়গঞ্জ থানার রূপাহার থেকে অঙ্কুর মণ্ডল নামে এক যুবককে পুলিশ গ্রেপ্তার পরেই এমনই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে। নকল আধার কার্ড তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার হওয়ায় বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে পুলিশকেও। লাইসেন্স ছাড়া তথ্যমিত্র কেন্দ্র খুলে কীভাবে ওই যুবক দুবছর ধরে এই কারবার চালিয়ে যাচ্ছিলেন, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার সুমিতকুমার বলেন, জেলা জুড়ে জাল আধার কার্ডের কারবার চলছে কি না জানা নেই। কারণ, জেলায় তো নয়টি ব্লক আছে। হেমতাবাদের পর রায়গঞ্জ থেকে এই বেআইনি কারবারের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিনা লাইসেন্সে আধার কার্ড তৈরি হচ্ছিল সেখানে।

- Advertisement -

রূপাহারে গিয়ে দেখা গেল বন্ধ তথ্যমিত্র কেন্দ্র।  দোকানের চারদিকে জটলা তৈরি হয়েছে। এখানে যে সবকিছু জাল নথি তৈরি হত, জানা ছিল না অধিকাংশের। কারণ, প্রতিদিন সকাল হলেই দোকানের সামনে ভিড় লেগে যেত। জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে আধার কার্ড তৈরির জন্য এখানে আসতেন বহু লোকজন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবক বলেন, কয়েকজন এসে জানতে চান আধার কার্ড কোথায় তৈরি হয়। এরপর দেখি দোকানের মালিককে ফোন করে ডেকে আনেন তাঁরা। উনি আসতেই দোকানের ভিতর থেকে একটি প্রিন্টেড কাগজ সহ তাকে আটক করে নিয়ে যান। জয়নগরের বাসিন্দা জয়দেব রায় জানান, আধার কার্ড, জন্ম সার্টিফিকেট, জমি মিউটেশনের মতো যাবতীয় কাজ অনলাইনে হত ওই দোকানে। খুব ভিড় হত। গরিব ও অসচেতন মানুষেরাই ওখানে যেতেন। ধৃত অঙ্কুর মণ্ডলের বাড়ি গিয়ে দেখা গেল, তার বাবা-মা সহ সবাই রায়গঞ্জ থানায় গিয়েছেন। তার এক আত্মীয় বলেন, দোকানে অনলাইনে সমস্ত নথি তৈরির কাজকর্ম হত। লাইসেন্স ছিল কি না জানা নেই। পুলিশ কেন গ্রেপ্তার করল বুঝতে পারছি না।

বীরঘই অঞ্চলের তৃণমূল সভাপতি উত্তম দেবপাল বলেন, গ্রামের মানুষজন বলছেন ওই তথ্যমিত্র কেন্দ্রে আধার কার্ড ও জন্ম সার্টিফিকেট বের করার জন্য মোটা টাকা নেওয়া হত। তবে সেগুলি আসল না নকল, পুলিশ তদন্ত করলেই জানতে পারবে। দোষীদের চরম শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। বীরঘই অঞ্চলের পঞ্চায়েত প্রধান মিনা হেমব্রম বলেন, বিষয়টি শুনেছি। ওখানে আধার কার্ডের কাজ হত। তবে লাইসেন্স ছিল কি না, তা জানা নেই। জন্ম সার্টিফিকেট তো আমরা দিই। ওরা কীভাবে দেবে? বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখছি। বীরঘই পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা দীপনারায়ণ দেবশর্মা বলেন, বাসিন্দাদের অভিযোগ ছিল, ওই দোকানে আধার কার্ড, জন্ম সার্টিফিকেট সহ যাবতীয় কাজকর্ম মোটা টাকার বিনিময়ে হত। কাল দোকানের মালিককে গ্রেপ্তার করার পর অভিযোগটা সত্যি মনে হচ্ছে। তবে আমরা কিছুই জানতাম না।

রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী বলেন, কেন্দ্র সরকারের লাইসেন্স ছাড়া কেউ আধার কার্ড তৈরি বা সংশোধন করতে পারবে না। পুলিশ যাদের গ্রেপ্তার করেছে নিশ্চয় তাদের কোনও লাইসেন্স নেই।