শিলিগুড়ি মহকুমায় ভুয়ো বিল্ডিং প্ল্যানের হদিস

রাহুল মজুমদার, শিলিগুড়ি : পুর এলাকা ছাপিয়ে এবারে গ্রামে ভুয়ো বিল্ডিং প্ল্যানে বাড়ি বানানোর হদিস মিলছে। বিডিও এবং সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়ো বিল্ডিং প্ল্যান তৈরির অভিযোগ উঠছে শিলিগুড়ি মহকুমাতেও। অভিযোগ, মাটিগাড়া পঞ্চায়েত সমিতির এগজিকিউটিভ অফিসার তথা মাটিগাড়ার বিডিও রুনু রায় এবং সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার রবীন্দ্রনাথ শর্মার সই জাল করে ল্যান্ড ইউজ সার্টিফিকেট (এলইউসি) তৈরি করা হয়েছে। তা দিয়ে এক সেনাকর্মীর জন্য ভুয়ো সাইট প্ল্যান তৈরি করা হয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরেই সোমবার বিকেলে মাটিগাড়ার পঞ্চায়েত সমিতির পক্ষে এগজিকিউটিভ অফিসার রুনু রায় মাটিগাড়া থানায় দুজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সেই অভিযোগে শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এসজেডিএ)- এর তালিকাভুক্ত ইঞ্জিনিয়ার সন্দীপ সেন (যাঁর লাইসেন্স নম্বর এলবিএস/সি/৩৮৭) এবং তপন নামে এক ব্যক্তির নাম রয়েছে। ভুয়ো বিল্ডিং প্ল্যানে ওই ইঞ্জিনিয়ারের সিল এবং স্বাক্ষর রয়েছে। অপরদিকে, তপন নামে ওই ব্যক্তির অফিস রয়েছে এসজেডিএ বিল্ডিংয়ে একতলায়।

মাটিগাড়ার বিডিও বলেন, খাপরাইল এলাকার বাসিন্দা এক ব্যক্তি তাঁর বিল্ডিং প্ল্যান যাচাই করতে দপ্তরে এসেছিলেন। তখনই দেখি আমার এবং সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারের স্বাক্ষর ও সিল নকল করা হয়েছে। সেখানে যে মেমো নম্বর, অর্ডার নম্বর দেওয়া ছিল তাও ভুয়ো। পুরো বিষয়টি জানিয়ে মাটিগাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বিজয়চন্দ্র বর্মন বলেন, এখনও আমি অভিযোগের কোনও প্রতিলিপি পাইনি। প্রতিলিপি পেলে মন্তব্য করব। শিলিগুড়ির মহকুমা শাসক সুমন্ত সহায় এবং শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি তাপস সরকারও অভিযোগের প্রতিলিপি পাননি বলে জানিয়েছেন। শিলিগুড়ির মাটিগাড়ার খাপরাইলের জিয়াগুড়ির বাসিন্দা সেনাকর্মী পূর্ণ বাহাদুর গত বছরের মে মাসে বিল্ডিং প্ল্যান তৈরির জন্য স্থানীয় বাসিন্দা উজ্জ্বল রায় নামে এক ব্যক্তিকে সমস্ত কাগজপত্র এবং টাকা দেন। তাঁর দাবি, সেই সময় উজ্জ্বল রায় একজন মহিলা ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে তাঁর পরিচয় করিয়ে দেন। তিনিই বিল্ডিং প্ল্যান তৈরি করে দেবেন বলে জানান। এরপর চাকরিসূত্রে জম্মু চলে যান পূর্ণবাবু।

- Advertisement -

সেই থেকে উজ্জ্বল বারবার তাঁকে ঘোরাচ্ছিলেন। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে পূর্ণবাবু চাপ দিলে অভিযুক্ত জানান, শীঘ্রই তাঁদের কাজ হবে। এরপর ফেব্রুয়ারি মাসে ভেরিফিকেশনের জন্য তাঁকে ডাকা হলে তিনি সেই সময় জম্মুতে ছিলেন। পূর্ণবাবুর আত্মীয়রা সেই সময় এসজেডিএ-তে যান বলে দাবি তাঁর। এরপর থেকে লকডাউনের জেরে পুরো প্রক্রিয়া পিছিয়ে যায়। গত মাসে ছুটিতে বাড়িতে এসেই বিষয়টি নিয়ে চাপ দিতে থাকেন পূর্ণবাবু। এরপর তাঁকে বিল্ডিং প্ল্যান দেওয়া হয়। এসজেডিএ অফিসের নীচে থাকা তপন বলে এক ব্যক্তির কাছ থেকে তাঁকে প্ল্যান সংগ্রহ করতে বলা হয়। সেই প্ল্যান সংগ্রহ করার পর এলআইসিতে লোনের জন্য আবেদন করেন ওই সেনাকর্মী। কিন্তু প্ল্যান দেখে সন্দেহ হওয়ায় এলআইসি থেকে তাঁকে প্ল্যান যাচাই করার কথা বলা হয়। সেই মতো গত ১৬ তারিখ এলআইসির একজন কর্মীকে নিয়ে মাটিগাড়া পঞ্চায়েত সমিতির অফিসে যান সেনাকর্মী। এরপরই পুরো বিষয়টি সামনে আসে।

বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর করে জালিয়াতির গন্ধ পেয়ে মাটিগাড়া পঞ্চায়েত সমিতি থেকে মাটিগাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। এই ধরনের আরও ভুয়ো প্ল্যান থাকতে পারে বলে এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে। সেনাকর্মী বলেন, প্ল্যান যাচাই করতে এসে দেখি তা অবৈধ। যে ইঞ্জিনিয়ারের প্ল্যান তৈরির কথা ছিল তিনি না করে অন্য একজন করেছেন। তাঁকেও আমি চিনি না। শিলিগুড়ি ইঞ্জিনিয়ারস অ্যান্ড আর্কিটেক্টস অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক দুলাল নিয়োগী বলেন, বিষয়টি আমরা শুনেছি। তবে যে ইঞ্জিনিয়ারের নামে প্ল্যান তৈরি হয়েছে তিনি আমাদের সদস্য নন। এই ঘটনায় আমরা প্রশাসনের পাশে রয়েছি। এই ধরনের আরও অনেক ভুয়ো প্ল্যান থাকতে পারে বলে আমাদের আশঙ্কা।