পিকে’র টিমের নাম করে ভুয়ো ফোন, ফালাকাটায় সতর্ক তৃণমূল

1077

ফালাকাটা: তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরের নির্দেশে একাধিক দলীয় কর্মসূচি চলছে ফালাকাটায়। বিধায়ক সহ শীর্ষস্তরের দক্ষ নেতারা না থাকায় ফালাকাটায় বাড়তি নজর দিতে হচ্ছে পিকে’র টিমকে। তবে প্রবীণ নেতৃত্বের অভাবে দলের কর্মসূচি গুছিয়ে করতে গিয়ে হোঁচট খেতে হচ্ছে তৃণমূলকে। সম্প্রতি পিকে’র টিমের নাম করে তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে ভুয়ো ফোন আসছে বলে সূত্রের খবর। এভাবে দলের গোপন তথ্য ফাঁস হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি বুঝতে পেরেই দলের ব্লক নেতারা তড়িঘড়ি ওইসব ভুয়ো নম্বর চিহ্নিত করে বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে জানিয়ে দিচ্ছেন। সেখানে স্পষ্ট বলা হচ্ছে যে, এই নম্বরগুলি থেকে ফোন আসলে দলের কোনও তথ্য দেওয়া যাবে না। এই ঘটনায় তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এক্ষেত্রে বিরোধীদের বিরুদ্বে চক্রান্তের অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। তবে বিজেপি নেতাদের দাবি, তাঁদের এত প্রয়োজন পড়েনি যে, ফোন করে তৃণমূলের তথ্য নিতে হবে।

তৃণমূল কংগ্রেসের ফালাকাটার ব্লক সভাপতি সুভাষ রায় বলেন, ‘কয়েকটি নম্বর থেকে ফোন করে দলের তথ্য নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে জানা গিয়েছে, এগুলি ভুয়ো ফোন। এজন্য সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে।’ বিজেপির নাম না করে সুভাষবাবুর অভিযোগ করেন, এটা বিরোধীদের চক্রান্ত। তবে দল সতর্ক রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

- Advertisement -

এদিকে, বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক ফালাকাটার দীপক বর্মন প্রশান্ত কিশোরকে টার্গেট করে তৃণমূলের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘৫০০ কোটি টাকা দিয়ে ওরা বুদ্ধি কিনেছে। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে ওই বুদ্ধি কেনা বাবদ খরচ ধরা হয়েছে ১.৭ কোটি টাকা। কিন্তু আমাদের সাধারণকর্মীরাই যথেষ্ট। তাই এসব করার কোনও প্রয়োজন নেই। বরং তৃণমূলেরই বড় ও মাঝারি মাপের নেতারা আমাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।’

গত লোকসভা নির্বাচনে দলের খারাপ ফলাফলের কারণে ভোট কৌশলী হিসেবে প্রশান্ত কিশোরকে নিয়োগ করে তৃণমূল কংগ্রেস। উত্তরবঙ্গ জুড়ে বিজেপি ভালো ফল করেছে। এজন্য উত্তরের জেলাগুলিতে বেশি নজর দিতে হচ্ছে পিকে’র টিমকে। এক্ষেত্রে আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটা বিধানসভা কেন্দ্রটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ২০১১ সালে আলিপুরদুয়ারের মধ্যে একমাত্র ফালাকাটাতেই জোড়াফুল ফোটে। বিধায়ক অনিল অধিকারীর নেতৃত্বে এই ফালাকাটাকে কেন্দ্র করেই পরবর্তীতে গোটা আলিপুরদুয়ারে তৃণমূলের সংগঠন মজবুত হয়। কিন্তু ২০১৮-র পঞ্চায়েত ও ২০১৯-র লোকসভা নির্বাচনে ফালাকাটায় ধাক্কা খায় তৃণমূল।

গত বছর অনিল অধিকারীর পর চলতি বছরে একের পর এক নেতার প্রয়াণে দলের ভিত আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। কিছুদিন আগে উপনির্বাচনের সম্ভাবনা থাকায় দলের একাধিক দুর্বল দিক প্রকাশ্যে আসে। এজন্য রাজ্য নেতা থেকে শুরু করে পিকে’র টিমকে ফালাকাটার উপর বিশেষ নজর দিতে হচ্ছে। দলের নতুন ব্লক সভাপতি সুভাষ রায়ের নেতৃত্বে ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি চলছে। এই পরিস্থিতিতে পিকে’র টিমের নাম করে ভুয়ো ফোনের মাধ্যমে গোপন তথ্য সংগ্রহের ঘটনায় দলের অন্দরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

সূত্রের খবর, ফালাকাটার ২৬৬ জন বুথ সভাপতি, ১৩ জন অঞ্চল সভাপতি, ব্লক কমিটির প্রতিনিধি সহ সব শাখা সংগঠনের ব্লক ও অঞ্চল নেতৃত্বের ফোন নম্বর পিকে’র কাছে রয়েছে। আইপ্যাক টিমের প্রতিনিধিরা মাঝেমধ্যেই নেতাদের ফোন করে দলের তথ্য জেনে নেন। কিন্তু এখন কয়েকটি ভুয়ো নম্বর থেকে ফোন আসায় সবাইকে সতর্ক থাকতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে স্মার্ট ফোন বা সোশ্যাল মিডিয়া সম্পর্কে কিছুটা অসচেতন নেতাদের মাধ্যমে দলের তথ্য বাইরে চলে গিয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ব্লক সভাপতি সুভাষ রায় বলেন, ‘ওইসব নম্বর থেকে আমার কাছেও ফোন এসেছিল। কিন্তু আমি কোনও তথ্য দিইনি। তাই সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে।’