কলকাতায় ভুয়ো করোনা পরীক্ষাকেন্দ্র

227
প্

কলকাতা: সমগ্র দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এ রাজ্য করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এক ধরনের অসাধু ব্যবসায়ী ফয়দা লুঠতে ময়দানে নেমে পড়েছে। চলছে করোনা সংক্রামণের পরীক্ষার নামে রমরমিয়ে বেআইনি ব্যবসা। এমনই অভিযোগ উঠেছে কলকাতায়।

স্বাস্থ্য দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, একমাত্র কোনও চিকিৎসক বা হাসপাতালের তরফে লিখে দেওয়া না হলে কোনও ব্যক্তির করোনা পরীক্ষা করা সম্ভব নয়। এছাড়াও কেন্দ্রীয় বা রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের অনুমোদন ছাড়া কোনও পরীক্ষাগার বা ক্লিনিক করোনা পরীক্ষা করতে পারবে না। তবুও মানুষের ভীতি ও সরলতার সুযোগ নিয়েই ব্যবসা ফেঁদে বসেছে একদল অসাধু ব্যবসায়ী। খোদ কলকাতারই বুকে রমরমিয়ে চলছিল ভুয়ো করোনা পরীক্ষা।

- Advertisement -

পূর্ব কলকাতার কাঁকুড়গাছি অঞ্চলে একটি ক্লিনিকে অবৈধভাবে করোনা পরীক্ষা চলছে। এক বাসিন্দার এই অভিযোগের ভিত্তিতে তার সত্যতা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। তদন্তে জানা যায়, এই ক্লিনিকটির কোনও সরকারি অনুমোদন নেই। নেই ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ (আইসিএমআর)-এর কোনও অনুমোদন। সম্পূর্ণ আতঙ্কের সুযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষকে বোকা বানিয়ে এই বেসরকারি ক্লিনিক করোনা পরীক্ষা করার ব্যবসা ফেঁদে বসেছে। শুধু তাই নয়, রমরমিয়ে চালিয়ে আসছিল সেই ব্যবসা। তদন্তের জেরে এই ঘটনা সামনে উঠে আসতেই স্বাস্থ্য দপ্তর তড়িঘড়ি এই ক্লিনিক বন্ধের নির্দেশ দেয়।

২০১৭ সালের রাজ্য ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্ট আইন অনুযায়ী ১০ লক্ষ টাকা জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এই ক্লিনিকের মালিকের বিরুদ্ধে। ফুলবাগান থানায় এই ক্লিনিকের বিরুদ্ধে এফআইআর ও দায়ের করা হয়েছে। বুধবার সকালেই ফুলবাগান থানা পুলিশ এই ক্লিনিকের সামনে ব্যারিকেড করে দেয় এবং ক্লিনিকটি সিল করে দেয়। শুধু তাই নয়, ওই ক্লিনিকে যে সমস্ত করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে তাদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই রিপোর্ট নেগেটিভ দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ অরিন্দম বিশ্বাস বলেন, ‘এই ধরনের রিপোর্টে বড়সড় সমস্যা হতে পারে। কোনও করোনা পজিটিভ ব্যক্তির যদি নেগেটিভ রিপোর্ট আসে, তবে আর রক্ষা নেই। নেগেটিভ রিপোর্ট হাতে সংক্রমিত ব্যক্তি ঘুরে বেড়ালে করোনা সংক্রমণ ছড়াতে পারে। এই ধরনের অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা উচিত।’

রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, চিকিৎসক বা হাসপাতালের নির্দেশ অনুযায়ী, সাধারণ মানুষ সরকারি ১১টি পরীক্ষাকেন্দ্র এবং বেসরকারি ৬টি পরীক্ষাকেন্দ্রে করোনা পরীক্ষা করতে পারবে। এর বাইরে কোথাও যদি করোনা পরীক্ষা করা হয়, তা শুধু বেআইনি নয় রিপোর্টও সঠিক হবে না।