মালদায় পুলিশ সুপারের নামে ভুয়ো ফেসবুক অ্যাকাউন্ট

281

মালদা : গত কয়েকদিন আগে মালদা জেলা পুলিশের ডেপুটি পুলিশ সুপার (আইন শৃঙ্খলা) শুভতোষ সরকারের নামে ভুয়ো ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলার অভিযোগে সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এবার মালদা জেলা পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়ার নামে ভুয়ো ফেসবুক অ্যাকাউন্টের হদিস মিলল। বিষয়টি সামনে আসতেই তড়িঘড়ি অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে কে বা কারা কী উদ্দেশ্যে পুলিশকর্তার নামে ভুয়ো ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলল তা এখনও জানা যায়নি। এবিষয়ে মালদা সাইবার ক্রাইম থানায় একটি অভিযোগ দায়ে করেন জেলা পুলিশ সুপার। ঘটনার তদন্তে নেমেছে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ। একের পর এক জেলা পুলিশ কর্তাদের নামে ভুয়ো ফেসবুক অ্যাকাউন্টের হদিস মেলায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জেলা পুলিশ মহলে।

পুলিশসূত্রে খবর, সোমবার রাতে জেলা পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়ার এক বন্ধুর বিষয়টি নজরে আসে। জেলা পুলিশ সুপারের নাম ও ছবি দেওয়া একটি ফেসবুক প্রোফাইল থেকে তাঁকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো হয়। কিন্তু পুলিশ সুপার আগে থেকেই তাঁর ফ্রেন্ডলিস্টে ছিলেন। সন্দেহ হওয়ায় তিনি পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়াকে ফোন করে বিষয়টি জানান। তারপরেই প্রকাশ্যে আসে ভুয়ো অ্যাকাউন্টের বিষয়টি। তড়িঘড়ি সেটি বন্ধ করে জেলা সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।

- Advertisement -

জেলা পুলিশের কর্তারা জানান, পুলিশ কর্তাদের নামে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট তৈরি করে এক শ্রেণির দুষ্কৃতী সাধারণ মানুষের কাছে টাকা আদায় করছে। মেসেঞ্জারে মেসেজের মাধ্যমে তাঁদের কাছে বিভিন্ন উপায়ে টাকা আদায় করছে। কোনও দুঃস্থকে আর্থিক সাহায্যের নামে বা কোথাও করোনা সংক্রামিত এলাকায় সাহায্যের নামে টাকা চেয়ে মেসেজ করা হচ্ছে। ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট নম্বর সহ বেশ কিছু তথ্য দেওয়া হচ্ছে। অনেকে সেই ফাঁদে পড়েও যাচ্ছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুলিশ আধিকারিকদের নাম ও ছবি ব্যবহার করা হচ্ছে।

এপ্রসঙ্গে মালদা জেলা পুলিশ সুপার  জানান, বিষয়টি এক বন্ধু মারফত জানতে পারি। সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ে করার পাশাপাশি প্রোফাইলটি বন্ধ করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কে বা কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তার খোঁজ শুরু হয়েছে।

ভুযো ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলার পান্ডাদের ধরার বিষয়ে তিনি বলেন, ফেসবুক থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে কিছুটা সময় লাগবে। নতুন আইডি খোলার সময় মোবাইল নম্বর ও মেল আইডি দেওয়া হয়। আমরা সেই সমস্ত তথ্য হাতে পেলেই দোষীদের সহজে খুঁজে বের করতে পারব। ইতিমধ্যে সমস্ত তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। আশাকরি দ্রুত দোষীদের হদিস পাওয়া যাবে।