Whiskey with natural ice on a oak table.

সুমন কাঞ্জিলাল, আলিপুরদুয়ার : অসম থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিদেশি মদ পাচারের ক্ষেত্রে নিরাপদ করিডর হয়ে ওঠার পাশাপাশি নকল বিদেশি মদ তৈরির অন্যতম ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে আলিপুরদুয়ার।, আলিপুরদুয়ার শহর সংলগ্ন বেশ কিছু এলাকায় এবং জেলার বিভিন্ন প্রান্তে নকল মদ তৈরির কারখানা গজিয়ে উঠেছে। ওই সমস্ত কারখানায় তৈরি নকল বিদেশি মদ চড়া দামে বর্তমানে আলিপুরদুয়ার শহরের বিভিন্ন ফাস্টফুডের দোকান থেকে শুরু করে অলিতেগলিতে এবং জেলার বিভিন্ন প্রান্তের হাটে-বাজারে বিক্রি হচ্ছে। ডুয়ার্সের চা বাগিচা বলয়ে একটা বড়ো অংশেও চুটিয়ে নকল বিদেশি মদ বিক্রি হচ্ছে বলে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠনগুলির তরফে অভিযোগ উঠেছে। তাদের অভিযোগ, সম্প্রতি চা বাগানের বাসিন্দাদের মধ্যে বিদেশি মদের চাহিদা অত্যধিক বেড়ে গিয়েছে। চা বাগানে প্রচলিত দেশীয় পদ্ধতিতে তৈরি মদের বদলে বর্তমান যুবসমাজের একটা বড়ো অংশ বিদেশি মদের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে নকল মদ প্রস্তুতকারীরা ডুয়ার্সের চা বাগানগুলিকে নিজেদের ব্যবসার অন্যতম টার্গেট করেছে। আসল বিদেশি মদের মতো দেখতে নকল মদ দেদারে গ্রামগঞ্জ, শহর এবং চা বাগান এলাকায় বিক্রি হচ্ছে। কম অর্থ বিনিযোগ করে বেশি পরিমাণ মুনাফা কামানোর জন্য স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অনেকেই নকল বিদেশি মদের ব্যবসা করছে।

আলিপুরদুয়ার সহ গোটা ডুয়ার্স নকল মদে ছেয়ে যাওয়ায় রীতিমতো বিপাকে পড়েছেন আসল বিদেশি মদ বিক্রেতারা। নকল মদের পাল্লায় পড়ে তাঁদের বিক্রি যে ক্রমেই কমে য়াচ্ছে তা স্বীকার করেছেন অনেক বৈধ মদ বিক্রেতা। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক বিদেশি মদ বিক্রেতাদের অভিযোগ, আবগারি দপ্তর নিয়মিত অভিয়ান চালালেও জেলার বিভিন্ন প্রান্তে এবং চা বাগান এলাকায় নকল বিলিতি মদের বিক্রি আটকানো যাচ্ছে না। নকল মদ তৈরির কারখানা থেকে সরাসরি পাইকারি বিক্রেতাদের মাধ্যমে তা পৌঁছে যাচ্ছে গ্রামীণ এলাকায়। এমনকি শহর এলাকাতেও বিভিন্ন পানের দোকান, চপ, ফাস্টফুডের দোকানে লুকিয়েচুরিয়ে এই ধরনের নকল মদ বিক্রি হচ্ছে।

বৈধ বিলিতি মদের বিক্রেতারা এই সমস্ত অভিযোগ করলেও তা মানতে রাজি নয় রাজ্য আবগারি দপ্তর। আবগারি দপ্তরের আলিপুরদুয়ারের সুপার থেনডুপ ওযাংদি ভুটিয়া বলেন, এই অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা জেলাজুড়ে লাগাতার তল্লাশি অভিয়ান চালিয়েছি। কিন্তু কোনো নকল বিলিতি মদ তৈরির কারখানার হদিস পাওয়া যায়নি। তবে সম্প্রতি বেশ কিছু চোলাই মদের ঘাঁটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। নকল বিলিতি মদের বোতলকে আসল বোতল থেকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা খুবই কঠিন। আসল বিলিতি মদের বোতলে লেবেল লাগিয়ে বোতল সিল করে বাজারে বিক্রি করা হয়। বৈধ বিলিতি মদ বিক্রেতাদের অনেকে বলছেন, আসল ও নকল মদের বোতল পাশাপাশি রাখলে বোঝা প্রায় অসম্ভব। একমাত্র মদ খেলে তার পার্থক্য বোঝা সম্ভব। তাঁদের আশঙ্কা, অবিলম্বে এই নকল মদ তৈরির কারখানা চিহ্নিত করতে না পারলে বৈধ মদ বিক্রি ভীষণভাবে মার খাবে। মার খাবে সরকারি রাজস্বও।