জলপাইগুড়ি ডিএম অফিসে চাকরি পরীক্ষার ভুয়ো তালিকা

জলপাইগুড়ি : পরীক্ষা গ্রহণ তো দূরের কথা, সরকারি নির্দেশ পর্যন্ত হয়নি। অথচ ২০১৯ সালের সরকারি গ্রুপ-ডি পদে পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের নামের তালিকা প্রকাশ করে ঝোলানো হয়েছে। জলপাইগুড়ি জেলা শাসকের দপ্তরে এমনই বেনজির ঘটনা ঘটেছে। অফিসে ওই ঝোলানো তালিকাকে ঘিরে ব্যাপক হইচই শুরু হয়েছে। শুধু তাই নয়, জেলা শাসক অভিষেক তিওয়ারির স্বাক্ষর পর্যন্ত নকল করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

ইতিমধ্যে ঘটনার বিষয় জানিয়ে জলপাইগুড়ি পুলিশ সুপার প্রদীপকুমার যাদবের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন জেলা শাসক। অন্যদিকে কে বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের কী উদ্দেশ্য, নোটিশটি দিনে ঝোলানো হয়েছে, নাকি রাতের অন্ধকারে- এই সমস্ত একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে জেলা শাসকের দপ্তরের কর্মীদের মধ্যে। তবে যারা এই কাজ করেছে, ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে তারা এমন জায়গায় নোটিশ ঝুলিয়েছে যে সেখানে কোনও সিসি ক্যামেরা নেই। সেইদিক থেকে বোঝা যাচ্ছে যারা ঘটনার সঙ্গে যুক্ত তারা দপ্তর সম্পর্কে অনেক বেশি ওয়াকিবহাল। জেলা শাসক বলেন, বিষয়টি জানার পরই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

- Advertisement -

মঙ্গলবার দপ্তরে ঢোকার পরই চোখ ছানাবড়া হয় জলপাইগুড়ির জেলা শাসকের দপ্তরের এস্টাবলিশমেন্ট সেকশনের আধিকারিক থেকে শুরু করে কর্মীদের। দপ্তরের ঘরের পাশে একটি নোটিশ ঝোলানো হয়েছে। সেখানে লেখা হয়েছে গভর্নমেন্ট অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল, অফিস অফ দ্য ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট এস্টাবলিশমেন্ট সেকশন জলপাইগুড়ি, মেমো নম্বর ৫১৩/১(১২)/ ডোমা। তার নীচে সরকারি দপ্তরের গ্রুপ-ডি পরীক্ষায় ৩৪ জন উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীর নাম। এমনকি নোটিশে জেলা শাসকের স্বাক্ষর রয়েছে। এদিন দপ্তরের কর্মীদের মধ্যে একজন জানান, আমাদের সেকশনে এই ধরনের নোটিশ ঝোলানো হয় না। এখানে সাধারণত টেন্ডার নোটিশ থাকে। কিন্তু এই নোটিশ ব্যতিক্রমী বলেই খোঁজখবর শুরু করা হয়। খবর যায় দপ্তরের আধিকারিকদের কাছেও।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আধিকারিক বলেন, নোটিশটি ভুলে ভরা, প্রথমত নোটিশটি এস্টাবলিশমেন্ট সেকশনের। স্বাভাবিকভাবেই ওই সেকশনের মেমো নম্বর থাকার কথা। কিন্তু মেমো নম্বর বসানো হয়েছে ডিস্ট্রিক্ট অফিসার মাইনরিটি অ্যাফেয়ার্স সেকশনের। আবার ২০১৯ সালের গ্রুপ-ডি পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের নামের তালিকা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু ওই বছর এই ধরনের কোনও পরীক্ষাই হয়নি। আবার যাদের নাম তালিকায় রয়েছে তাদের কোন দপ্তরে জয়েন করার কথা সেটা উল্লেখ নেই। জেলা শাসক দপ্তরের যে সমস্ত নিয়োগ হয়ে থাকে সেখানে মুখ্য ভূমিকা নিয়ে থাকেন অতিরিক্ত জেলা শাসক (সাধারণ)। কিন্তু দেখা যাচ্ছে ওই নোটিশ যাঁদের প্রতিলিপি হিসেবে পাঠানো হয়েছে সেখানে তাঁর নাম নেই। এই ধরনের ভুলভ্রান্তি দেখে সহজেই ধরা পড়ে ওই নোটিশটি ভুয়ো।

কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে নোটিশে জেলা শাসকের স্বাক্ষর নকল করল কে? আবার কেনই বা এই কাজ করা হয়েছে। বুধবার ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা শাসকের দপ্তরের একটি থমথমে পরিবেশ লক্ষ করা গিয়েছে। এই সম্পর্কে কর্মীদের একটি বড় অংশ মুখে কুলুপ এঁটেছেন। যদিও জেলা শাসকের স্বাক্ষর নকলের বিষয়কেই বড় করে দেখা হচ্ছে। কারণ তাঁর স্বাক্ষর ছাড়া দপ্তরের কোনও কাজ সম্ভব নয়। সেইদিক থেকে নকল স্বাক্ষর করে অন্যকিছু করা হয়েছে কি না সেইদিকে নজর রাখা হচ্ছে বলে খবর।