কাটমানির ছায়া এবার কন্যাশ্রীতে! ভুয়ো নাম ঢোকানোর অভিযোগে কাঠগড়ায় প্রধান শিক্ষক

204

হরিশ্চন্দ্রপুর: মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প কন্যাশ্রী ইতিমধ্যে সারা বিশ্বে সমাদৃত হয়েছে। যদিও সেই কন্যাশ্রী প্রকল্পে এবার কাটমানি ছায়া! অভিযোগ, কাটমানির বিনিময়ে এখাধিক বহিরাগতের নাম কন্যাশ্রী প্রকল্পে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে স্কুলের তরফে। সামগ্রিক ঘটনায় কাঠগড়ায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক। যদিও প্রধান শিক্ষকের দাবি, তিনি চিকিৎসার জন্য ছুটিতে থাকায় তাঁর অবর্তমানে বিদ্যালয়ের করণিকের মদতে স্থানীয় শাসকদলের নেতারা এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। ঘটনাটি মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর-২ নম্বর ব্লকের তালবাংরুয়া হাই-মাদ্রাসার। ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে।

তবে শুধু কন্যাশ্রী নয়। ওই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মহম্মদ খাইরুল আলমের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ উঠেছে লকডাউন পর্বেও। সেক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষকের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ধরে বিক্ষোভে শামিল হলেন অভিভাবকদের একাংশ। অন্যদিকে, এই ঘটনাকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে সুর চড়াতে শুরু করেছেন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরাও। ঘটনায় মালদার রাজনৈতিক মহল সরগরম হয়ে উঠতে শুরু করেছে।  অন্যদিকে, সামগ্রিক অভিযোগ অস্বীকার করে পালটা অভিযোগ তুলে ধরেছেন শাসকদলের একাংশ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

- Advertisement -

এক অভিভাবক মহম্মদ তজিবুর রহমান জানান, প্রধান শিক্ষক প্রতিটা কাজে দুর্নীতি করছেন। নিজের প্রভাব খাটিয়ে তিনি স্কুলের বাইরের মেয়েদের নাম নথিভুক্ত করেছেন। নিজের জন্য ১৫ হাজার রেখে ১০ হাজার সেইসব মেয়েদের দিচ্ছেন। সাইকেল নিয়েও দূর্ণীতি করেছেন তিনি।

ওই বিদ্যালয়ের করণিক গোলাম রব্বানী জানান, প্রথমদিকে তিনি কন্যাশ্রীর কাজ করলেও পরে প্রধান শিক্ষক  তাঁর কাছ থেকে কন্যাশ্রীর সমস্ত দায়িত্ব নিয়ে নেন। নিজেই বাড়িতে বসে পয়সার বিনিময়ে স্কুল বহির্ভূত ছাত্রীদের নাম কন্যাশ্রীতে নথিভুক্ত করতেন। এখন দোষ ঢাকতে আমার ঘাড়ে দায় চাপাচ্ছেন। আমাকে শোকজ করা হয়েছিল। আমি উত্তর দিয়েছি।

তালবাংরুয়া হাই-মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মহম্মদ খাইরুল আলমের সাফাই, সাইকেলে কোনও দুর্নীতি হয়নি। জালিয়াতি করে স্কুলের ছাত্রী নয় এমন ২০০ জনকে কন্যাশ্রী প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করা হয়েছিল। আমি বিডিওকে বলে তা বাতিল করাই। তারপর থেকে আমাকে বিব্রত করা শুরু করেছে। এরা তৃণমূলের নামধারী, লুটেপুটে খেতে চায়। প্রতিষ্ঠানের ভালো চায়না।

বিজেপির জেলা সভাপতি গোবিন্দ চন্দ্র মন্ডল তৃণমূলকে কটাক্ষ করে বলেন ‘কাটমানি নেওয়া তৃণমূল কংগ্রেসের কালচার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ একটা স্কুলে ধরা পড়েছে, তদন্ত করে দেখা যাবে প্রতিটা স্কুলেই এই দুর্নীতি করছে। সবাই জড়িয়ে আছে এতে।’

রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা জেলা চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ন চৌধুরী জানান, ‘তৃণমূলের কেউ এতে যুক্ত থাকলে বিডিও বা নোডাল অফিসার কোনও এফআইআর করেননি কেন? ভোটের আগে এসব মিথ্যা অভিযোগ তুলছে বিরোধীরা। যদি প্রমাণ হয় আমাদের দলের কেউ যুক্ত আছে তার বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেওয়া হবে।’

হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লক বিডিও পার্থ দাস জানান, ওঁনারা যে আরটিআই করেছিলেন, আমার অফিস থেকে তার উত্তর দেওয়া হয়েছে। বিষয়টিকে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।