রাজবংশী ভোট পেতে তৃণমূলের ভোটকৌশলীদের ছল-চাতুরি

173
পঞ্চম দফা নির্বাচনের আগে শুক্রবার ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি কেন্দ্রে ছড়ানো হল উত্তরবঙ্গ সংবাদের বিকৃত প্রতিলিপি।

গৌতম সরকার: আবার রাজবংশী সমাজকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা। ফের উত্তরবঙ্গ সংবাদকে এই ঘৃণ্য প্রয়াসে ব্যবহার। আবার সেই ভোটের আগের দিন ভুয়ো সংবাদ পরিবেশনা। হ্যাঁ, বাংলায় পঞ্চম দফা ভোটের আগে আবার একই কাণ্ড ঘটল। বাংলায় পঞ্চম দফা ভোটগ্রহণ শনিবার। উত্তরবঙ্গে হবে দ্বিতীয় দফা। তার ঠিক আগে শুক্রবার ভোরে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে ফুলবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের শান্তিপাড়া গ্রামের মানুষ ঘুম থেকে উঠে দেখেছেন, বাড়ির দরজায় পড়ে আছে উত্তরবঙ্গ সংবাদের প্রথম পাতার আদলে একটি ছাপানো কাগজ। উত্তরবঙ্গ সংবাদের গত মঙ্গলবারের প্রথম পাতার আদল হলেও ডানদিকে যে খবরটি ছাপা রয়েছে ওই কাগজে, তা সেদিন উত্তরবঙ্গ সংবাদে প্রকাশিত হয়নি। ওই খবরটির শিরোনাম, বাপি গোস্বামীর মন্তব্যে বিরক্ত রাজবংশী সম্প্রদায়। বাপি গোস্বামী বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি। তিনি এমন কোনও মন্তব্য করেছেন বলে অন্তত উত্তরবঙ্গ সংবাদে কোনও সংবাদ প্রকাশিত হয়নি কখনও। রাজ্যে চতুর্থ দফা, তথা উত্তরবঙ্গের প্রথম দফা ভোট ১০ এপ্রিলের ঠিক আগের দিন এই একইধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছিল কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে। ১০ এপ্রিল ওই দুই জেলার ভোট ছিল। শনিবার ভোট হবে উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং জেলায়। যে গ্রামে শুক্রবার সকালে উত্তরবঙ্গ সংবাদকে বিকৃত করে ভুয়ো খবর ছড়ানো হয়েছে, সেটি জলপাইগুড়ি জেলার মধ্যে পড়ে। বিধানসভা কেন্দ্রটির হেভিওয়েট প্রার্থী গৌতম দেব।

রাজবংশী ভোট পেতে তৃণমূলের ভোটকৌশলীদের ছল-চাতুরি| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India
আলিপুরদুয়ারে চতুর্থ দফা নির্বাচনের আগে এভাবেই উত্তরবঙ্গ সংবাদকে বিকৃত করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

বুঝতে কোনও অসুবিধা থাকার কথা নয় যে,  উত্তরবঙ্গ সংবাদকে বিকৃত করার পিছনে রয়েছে সংকীর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য। প্রত্যেকটি ঘটনা বিশ্লেষণ করলে যে কেউ বুঝতে পারবেন, যে বা যাঁরা এই কাজে জড়িত, তাঁরা এমন কাজ করছেন তৃণমূলকে সুবিধা পাইয়ে দিতে। যদিও ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তথা পর্যটন গৌতম দেব বলেন,  ‘কে এই কাজ করেছে জানি না। তবে যিনিই করে থাকুন,  উচিত কাজ করেননি।’ প্রথম এই ধরনের অপরাধমূলক কাজ নজরে এসেছিল ২০১৯-এ কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে। তারপর থেকে প্রতিটি জায়গাতেই একই স্ট্র্যাটেজি দেখা যাচ্ছে। সব ক্ষেত্রে এমন ভুয়ো খবর প্রচার করা হচ্ছে, যেটা প্রতিপক্ষকে অস্বস্তিতে ফেলবে। প্রতিবার ভোটের আগের দিনই এমনভাবে ভুয়ো খবর ছড়ানো হচ্ছে যাতে পালটা প্রচারের মাধ্যমে সন্দেহ নিরসন করার আগেই ভোট শুরু হয়ে যায়।

- Advertisement -
রাজবংশী ভোট পেতে তৃণমূলের ভোটকৌশলীদের ছল-চাতুরি| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India
চতুর্থ দফা ভোটের আগের দিন ফের উত্তরবঙ্গ সংবাদকে বিকৃতভাবে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়।

কোচবিহারে ভোটের আগের দিন একইভাবে উত্তরবঙ্গ সংবাদের প্রথম পৃষ্ঠার আদলে প্রচারিত একটি কাগজের শিরোনাম ছিল, দি গ্রেটার কোচবিহার পিপলস্ অ্যাসোসিয়েশনের নেতা অনন্ত রায়মহারাজ তৃণমূলের পাশে। সেদিনই বিজেপির কোচবিহার উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী সুকুমার রায়ের চাঞ্চল্যকর বয়ান শিরোনামে আরেকটি ভুয়ো সংবাদ প্রচার করা হয় উত্তরবঙ্গ সংবাদের প্রথম পাতা বিকৃত করে।

রাজবংশী ভোট পেতে তৃণমূলের ভোটকৌশলীদের ছল-চাতুরি| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India
চতুর্থ দফা নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গ সংবাদকে বিকৃত করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয় দুষ্কৃতীরা।

তার আগে একদিন উত্তরবঙ্গ সংবাদের সেরকমই একটি প্রথম পাতা নকল করে এমন খবর ছাপা হয়, যাতে মনে হতে পারে যে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা মন্তব্য করেছেন যাতে রাজবংশীদের দেশছাড়া হওয়ার আশঙ্কা আছে। খবরটির শিরোনাম ছিল, দেশছাড়া হওয়ার আশঙ্কা রাজবংশীদের। শুক্রবার ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি এলাকাতেও এই কৌশলের অন্যথা হয়নি।

রাজবংশী ভোট পেতে তৃণমূলের ভোটকৌশলীদের ছল-চাতুরি| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India
রাজবংশীদের জড়িয়ে উত্তরবঙ্গ সংবাদকে ব্যবহার করে এভাবেই বিকৃত সংবাদ পরিবেশন করেছে একটি চক্র।

সমীক্ষা বাদ দিলে,  ভুয়ো খবরগুলোর প্রতিটি ক্ষেত্রে রাজবংশী সমাজকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হচ্ছে। আমাদের প্রশ্ন,  গত ১০ বছরে রাজবংশীদের জন্য অনেক উন্নয়ন হয়ে থাকলে এমন ছল-চাতুরির আশ্রয় নিতে হচ্ছে কেন? রাজবংশীদের বোকা বানানো সহজ, উসকানো সহজ বলে কি মনে করেন এই ভোটকৌশলীরা?

এই অপচেষ্টা সম্পর্কে গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের শীর্ষ নেতা বংশীবদন বর্মন বলেন, ‘রাজবংশীরা সহজ, সরল বলে তাঁদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা বা তাঁদের ব্যবহার করার প্রয়াস বরাবরই হযে থাকে। আমরা রাজবংশীরা তৃণমূল নই, বিজেপি নই, যে দল কাজ করে, তাদের ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের আন্দোলনের ফলে রাজবংশীরা আগের চেয়ে অনেক সচেতন হয়েছেন বটে। কিন্তু এখনও একশ্রেণির রাজবংশী মিথ্যা প্রচারে বিভ্রান্ত হন।’

কামতাপুর প্রোগ্রেসিভ পার্টির (কেপিপি) সভাপতি অতুল রায়ের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের উচিত, এমন ভুয়ো খবর পরিবেশনের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা। যদি এটা সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে আমি এটার নিন্দা করছি। এরকম না করাই উচিত। যারা এধরনের কাজ করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

কোচবিহার জেলার অধিকাংশ কেন্দ্র তো বটেই, জলপাইগুড়ি জেলাতেও বেশ কিছু কেন্দ্রে জেতা-হারা নির্ভর করে রাজবংশী ভোটের ওপর। শিলিগুড়ি লাগোয়া মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি ও ফাঁসিদেওয়া কেন্দ্রেও রাজবংশী ভোটারের সংখ্যা কম নয়। একই চিত্র আছে উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের পাশাপাশি মালদা জেলায়। উত্তরবঙ্গের এই সহজ, সরল রাজবংশীদের সমর্থন পেতে তাই মরিয়া সবদলই। অতীতেও ছিল, এখনও আছে। কিন্তু উত্তরবঙ্গ সংবাদের জনপ্রিয়তাকে ভাঙিয়ে ভুয়ো খবর ছড়ানোর অপচেষ্টা শুরু হয়েছে ২০১৯ থেকে।

অথচ কাকে ভোট দেবেন, সেটা কখনও উত্তরবঙ্গ সংবাদ বলেনি। এমনকি, ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করার মতো একপেশে খবরও উত্তরবঙ্গ সংবাদ পরিবেশন করে না। কাকে ভোট দেবেন, সেটা আপনার গণতান্ত্রিক অধিকার। শুধু সতর্ক থাকবেন। আপনার বিশ্বস্ত উত্তরবঙ্গ সংবাদের খবর বলে কোনও লিফলেট, ফটোকপি বা ফেসবুকে, হোয়াটসঅ্যাপে কিছু প্রচারিত হলে নিজের বাড়িতে কিনে রাখা সংবাদপত্রটি অথবা www.uttarbangasambad.in-এ গিয়ে ই-পেপার কিংবা www.uttarbanga sambad.com-এ গিয়ে আমাদের নিউজ পোর্টালটি দেখে নিন, সত্যিই এই ধরনের খবর উত্তরবঙ্গ সংবাদে প্রকাশিত হয়েছে কি না।