সোশ্যাল মিডিয়ায় ঋণ মকুবের ভুয়ো প্রচার

কলকাতা : বৈদ্যুতিন বা খবরের কাগজের মতো সংবাদ পরিবেশনের চেনা মাধ্যমগুলির পাশাপাশি ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়া। গত কয়েকবছর ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন খবর পোস্ট ও শেয়ার করা স্বাভাবিক প্রবণতা হয়ে উঠেছে। অনেক সময় সেইসব খবরের উৎস ও ভিত্তি যাচাই করা সম্ভব হয় না। খবরের সত্যি-মিথ্যা না জেনে শেয়ার করার কারণে গুজব ছড়ায়। মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়ে।

কিছুদিন ধরে একটা নতুন প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু পেজ ও চ্যানেল থেকে ভুয়ো খবর ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। এজন্য এমন সব বিষয়কে বেছে নেওয়া হচ্ছে, যেগুলি স্পর্শকাতর অথবা যেগুলি নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহল থাকে। ব্যাংকিং সংক্রান্ত নানা খবরও এভাবে প্রচারিত হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। যেসব ব্যাংকের গ্রাহক সংখ্যা বিপুল, বিশেষ করে সে সব ব্যাংকের ঋণ ও কিস্তি পরিশোধ সংক্রান্ত ভুয়ো খবর ছড়ানোর প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। এইসব খবরে কোথাও বলা হচ্ছে, ব্যাংকগুলি যাবতীয় ঋণ মকুব করে দিয়েছে, আবার কখনও বলা হচ্ছে, রিজার্ভ ব্যাংক জানিয়েছে, মোরাটোরিয়ামের মাধ্যমে ঋণের যে কিস্তি জমা করার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছিল, সেই কিস্তির টাকা আর শোধ করতে হবে না। এসব ভুয়ো খবরের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়ছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ঋণ গ্রাহকরা ধন্দে পড়ছেন।

- Advertisement -

আকর্ষণীয় শিরোনাম দেখে অনেকে এইসব খবর আগ্রহ নিয়ে দেখছেন, পড়ছেন। এর ফলে ওইসব পেজ ও চ্যানেলের ভিউজ বাড়ছে। ভিউজ যত বেশি হবে, বিজ্ঞাপন পাওয়ায় সম্ভাবনা তত বাড়বে। এর ফলে পেজ বা চ্যানেলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা লাভবান হবেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়তে পারেন। ভুল তথ্যের ভিত্তিতে গ্রাহকরা কোনও সিদ্ধান্ত নিলে বা ঋণশোধ বন্ধ রাখলে জটিল সমস্যা দেখা দেবে। এতে গ্রাহকদের ব্যাংক ঋণের কিস্তি বাকি পড়বে। তখন বকেয়া ঋণের ওপর আরও বেশি সুদ গুনতে হবে। তাঁদের সিবিল স্কোরও খারাপ হবে। ভবিষ্যতে ঋণ পেতে তাঁরা সমস্যায় পড়বেন। কিছু মানুষ নিজেদের ব্যক্তিগত মুনাফার উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর খবর ছড়াচ্ছেন। তার শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো কনটেন্টের ওপর অধিকাংশ ক্ষেত্রে জোরালো নজরদারি বা বিধিনিষেধ না থাকায় এ ধরনের অপপ্রচারকারীরা তার সুযোগ নিচ্ছে।