সেতু নিয়ে তৃণমূল-বিজেপি তরজা

165

ফালাকাটা: ফালাকাটার বড়ডোবায় মুজনাই নদীতে সেতু তৈরি করা নিয়ে নয়া জটিলতা তৈরি হল। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে আগে বারবার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের টাকায় বড়ডোবায় সেতু তৈরি করা হবে। আবার গত লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে এই সেতুর প্রতিশ্রুতি দিয়েই সাফল্য পায় বিজেপি। তাই এখন ফের এই প্রসঙ্গ তুলতেই প্রাক্তন মন্ত্রী তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারপার্সন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বিজেপি সাংসদ ও বিধায়ককে এই দায় নিতে হবে বলে জানিয়েছেন। এদিকে, বিজেপির দাবি, রাজ্য প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণেই বড়ডোবায় সেতুর ব্যাপারে কোনও পদক্ষেপ করা যাচ্ছে না। তবে এই তর্জায় বড়ডোবার সেতু নিয়ে নয়া সংশয় তৈরি হল বলে মনে করা হচ্ছে। আর চরম ভোগান্তির কারণে শাসক বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বড়ডোবাবাসী।

গত সোমবার বড়ডোবার সেতুর দাবি নিয়ে ফালাকাটার তৃণমূলের নেতারা রবীন্দ্রনাথ ঘোষের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু এই দাবির কথা শুনতেই বিজেপির সাংসদ ও বিধায়কদের প্রসঙ্গ টেনে আনেন রবীবাবু। দলীয় সূত্রের খবর, বড়ডোবার সেতুর জন্য অনেক অর্থের প্রয়োজন। আগে চেষ্টা করেও সেতু তৈরির জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করতে পারেনি উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর। তবে ফালাকাটায় এবার হেরেছে তৃণমূল। সামনেই পুরসভা ও এক বছর পর পঞ্চায়েত নির্বাচন। তাই বর্তমান চেয়ারপার্সন ফান্ড হলে ফের এই সেতুর জন্য উদ্যোগী হবেন বলে তৃণমূল নেতাদের আশ্বস্ত করেছেন। কিন্তু এ ব্যাপারে জানতে চাইলেই রবীবাবু বিজেপির জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন।

- Advertisement -

রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, ‘গত লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের আগে বড়ডোবার সেতুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন জন বারলা। কিন্তু প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট নিয়ে উনি চলে গিয়েছেন। কাজ করেননি। তার দায়িত্ব আমরা কেন নেব? ওরা তো মানুষকে বোকা বানিয়ে ধোকা দিয়েছে। আর এখন এই সেতু করতে না পারলে প্রকাশ্যে বলুক। তারপর আমরা বিষয়টি দেখব।’

দলের ফালাকাটা ব্লক সভাপতি সুভাষ রায়ও বলেন, ‘বিজেপির মিথ্যে প্রতিশ্রুতি মানুষ বুঝে গিয়েছেন। তাই আমরা বড়ডোবার সেতু তৈরির চেষ্টা করছি।’ এ নিয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জন বারলার সঙ্গে ফোনে চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তবে বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক তথা বিধায়ক দীপক বর্মন তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে পালটা তোপ দেগেছেন। তিনি বলেন, ‘এরকম একজন অজ্ঞ ব্যক্তিকে মন্ত্রী বা চেয়ারপার্সন করা ঠিক নয়। তিনি জানেন না যে, কোনও সাংসদ বা বিধায়ক সেতু তৈরি করতে পারে না। সেতু তৈরি করে কোনও দপ্তর। আর রাজ্যের অনুমোদন ছাড়া কেন্দ্রীয় সরকার কোনও কাজ করে না। তাই এই সেতুর দায়িত্ব রাজ্যের।’ রবীন্দ্রনাথ ঘোষের পালটা তিনিও বলেন, ‘রাজ্য সরকার যদি এই সেতু করতে না পারে তাহলে ডিপিআর করে কেন্দ্রে পাঠিয়ে দিক। সেটা দেখার দায়িত্ব আমাদের।’ আর নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে বিধায়কের বক্তব্য, ‘৭৫ বছরের দাবি ৭৫ দিনে মেটানো তো সম্ভব নয়। আমরা রাজ্যের ক্ষমতায় আসলে সবার আগে বড়ডোবায় সেতুর কাজ করা হত।’

ফালাকাটা হাটখোলার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মুজনাই নদীতে সেতু না থাকায় বড়ডোবার প্রায় আট হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে আছেন। বর্ষায় নৌকো আর বছরের অন্য সময় বাঁশের সাঁকোই তাঁদের মূল ভরসা। এলাকার যুবক জীবন রায় বলেন, ‘বারবার রাজনৈতিক কারণেই বড়ডোবায় সেতু হচ্ছে না। তাই তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির ভূমিকা নিয়ে সবাই অসন্তুষ্ট।’