বিজেপির জেলা কিষান মোর্চায় রদবদল, কৃষি অধ্যুষিত ফালাকাটাকে বাড়তি গুরুত্ব

436

সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা ও আলিপুরদুয়ার: মূল সংগঠনের পরেই কৃষক সংগঠনকে গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি। আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটা সহ অধিকাংশ এলাকা কৃষি অধ্যুষিত। এছাড়াও কুমারগ্রাম, কালচিনি ও মাদারিহাট আসনেও কৃষক ভোট রয়েছে। তাই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে বিজেপির কিষান মোর্চার জেলা কমিটিতে ব্যাপক রদবদল করা হল। সোমবার সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ জেলা ও মণ্ডল কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটিতে বহু নতুন মুখ নিয়ে আসা হয়েছে। এক্ষেত্রে ফালাকাটাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে জেলা সভাপতি পদে পুনরায় মনোনিত হয়েছেন সুজিত সাহা।

সুজিতবাবু বলেন, ‘২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনকে লক্ষ্য করেই সংগঠনে নতুনদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এখন তৃণমূল কংগ্রেসের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সংগঠনের নেতারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংযোগ করবেন।’ যদিও বিজেপির এই প্রচেষ্টাকে গুরুত্ব দিতে চায়নি তৃণমূল।

- Advertisement -

বিজেপির কৃষক সংগঠন ফালাকাটায় বাড়তি নজর দিচ্ছে। কারণ, ফালাকাটার সংখ্যাগোরিষ্ঠ ভোটারই হলেন কৃষক। গত পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনে এই আসনে বিজেপির কাছে ধাক্কা খায় তৃণমূল কংগ্রেস। তাই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনেও ফালাকাটা দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে গেরুয়া শিবির। পুজোর আগে কেন্দ্রের কৃষি আইনের প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে ওঠে তৃণমূল। কৃষকদের উপর সেই প্রভাব কাটাতেই সম্প্রতি বিজেপির কিষান মোর্চার রাজ্য সহ সভানেত্রী শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী ফালাকাটা সহ আলিপুরদুয়ারের কৃষি অধ্যুষিত এলাকায় এসে একাধিক দলীয় কর্মসূচিতে শামিল হন।

সূত্রের খবর, ফালাকাটার পাশাপাশি আলিপুরদুয়ার বিধানসভা এলাকাতেও কৃষক ভোটের সংখ্যা বেশি। চা বাগান অধ্যুষিত হলেও জেলার কুমারগ্রাম, কালচিনি ও মাদারিহাটেও ভোটারদের একাংশ কৃষক। বিজেপি জেলার প্রতিটি আসন দখলের লক্ষ্যেই ছক কষে ময়দানে নেমেছে। কারণ, গত লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে আলিপুরদুয়ারের ৫টি বিধানসভা আসনেই তৃণমূলের থেকে ভোটের ব্যবধানে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে। আর এই ট্রেন্ড আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বজায় রাখতে কৃষক সংগঠনের খোলনলচে পালটে দিয়েছে বিজেপি।

এদিন বিজেপি ঘোষিত জেলা কিষান মোর্চা কমিটির প্রতিটি স্তরেই ব্যাপক রদবদল করা হয়। সব ক্ষেত্রেই নতুনদের বেশি করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জেলা সংগঠনের মূল যে ১৬ জনের কমিটি করা হয়েছে তাতে পুরোনোদের মধ্যে ঠাঁই পেয়েছেন ৬ জন। বাকি জেলা সহ সভাপতি পদে সুজিত সরকার, জেলা সাধারণ সম্পাদক পদে শংকর ঘোষ সহ ১০ জনই নতুন মুখ। অধিকাংশ মণ্ডল কমিটিতেও নতুনদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কুমারগ্রামের চারটি ও কালচিনির চারটি মণ্ডল কমিটিতে নতুন মুখকে মণ্ডল সভাপতি করা হয়েছে। আলিপুরদুয়ার কেন্দ্রের ১০, ১১ ও ১২ নম্বর মণ্ডল সভাপতিকেও বদল করা হয়েছে। এছাড়া ফালাকাটার ১৪ নম্বর ও মাদারিহাটের ২০ নম্বর মণ্ডল সভাপতি পদে নতুনরা দায়িত্ব পেয়েছেন। জেলার কার্যকরী কমিটি, আমন্ত্রিত সদস্য, ২২টি মণ্ডল কমিটি সহ সবমিলে ৫৩ জনের পূর্ণাঙ্গ কমিটির ৩৯ জনই নতুন মুখ।

সংগঠনে ব্যাপক রদবদলের কারণ প্রসঙ্গে কিষান মোর্চার জেলা সভাপতি সুজিত সাহা বলেন, ‘অনেকের পদন্নোতি হয়েছে। আবার কেউ কেউ সংগঠনের অন্যান্য দায়িত্ব পেয়েছেন। এজন্যই অধিকাংশ নতুনদের কমিটিতে পদ দেওয়া হয়েছে।’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাখা সংগঠন নিয়ে এত তৎপরতা আগে কখনও বিজেপিতে দেখা যায়নি। তৃণমূলকে চাপে রাখতেই পদ্ম শিবিরের এই সক্রিয়তা শুরু হয়েছে। যদিও কিষান ও খেতমজদুর তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি প্রসেনজিৎ রায় বলেন, ‘কৃষি আইন নিয়ে বিজেপি ব্যাকফুটে রয়েছে। তাই ওদের সংগঠনে রদবদল হলেও কোনও ফায়দা হবে না। জেলার কৃষক ভোটার বিজেপির ভণ্ডামি বুঝে গিয়েছে। আমরা কৃষকদের পাশে আছি।’