উপনির্বাচনের আগে ফালাকাটায় তৃণমূলের রণকৌশল নিয়ে ধন্দ

966

ফালাকাটা: ফালাকাটায় তৃণমূল কংগ্রেসের রণকৌশল নিয়ে দলের ভিতরেই ধন্দ তৈরি হয়েছে। উপনির্বাচনকে টার্গেট করে বিজেপি বাড়ি বাড়ি যাচ্ছে। কিন্তু বার বার বলা সত্ত্বেও বাড়ি বাড়ি পৌঁছানোর জন্য তৃণমূলের লিফলেটই এখনও ছাপা হয়নি। দলের নেতাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি কেন যাচ্ছেন না, শুক্রবার ফালাকাটায় এসে সেই প্রশ্ন তুললেন এই কেন্দ্রের বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত বনমন্ত্রী রাজীব বন্দোপাধ্যায়।

বিজেপির থেকে যে তৃণমূল এখনও এই প্রচারের ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে সে কথাও স্বীকার করে নেন রাজীব। এই পরিস্থিতিতে উপনির্বাচনে আদৌ ভালো ফল হবে কী না তা নিয়ে দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠেছে। তাই রাজীববাবু এদিন সংগঠনকে গুরুত্ব দিয়ে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কর্মীদের বাড়ি বাড়ি যাওয়ার কড়া নির্দেশ দেন। বুথকর্মীদের চাওয়া পাওয়ার দাবিরও কড়া সমালোচনা করেন তিনি। এদিন দেওগাঁও গ্রাম পঞ্চায়েতে অঞ্চল ভিত্তিক বৈঠকে প্রতিটি বুথ থেকে ১০ জন করে কর্মী উপস্থিত না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাজীব বন্দোপাধ্যায়।

- Advertisement -

নির্বাচন কমিশনের নয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী নভেম্বর মাসে ফালাকাটায় উপনির্বাচন হতে পারে। এই আসনকে টার্গেট করেছে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি। সম্প্রতি বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ফালাকাটায় এসে বৈঠক করেন। এদিকে তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক তথা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায় ফালাকাটার প্রতিটি অঞ্চল ভিত্তিক বুথ ধরে ধরে বৈঠক করেন। এদিন দেওগাঁও অঞ্চল ভিত্তিক বৈঠক আসেন রাজীব বন্দোপাধ্যায়। দেওগাঁও-এ সংগঠনের ২৫টি বুথ রয়েছে। প্রতিটি বুথ থেকে এই বৈঠকে বাছাই করা ১০ জন করে কর্মী উপস্থিত থাকার কথা ছিল।

কিন্তু কিছু বুথ থেকে দশজন করেও উপস্থিত না থাকায় রাজীববাবু বলেন, বুথ ভিত্তিক পর্যালোচনা বৈঠকে কোনও বুথের ১০ জন কর্মীও উপস্থিত নেই। এটা আমাকে ভাবাচ্ছে। এদিন একাধিক বুথকর্মী এলাকায় সেতু, পানীয় জল, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দাবি তোলেন। এতেও রাজীব ক্ষুব্দ হন। তিনি বলেন, এটা চাই, ওটা চাই করলে চলবে না। চাওয়া-পাওয়ার শেষ নেই। আপনারা পাওয়ার আশায় রাজনীতি করা বন্ধ করুন। সংগঠনের কাজ করুন। পিকে’র নির্দেশে তৃণমূল এখন বুথ স্তরকে গুরুত্ব দিয়েছে।

রাজীব বলেন, আমরা এখন বুথের রোগ জানার চেষ্টা করছি। রোগটা জানা গেলেই চিকিৎসা হবে। ফালাকাটায় দলের পঞ্চায়েত, প্রধানদের দুর্নীতি নিয়েও দলের কাছে রিপোর্ট গিয়েছে। রাজীব আরও বলেন, পঞ্চায়েত, প্রধান হয়ে অনেকে নিজেকে হনু মনে করছে। এসব কারণে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। তবে ওই রবার স্ট্যাম্প কারও বাপের সম্পত্তি নয়। দল সবার দিকেই নজর রাখছে।

তবে ফালাকাটায় দলের রণকৌশল নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে। ২৬ জুন ফালাকাটার বৈঠকে রাজীব বন্দোপাধ্যায় কর্মীদের বাড়ি বাড়ি যেতে বলেছিলেন। সূত্রের খবর, দু’মাসেও সেই কর্মসূচি শুরু হয়নি। এদিন রাজীব বলেন, ফালাকাটায় অনেক উন্নয়ন হয়েছে। তাই কাজের ফিরিস্তি তুলে ভোট হবে না। মানুষের কাছে বারবার যেতে বলেছিলাম। কিন্তু এখনও লিফলেট তৈরি হয়নি। অথচ বিজেপি বাড়ি বাড়ি যাচ্ছে। আমরা যাচ্ছি না। এক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে আছি। তাই ভবের ঘরের কলা চুরি করে লাভ নেই। আপনারা নিজে থেকে ময়দান ছেড়ে দিচ্ছেন। হাত তুলে বললেই হবে না যে ফালাকাটায় আমরা জিতব, আগে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে।

তিনি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে লিফলেট নিয়ে বাড়ি বাড়ি যাওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়ে বলেন, সঙ্গে নোট বুক রাখুন। মানুষের বাড়ি গিয়ে সব শুনুন এবং লিখুন। ছোটোখাটো অভিযোগ থাকলে তা মেটানো হবে। এই বাড়ি বাড়ি পৌঁছানোর পর শুরু হবে পাড়া বৈঠক। দল ফালাকাটাকে খুব গুরুত্ব দিচ্ছে সে কথা মনে করিয়ে রাজীব বলেন, যদি উপনির্বাচন হয় তাহলে রাজ্যের কাছে বড় মাইলস্টোন ফালাকাটা। গোটা রাজ্যের মানুষ এই নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। এদিনের ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের জেলা সভাপতি মৃদুল গোস্বামী, জেলার চেয়ারম্যান দশরথ তিরকি, ব্লক সভাপতি সন্তোষ বর্মন, ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায় প্রমুখ।