টার্গেট উপনির্বাচন, ফালাকাটায় উঠোন বৈঠক তৃণমূলের

445

ফালাকাটা: ফালাকাটা উপনির্বাচনের আগে জনসংযোগ করতে গিয়ে জব্দ হতে হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসকে। গত লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে দলের ঘাটতি পূরণের জন্য রাজ্য নেতৃত্বের কড়া নির্দেশে সম্প্রতি অভিনবভাবে পাড়ার কোনও বাসিন্দার বাড়ির উঠোনে গিয়ে বৈঠক করছেন তৃণমূলের নেতারা। প্রতিদিন সন্ধ্যায় ঘটা করে ওই উঠোন বৈঠকে পাড়ার শতাধিক বাসিন্দা উপস্থিত থাকছেন। দিনভর কাজ করার পর সন্ধ্যায় এমনিতেই পাড়ার বাসিন্দারা আড্ডায় বসেন।

জনসংযোগের জন্য ওই আড্ডাকেই টার্গেট করে নিয়েছে তৃণমূল। কিন্তু বাসিন্দাদের একাধিক প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে হিমসিম খাচ্ছেন নেতারা। তবে ছোটখাটো সমস্যা সঙ্গে সঙ্গেই মিটিয়ে ফেলা হচ্ছে। আর বড় কিছু দাবির বিষয়গুলি নেতারা নোট করে নিচ্ছেন। তবে বিজেপির জেলা সহ সভাপতি জয়ন্ত রায় বলেন, মানুষ বিজেপির সঙ্গেই রয়েছে। এখন উঠোনে বসে বৈঠক করেও লাভ হবে না।

- Advertisement -

২৮ অগাস্ট ফালাকাটায় এসে জনসংযোগে ঘাটতি নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছিলেন দলের তরফে এই কেন্দ্রের বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত তথা বনমন্ত্রী রাজীব বন্দোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, চলতি মাসে ফের রাজীববাবু ফালাকাটায় এসে দলের যাবতীয় রিপোর্ট সংগ্রহ করবেন। এজন্য জনসংযোগ বাড়ানো থেকে শুরু করে রাজ্যের নির্দেশে সংগঠনের যাবতীয় কাজ জোরকদমে চালিয়ে যাচ্ছেন দলের ফালাকাটার নেতারা।

ব্লকের দুই শীর্ষ নেতা অসুস্থ থাকায় তড়িঘড়ি বিজেপির মোকাবিলায় ১৩টি অঞ্চলের জন্য ৩০ জনকে নির্বাচনী পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এদিকে জনসংযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে অভিনব কায়দায় ময়দানে নেমেছে তৃণমূলের যুব ও ছাত্র সংগঠন। যুব তৃণমূলের ব্লক সভাপতি তথা ফালাকাটা পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাসের নেতৃত্বে ক’দিন থেকে চলছে পাড়ায় পাড়ায় উঠোন বৈঠক।

গোটা বিধানসভা এলাকাতেই এভাবে উঠোন বৈঠক করার পরিকল্পনা নিয়েছে দলের যুব-ছাত্র সংগঠন। ইতিমধ্যে সংগঠনের তরফে ময়রাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের পাঁচ মাইল, সাতপুকুরিয়া, বানিয়াপাড়া এলাকায় ৫-৬টি উঠোন বৈঠক করা হয়েছে। তবে জনসংযোগ হলেও এসব বৈঠক করতে গিয়ে একাধিক প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছেন নেতারা।

বানিয়াপাড়ার এক উঠোন বৈঠকে এতদিনেও পাড়ার রাস্তা বেহাল কেন সেই প্রশ্ন তোলেন গ্রামবাসী জিতেন দাস। আরেক বাসিন্দা প্রশান্ত দাস বলেন, ভোটের সময় সবার কদর বাড়ে। কিন্তু অন্যান্য সময় এলাকার পঞ্চায়েতের পাত্তা পাওয়া যায় না। সাতপুকুরিয়ার উঠোন বৈঠকে নৃপেন বর্মন বলেন, অনেক দুঃস্থ মানুষের বাড়িতে টিউবওয়েল নেই, ঘরের চাল ফুটো। ত্রিপল চেয়েও পাওয়া যায়নি। যুব নেতা সঞ্জয় দাস এভাবেই বাসিন্দাদের কাছে প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছেন। কিন্তু ভোট যে বড় বালাই! তাই সঞ্জয় বাবু বাসিন্দাদের ছোটোখাটো দাবি সাথে সাথেই মিটিয়ে দিচ্ছেন।

সঞ্জয় দাস বলেন, এই উঠোন বৈঠক করতে গিয়ে ব্যক্তিগত টাকায় ইতিমধ্যে একজনকে টিউবওয়েল, কিছু ত্রিপল কিনে দিয়েছি। পাড়ার সব বাসিন্দাদের কথা শোনা হচ্ছে। সেখানে মান-অভিমানের কথাও ওঠে আসছে। পঞ্চায়েতরাও বাসিন্দাদের সব সমস্যার সমাধান করতে পারেননি। সবকিছুই ডায়ারিতে নোট করে নিচ্ছি। বড় সমস্যা বা দাবির বিষয়গুলি জেলা ও রাজ্য স্তরে পাঠানো হবে। তাঁর দাবি, এই উঠোন বৈঠকে ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। এভাবে গোটা বিধানসভা এলাকাতেই উঠোন বৈঠকগুলি করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।