ছটপুজো মিটলেও সাফাই হয়নি ঘাট, দূষণের কবলে চরতোর্ষা

251

ফালাকাটা: ছটপুজোর জেরে দূষণের কবলে পড়েছে ফালাকাটার চরতোর্ষা নদী। পুজোর কয়েকদিন পরও এই নদীর ধারে পড়ে রয়েছে কলাগাছ, ফুল, প্লাস্টিকের গ্লাস, কাপ, ঘট সহ নানা সামগ্রী। এই পরিস্থিতিতে নদী দূষণের আশঙ্কা করছেন পরিবেশপ্রেমীরা। এই নদীর ঘাট সাফাইয়ের ক্ষেত্রে প্রশাসনের উদাসীন ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যদিও ফালাকাটা-২ গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে।

এবার করোনা পরিস্থিতিতেও ফালাকাটার নানা প্রান্তে অনুষ্ঠিত হয়েছে ছটপুজো। সাধারণত নদীর তীরেই ছটের ঘাট বানিয়ে এই পুজো হয়। অন্যান্য জায়গার মত ফালাকাটার ছটপুজোতেও এখন বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ শামিল হন। ফালাকাটা শহরের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সাপ্টানা ও মরা মুজনাই নদীতে তেমন জল নেই। এই দুই নদীতে মূলত নিকাশিনালার নোংরা জল জমে থাকে। তাই ফালাকাটার মুজনাই ও চরতোর্ষা নদীই ছটব্রতীদের কাছে পুজোর আদর্শ জায়গা।

- Advertisement -

মুজনাইয়ে বেশি ভিড়ের আশঙ্কায় এবার অনেকেই শহর সংলগ্ন চরতোর্ষা নদীকে ছটপুজোর জন্য বেছে নেন। চরতোর্ষা ডাইভারশনের দক্ষিণ দিকে ছটের ঘাট বানিয়ে পুজো হয়। দু’দিনের জন্য সেজে ওঠে চরতোর্ষা নদী চত্বর। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ এখানকার পুজোয় শামিল হন। পুজোর পর কয়েকদিন কেটে গিয়েছে। কিন্তু এখনও চরতোর্ষার ছটঘাট সাফাই হয়নি। নদী চত্বরের এই দৃশ্য দেখেই প্রশ্ন তুলেছেন পরিবেশপ্রেমীরা।

চরতোর্ষা নদী চত্বর ও জলে পড়ে রয়েছে কলা গাছ। নদী তীরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে পুজোর সামগ্রী সহ প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগ, গ্লাস, কাপ, জলের বোতল, মাটির ঘট সহ পুজোর অন্যান্য সামগ্রী। অভিযোগ, ছটব্রতীরা পুজোর পর সব সামগ্রী নদীতে ফেলে চলে গিয়েছেন। ফালাকাটার জীববিদ্যার শিক্ষক ডঃ প্রবীর রায়চৌধুরি বলেন, এসবে নদীর জল মারাত্মকভাবে দূষিত হয়। পুজোর সামগ্রীর পচনে তৈরি হওয়া জীবাণু মাছ সহ জলজ প্রাণীর ক্ষতি করে। জলের বাস্তুতন্ত্রেরও ক্ষতি হয়। তাই পুজোর পরই নদী ঘাট সাফাই হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি জানান।

কালীপুরের পরিবেশপ্রেমী সংস্থা সবুজ পৃথিবীর কর্ণধার সুজিত সরকার এক্ষেত্রে পুজো উদ্যোক্তা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সুজিতবাবু বলেন, এবার করোনা পরিস্থিতিতে ছটপুজোয় নানা বিধিনিষেধ ছিল। কিন্তু সেই বিধি অনেক ক্ষেত্রেই মানা হয়নি। পুজোর পর যেভাবে নানা সামগ্রী নদীতে পড়ে রয়েছে তা মেনে নেওয়া যায় না। পুজোর উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি প্রশাসনও এব্যাপারে কোনও পদক্ষেপ করছে না।

ফালাকাটা-২ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান অপর্ণা ভট্টাচার্য বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। স্থানীয় পঞ্চায়েতের কাছ থেকে বিষয়টি জেনে নিচ্ছি। প্রয়োজনে গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে নদী ঘাট সাফাই করা হবে বলে প্রধান আশ্বাস দিয়েছেন।