স্কুটিতে করে ৪০ কিমি দূরে অক্সিজেন পৌঁছোলেন যুবক

106

ফালাকাটা: কোচবিহারের পাশাপাশি এবার আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটার মেজবিল এলাকাতেও পৌঁছোলো ‘স্কুটি অক্সিজেন’ পরিষেবা। সোমবার করোনা সংক্রামিতের পরিবারের এক ফোনেই প্রায় ৪০ কিমি দূর থেকে স্কুটারে সিলিন্ডার নিয়ে মেজবিলে চলে আসেন শংকর রায়। সম্প্রতি বিবাহবার্ষিকীতে স্ত্রী জুলি রায় স্বামী শংকরবাবুকে অক্সিজেন সিলিন্ডার উপহার দিয়ে নজির সৃষ্টি করেছিলেন। সেই শংকরবাবু এখন নিজের জেলার পাশাপাশি সেবামূলককাজে আলিপুরদুয়ার জেলাতেও পা রাখলেন। তাঁর এই তৎপরতায় খুশি মেজবিলের মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মেজবিলের এক বয়স্ক বাসিন্দা সম্প্রতি করোনায় সংক্রামিত হন। তপসিখাতা কোভিড হাসপাতাল থেকে তিনি করোনামুক্ত হয়ে বাড়িতেও ফেরেন। বয়সের কারণে কমে গিয়েছে অক্সিজেনের মাত্রা। চিকিৎসকরা তাঁকে বাড়িতেই অক্সিজেন নিতে বলে দেন। তবে এখনও ওই পরিবারের আরও কয়েকজন করোনায় সংক্রামিত হয়ে হোম আইসোলেশনে রয়েছেন। এদিকে, করোনামুক্ত ওই বয়স্ক ব্যক্তির জন্য কোথাও অক্সিজেন সিলিন্ডার পাচ্ছিলেন না পরিজনরা। তাই ওই সংক্রামিতের এক নিকট আত্মীয় এদিন কোচবিহারের শংকরবাবুকে ফোন করে অক্সিজেন সিলিন্ডারের কথা জানান। সব কিছু শুনে স্কুটারে অক্সিজেন সিলিন্ডার চাপিয়ে শংকরবাবু সোজা মেজবিলে চলে আসেন। তিনি কীভাবে অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবহার করতে হবে, তা ওই পরিবারের লোকেদের ভালোভাবে দেখিয়ে দেন। তাঁর এই ভূমিকায় সংক্রামিতের পরিবারের পাশাপাশি এলাকার মানুষ খুশি। ওই পরিবারের এক সদস্য জানান, এক ফোনেই শংকরবাবু যেভাবে কোচবিহার থেকে মেজবিলে অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে স্কুটিতে ছুটে এলেন, তা ভাবাই যায় না।

- Advertisement -

শংকর রায় জানান, জেলার বাইরে এই প্রথম এভাবে অক্সিজেন পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হল। তাঁর এই কাজে এখন নানা মহল থেকে সাহায্য আসছে। তাই যে কেউ ফোন করলেই যত দূরই হোক না কেন এভাবে অক্সিজেন পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি।