ফালাকাটায় তৃণমূলের বরফ গলতে শুরু করেছে, খোলা হল রাইচেঙ্গার কার্যালয়

654

ফালাকাটা: ফালাকাটায় তৃণমূল কংগ্রেসের কোন্দল মিটতে চলেছে। দলের নতুন ব্লক সভাপতি সুভাষ রায়ের হস্তক্ষেপেই ‘বরফ’ গলতে শুরু করেছে বলে সূত্রের খবর। সোমবার রাত সাতটা নাগাদ ফালাকাটা-২’র পূর্বাংশে অঞ্চল কমিটির বিক্ষুব্ধ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ব্লক সভাপতি। সেখানে সদ্য দলের তরফে নিযুক্ত দুই অঞ্চল পর্যবেক্ষক সুনীল রায় ও গোফুর আহমেদও উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ আলোচনায় বিক্ষুব্ধ নেতাদের মান ভেঙেছে। এজন্য ওইসব নেতাদের এখন থেকে দলে বাড়তি গুরুত্বও দেওয়া হবে। এদিন রাতেই রাইচেঙ্গায় তালাবন্ধ দলের অঞ্চল কার্যালয়ও খোলা হয়। সেখানেও সবাইকে নিয়ে আলোচনা করেন ব্লক নেতৃত্বরা।

গত ২২ নভেম্বর ফালাকাটায় তৃণমূল কংগ্রেসের পূর্ণাঙ্গ ব্লক ও অঞ্চল কমিটি ঘোষণা করা হয়। এবার জটেশ্বর-২, দেওগাঁও দক্ষিণ ও ফালাকাটা-২’র পূর্বাংশে অঞ্চল সভাপতি রদবদল হয়। কিন্তু জটেশ্বর ও দেওগাঁওয়ে কোনও সমস্যা না হলেও ফালাকাটা-২ অঞ্চলে পরের দিনই দলের কোন্দল প্রকাশ্যে আসে। নতুন অঞ্চল সভাপতি দীপক সরকারকে মেনে নেওয়া হবে না বলে কমিটির চেয়ারম্যান সহ শাখা সংগঠনের পদাধিকারীরা বৈঠক করে ব্লক সভাপতির হাতে ইস্তফাপত্র জমা দেন।

- Advertisement -

এই ঘটনার জেরে রাইচেঙ্গায় দলের অঞ্চল কার্যালয়ও তালাবন্ধ অবস্থায় থাকে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ঘটনায় ব্যাপক অস্বস্তিতে পড়ে তৃণমূল। গত শনিবার দলের এরকম কোন্দল থামাতে প্রতিটি অঞ্চলে দু’জন করে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়। এদিকে ব্লক সভাপতি সহ ব্লক স্তরের নেতাদের একাংশ বিক্ষুব্ধদের সঙ্গে গোপনভাবে কয়েক দফায় বৈঠক করেন। সূত্রের খবর, এদিন শেষ দফার বৈঠকে বিক্ষুব্ধ নেতাদের মান অভিমান অনেকটাই মিটে যায়।

দলের অঞ্চল কমিটির চেয়ারম্যান সুভাষ অধিকারী বলেন, আমাদের মধ্যে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। ব্লক সভাপতির নেতৃত্বে এখন তা মিটে গিয়েছে। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তাই নতুন অঞ্চল সভাপতিকে মেনে নিয়ে এখন এক সঙ্গে দলের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ব। তৃণমূলের ব্লক সভাপতি সুভাষ রায় বলেন, সম্প্রতি ফালাকাটা-২’র পূর্বাংশে অঞ্চল নেতৃত্বের মধ্যে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। সবার সঙ্গে কথা বলে সেই সমস্যা মিটে গিয়েছে। এদিন রাইচেঙ্গায় দলের অঞ্চল কার্যালয়ও খোলা হয়। এখন সবাই একসঙ্গে দলের কাজ করবেন।