জিডিপির পতনে দেশে চাকরির অনিশ্চয়তা

451

নয়াদিল্লি : অর্থনৈতিক মন্দার ছায়ায় বাজারে চাহিদা হ্রাস, করোনা সংক্রমণ, লকডাউনের পর জিডিপির অভূতপূর্ব পতন। ভারতীয় অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সবকটি কারণ মজুত। বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্থিক বৃদ্ধির হার শূন্যের নীচে চলে যাওয়া শুধু মন্দার ইঙ্গিত দিচ্ছে না, কর্মসংস্থানের পরিসর সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কাকেও বাড়িয়ে তুলেছে। সম্প্রতি যতগুলি সমীক্ষা হয়েছে, তার সবকটিতে ভারতে কর্মসংস্থানের মলিন ছবিটাই ফুটে উঠেছে। গ্রামের তুলনায় শহরাঞ্চলে বেকারত্বের হার বেশি বলেও দেখা গিয়েছে সব রিপোর্টে। মুম্বইভিত্তিক থিংক ট্যাংক সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকনমির (সিএমআইই) সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে এমনিতেই ভারতে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমছিল। করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতির আরও দ্রুত অবনতি হয়। মূলত শহরাঞ্চলেই ভালো বেতনের চাকরির সুযোগ থাকে। গত কয়েক মাসে শহরগুলিতে চাকরির সুযোগ ক্রমাগত কমছে। অনেক ক্ষেত্রে কোপ পড়েছে বেতনেও। ফলে শহরে চাকরির বাজার এখনও খুবই সংকুচিত। মোটা মাইনের চাকরির সুযোগ নেই বললেই চলে। জুলাইয়ে মধ্যে দেশে ১ কোটি ৮৯ লক্ষ চাকরিজীবী কাজ হারিয়েছেন। এই সংখ্যা মোট বেতনভোগীদের ২১ শতাংশ।

করোনা সংক্রমণের কারণে গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে প্রভাব পড়েছে। তার ওপর ভারতের মতো দেশ, যেখানে আর্থিক বৈষম্য বেশি, সেখানে অর্থনৈতিক সংকোচন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। চলতি সংকটে এই আর্থিক বৈষম্য আরও বাড়বে বলে সিএমআইই-এর রিপোর্টে আভাস দেওয়া হয়েছে। ভারতে বেকারত্বের হার জুলাইয়ে ৯.১৫ শতাংশ ছিল। অগাস্টে তা বেড়ে ৯.৮৩ শতাংশ হয়েছে। ভারতীয়দের বড় অংশই তরুণ প্রজন্মের। এই আর্থিক অনিশ্চয়তা তাঁদের ভবিষ্যতের ওপর প্রভাব ফেলবে বলে সিএমআইই-এর সমীক্ষা রিপোর্টে মন্তব্য করা হয়েছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং একাধিকবার ভারতের অর্থনীতিতে মন্দার ছায়া দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে মন্তব্য করেছেন। চলতি বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে বৃদ্ধির হার সামনে আসার পর স্টেট ব্যাংক যে পূর্বাভাস দিয়েছে, তাতেও কার্যত আর্থিক সংকোচনের কথা মেনে নেওয়া হয়েছে। স্টেট ব্যাংকের ওই পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি অর্থবর্ষে সামগ্রিকভাবে জিডিপি অন্তত ১০ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। এর আগে আইএমএফ, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের মতো সংস্থা ভারতের আর্থিক বৃদ্ধি কমবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল। বাস্তবে বৃদ্ধির হার ওই সংস্থাগুলির দেওয়া পূর্বাভাসের চেয়ে কমে গিয়েছে।

- Advertisement -

বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের সংকোচন কোনও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কেন্দ্রীভূত নয়। তা অনেক বেশি সামগ্রিক। গাড়ি, আবাসন শিল্পের পাশাপাশি গত কয়েকমাস ধরে হোটেল, রেস্তোরাঁ, পর্যটন, পরিবহণ, ক্ষুদ্র-কুটির-মাঝারি শিল্পকেও চাহিদার অভাবের সঙ্গে যুঝতে হচ্ছে। কর্মসংস্থানের সিংহভাগ এই ক্ষেত্রগুলিতে হয়ে থাকে। এই ক্ষেত্রগুলিতে সংকটের প্রভাব সরাসরি কর্মসংস্থানের ওপর পড়েছে। শুধু স্টেট ব্যাংক নয়, আরও কয়েকটি সমীক্ষক সংস্থা ভারতীয় অর্থনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী সংকোচনের পূর্বাভাস দিয়েছে। কোটাক ইনস্টিটিউশনাল ইকুইটিজের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবর্ষে জিডিপি হ্রাস পাবে ১১.৫ শতাংশ। নোমুরা-র মতে এই সংকোচন ১০.৮ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। ডয়েশ ব্যাংকের হিসেবে তা ৮ শতাংশ। এইচএসবিসি ৭.২ শতাংশ হারে জিডিপি কমার কথা জানিয়েছে।