আধারের আঁধার চক্র, দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রশ্নচিহ্ন

168

রাহুল মজুমদার, শিলিগুড়ি : শিলিগুড়ি শহরের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় অবৈধ আধার তৈরির চক্র। বাংলাদেশের বাসিন্দা হোক কিংবা নেপালের, শিলিগুড়িতে এসে টাকা ফেললেই মিলবে ভারতীয় আধার কার্ড। একবার আধার কার্ড তৈরি হয়ে গেলেই সহজেই মিলছে ভোটার কার্ড। অভিযোগ, অবৈধ উপায়ে আধার কার্ড তৈরি করে বহু বাংলাদেশি ইতিমধ্যে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় জমি কিনে বাড়ি তৈরি করে ফেলেছেন। ভিনদেশ থেকে এসে এভাবে ভারতীয় পরিচয়পত্র মেলায় অবাধে দুষ্কৃতীরাও এদেশে চলে আসতে পারে। তাই অবিলম্বে গোটা বিষয়টির ওপর নজরদারির দাবি উঠেছে। শিলিগুড়ি পুলিশের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পদস্থ কর্তা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছেন।
শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের একাধিক থানা এলাকায় অবৈধ আধার কার্ড তৈরির চক্র সক্রিয় হয়েছে। দশ থেকে কুড়ি হাজার টাকা দিলে মিলছে অবৈধ আধার কার্ড।

কীভাবে তৈরি হচ্ছে এই কার্ড?
যিনি কার্ড তৈরি করতে ইচ্ছুক প্রথমে তাঁর সঙ্গে দরদাম করে নির্দিষ্ট অঙ্কের অগ্রিম নেওয়া হচ্ছে। এরপর একই পদবির অন্য কোন এক ব্যক্তির খোঁজ করে তাঁকে বিদেশি ব্যক্তির ভুয়ো আত্মীয় বানিয়ে তাঁর পরিচয়ে আধার কার্ড তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে।

- Advertisement -

কোথায় কোথায় চক্র সক্রিয়?
শিলিগুড়ির ইস্টার্ন বাইপাস এলাকা, ফুলবাড়ি, ডাবগ্রাম, গেটবাজার এলাকায় এই ধরনের চক্র সক্রিয় হয়েছে।

কী করে কাজ করছে?
আধার তৈরি বা সহায়তা কেন্দ্র এবং ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে কারবারিরা। বহিরাগতরা এসে যোগাযোগ করতেই ভুয়ো পরিচয় দিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে আধারকেন্দ্রে। সেখানে আগে থেকেই যোগাযোগ করা থাকছে। ভিনদেশিরা আধারকেন্দ্রে গেলে সহজেই তাদের কাজ হয়ে যাচ্ছে।

এর আগেও ভুয়ো আধার কার্ড তৈরির চক্রের কারবারিদের গ্রেপ্তার করেছিল শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটান পুলিশ। শিলিগুড়ির বাঘা যতীন পার্ক সংলগ্ন এলাকায় অভিয়ান চালিয়ে একটি সাইবার ক্যাফে থেকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। উদ্ধার করা হয়েছিল প্রচুর ভুয়ো আধার কার্ড। এবার অবৈধ উপায়ে আধারচক্র সক্রিয় হওয়ায় সহজেই বহিরাগত দুষ্কৃতীরা এদেশে ঘাঁটি গাড়তে পারে। এতে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।