কোচবিহারে মাতৃমার সামনে জায়গা নেই, বিপাকে পরিজনরা

358

শিবশংকর সূত্রধর, কোচবিহার : কেউ রাস্তার পাশেই মশারি টাঙিয়ে শুয়ে রয়েছেন, আবার কেউ সেখানেই বসে ভাত খাচ্ছেন। রোগীর পরিজনরা রীতিমতো রাস্তার উপরই দিন কাটিয়ে দিচ্ছেন। কোচবিহার সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মাতৃমার সামনে প্রতিদিনই এই ছবি দেখা যায়। অপেক্ষার জন্য এখানে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় রোগীর পরিজনরা হাসপাতালের একটি করিডরের ভিতরেই রাত কাটান বলে অভিযোগ। কোচবিহার সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের এমএসভিপি ডাঃ রাজীব প্রসাদ অবশ্য বলেন, রোগীর পরিজনরা এখানে অযথাই ভিড় বাড়ান। মাতৃমা থেকে কিছুটা দূরে ন্যায্যমূল্যের ওষুধের দোকানের পাশে একটি প্রতীক্ষালয় রয়েছে। সেখানেও বসার সুযোগ রয়েছে। তবুও প্রতীক্ষালয়ের বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

জেলা হাসপাতাল থেকে মেডিকেল কলেজে উন্নীত হওয়ার পর কোচবিহারে মাতৃমা তৈরি হয়। ১৫ মে থেকে এখানে পরিসেবা দেওয়া শুরু হয়। ঝাঁ চকচকে চারতলা ভবনের পুরোটাই শীততাপ নিয়ন্ত্রিত। এখানে সিক নিউবর্ন কেয়ার ইউনিট, নিওনাটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট, পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট, এইচডিইউ সহ এই সম্পর্কিত সমস্ত ওয়ার্ডই একই ছাদের তলায় রয়েছে। অতি সংকটজনক রোগীদের জন্য পৃথক অবজারভেশন ওয়ার্ড রয়েছে। অপারেশন থিয়েটারে উন্নত যন্ত্রপাতিও রয়েছে। সাধারণত সংক্রমণের জেরে মা ও সদ্যোজাতদের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তাই মাতৃমায় সংক্রমণ এড়াতে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। কোনোভাবেই যাতে সংক্রমণ না ছড়ায় সেজন্য এখানে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সকাল ১১টা থেকে বেলা ১২টা এবং বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ভিজিটিং কার্ডের মাধ্যমে একজন চিকিত্সাধীনের সঙ্গে দেখা করতে পারেন। কমবেশি ১৫০-১৬০ জন এখানে চিকিত্সাধীন থাকেন। কর্তৃপক্ষের তরফেই চিকিত্সাধীনদের খাবার পরিবেশন করা হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, কর্পোরেট ধাঁচে তৈরি করা এই মাতৃমা উত্তরবঙ্গের কোনো বড়ো নার্সিংহোমকে অনায়াসে টেক্কা দিতে পারে। মাতৃমা তৈরির পর কোচবিহারে শিশুমৃত্যুর হার অনেকটাই কমেছে বলে কর্তপক্ষের দাবি।

- Advertisement -

তবে রোগীদের সঙ্গে দেখা করতে পরিজনদের রীতিমতো নাজেহাল হতে হয় বলে অভিযোগ। পুণ্ডিবাড়ির বাসিন্দা সবিতা রায় বলেন, পুত্রবধূ এখানে ভরতি রয়েছে। সকালে আর বিকেলে দেখা করার সুযোগ মেলে। সারাদিনে দুবার পুণ্ডিবাড়ি থেকে কোচবিহারে যাতায়াত কষ্টকর। তাই সারাদিন এখানেই থাকতে হচ্ছে। কিন্তু রোগীর পরিজনদের জন্য মাতৃমার সামনে কোনো বসার জায়গা নেই। রাস্তার পাশেই বসে থাকতে হচ্ছে। কোচবিহারের বাসিন্দা শুভম দাস বলেন, ভিজিটিং আওয়ারের বাইরে কাউকে ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয় না। রোগীদের স্বার্থে এই নিয়ম ঠিকই আছে। কিন্তু যাতে রোগীর পরিজনরা মাতৃমার বাইরে ঠিকমতো বসতে পারে সেজন্য কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা করা উচিত। রোগীর পরিজন দীপক বর্মন বলেন, রোগীর কোনো প্রয়োজন হলে মাতৃমার ভিতর থেকে মাইকে পরিজনদের ডেকে নেওয়া হয়। আমাকে ডাকা হচ্ছে কিনা তা জানতে মাতৃমার পাশেই থাকতে হচ্ছে। ফলে কিছুটা দূরে প্রতীক্ষালয় থাকলেও সেখানে যাওয়া সম্ভব হয় না। হাসপাতাল সূত্রে অবশ্য জানা গিয়েছে, মাতৃমার সামনে একটি শেড তৈরি করা হবে। রোগীর পরিজনরা তার নীচে সময় কাটাতে পারবেন। মাতৃমা সহ হাসপাতালের বিভিন্ন প্রান্তে ফুলের গাছ লাগানো সহ সৌন্দর্যায়নের কাজও করা হবে।