টিকাকরণে বাদ পড়ছে চিকিৎসকদের পরিবারই

78
ছবি: সংগৃহীত

রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি : চিকিৎসক, নার্স সহ সমস্ত স্বাস্থ্যকর্মীর পরিবারের সদস্যদের ভ্যাকসিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিভিন্ন রাজ্য সরকার। কিন্তু এরাজ্যে এখনও স্বাস্থ্যকর্মীরা ভ্যাকসিন পেলেও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের টিকাকরণের আওতায় নিয়ে আসা হয়নি। অন্যদিকে,  করোনা সংক্রামিত হলে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের এক লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার ঘোষণা করলেও পরবর্তীতে তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে চিকিৎসক মহলে। রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডাঃ অজয় চক্রবর্তীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ কৌশিক চাকি বলেন, অন্যান্য রাজ্যে চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মীদের পরিবারকে ভ্যাকসিন দেওয়া হলেও আমাদের রাজ্যে তা এখনও দেওয়া হয়নি। আমরা রাজ্য স্বাস্থ্যসচিবকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানতে চেয়েছি। পাশাপাশি, করোনা সংক্রামিত হলে যে এক লক্ষ টাকা করে দেওয়া হচ্ছিল সেটাও কেন বন্ধ করে দেওয়া হল তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

গত বছর করোনার প্রথম ঢেউয়ে পরিষেবা দিতে গিয়ে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতাল সহ এই জেলায় প্রচুর চিকিৎসক, নার্স এবং চিকিৎসাকর্মী করোনা সংক্রামিত হয়েছেন। রাজ্য সরকার জানিয়েছিল যে, চিকিৎসক, নার্স বা চিকিৎসাকর্মী এবং অন্যান্য প্রথম সারির কোনও করোনা যোদ্ধা যদি সংক্রামিত হয়ে সরকারি কোভিড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হন তবে তিনি এক লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্য পাবেন।

- Advertisement -

এই ঘোষণার পরে করোনা সংক্রামিত বেশ কিছু চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী এক লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য পেয়েছেন। কিন্তু গত বছরেরই জুন মাস থেকে এই সুযোগ পাচ্ছেন না স্বাস্থ্যকর্মী বা অন্য কোনও প্রথম সারির করোনা যোদ্ধারা। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত জেলায় স্বাস্থ্যকর্মী এবং প্রথম সারির করোনা যোদ্ধা মিলিয়ে অন্তত ৫০০ জন করোনা সংক্রামিত হয়েছেন। এর মধ্যে জেলায় খুব বেশি হলে ৫০ জন এক লক্ষ টাকা করে সরকারি সাহায্য পেয়েছেন। বাকিরা কেন এই আর্থিক সাহায্য পেলেন না সেই প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছেন চিকিৎসকরা।

অন্যদিকে, ওডিশা, অন্ধ্রপ্রদেশ সহ বেশ কিছু রাজ্যে চিকিৎসক, নার্স সহ অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের পরিবারের সদস্যদের ভ্যাকসিন দেওয়ার নির্দেশিকা জারি হয়েছে। অনেক রাজ্যে ইতিমধ্যে এই কাজ শেষও হয়ে গিয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে কেন এখনও চিকিৎসকদের পরিবারের সদস্যদের ভ্যাকসিন দেওয়া হল না সেই প্রশ্ন উঠছে। চিকিৎসকরা বলছেন, করোনার সংক্রমণ মারাত্মক বেড়েছে। সিংহভাগ চিকিৎসককেই প্রত্যক্ষ বা অপ্রত্যক্ষভাবে করোনার রোগীদের নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। তাঁরা কাজ শেষে বাড়ি ফিরছেন। ফলে পরিবারের সদস্যদেরও সংক্রমণের আশঙ্কা থাকছে। সেই জন্যই পরিবারের সদস্যদেরও ভ্যাকসিন দেওয়া উচিত।