আগেভাগে করোনা সংক্রামিতদের দেহ দাহ করতে দালালদের টাকা

150

ভাস্কর বাগচী, শিলিগুড়ি : মরেও শান্তি নেই। সময়মতো স্বর্গে যেতে সেখানেও টাকার খেলা। করোনা সংক্রামিতদের মৃতদেহ শিলিগুড়ির অদূরে সাহুডাঙ্গি শ্মশানে দাহ করা হচ্ছে। প্রতিদিন সেখানে প্রচুর মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অভিযোগ, টাকা না দিলে মৃতদেহ নিয়ে ১২-১৪ ঘণ্টা চালকদের অ্যাম্বুল্যান্সে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। হয়রানি এড়াতে চালকরা এলাকায় গজিয়ে ওঠা দালালচক্রের হাতে দুই-তিন হাজার টাকা গুঁজে দিচ্ছেন। এরপরই মৃতদেহ দাহ করার ছাড়পত্র মিলছে। অ্যাম্বুল্যান্সচালকরা অবশ্য মোটেও নিজেদের পকেট থেকে এই টাকা দিচ্ছেন না। মৃতের পরিবারের কাছ থেকে তাঁরা আগেভাগেই এই টাকার বন্দোবস্ত করে রাখছেন। গোটা ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মহল স্তম্ভিত। সুরাহা চেয়ে অবিলম্বে প্রশাসনিক ব্যবস্থার দাবি উঠেছে।

শিলিগুড়ি ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের সম্পাদক রূপক দেসরকার বলছেন, মৃতদেহ দাহ করা নিয়ে এভাবে টাকার খেলা কোনওমতেই মেনে নেওয়া যায় না। করোনা নিয়ে কালোবাজারি কোনওমতেই মেনে নেওয়া হবে না বলে শিলিগুড়ি পুরনিগমের নতুন প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব নিয়ে প্রাক্তন মন্ত্রী গৌতম দেব জানিয়ে দিয়েছিলেন। নিয়ম না মানলে কড়া ব্যবস্থার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন। কিন্তু কোথায় কী! করোনাকে কেন্দ্র করে শিলিগুড়িতে কালা কারবার যেন দিন-দিন আরও বিস্তৃত হচ্ছে। সাহুডাঙ্গি শ্মশানের বিষয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে গৌতমবাবুর প্রতিক্রিয়া, ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের নেতত্বে পুলিশ ও প্রশাসন বিষয়টিতে নজরদারি চালাচ্ছে। প্রয়োজনে আমি নিজে এলাকায় যাব। অ্যাম্বুল্যান্সগুলির লাগামছাড়া ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সমস্ত অ্যাম্বুল্যান্সচালক সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করা হবে। লাগামছাড়া ভাড়া নেওয়া হলে প্রশাসন আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।

- Advertisement -

গতবছর থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সাহুডাঙ্গি শ্মশানে করোনা সংক্রামিতদের মৃতদেহ দাহ করা হচ্ছে। তবে গতবার মৃতের সংখ্যা বেশি ছিল না। এবারে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সমস্যাও বেড়েছে। সরকারি হাসপাতালে যাঁরা মারা যাচ্ছেন, তাঁদের সৎকারের বিষয়টি সরকারিভাবেই করা হচ্ছে। কিন্তু নার্সিংহোমে মৃতদের ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে। বেশ কিছু ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের নিজেদের টাকায় অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া করে শ্মশানে মৃতদেহ পাঠাতে হচ্ছে। এভাবে অনেকেই শ্মাশানে মৃতদেহ পাঠাচ্ছেন। কিন্তু মৃতদেহ নিয়ে সেখানে গেলেই তো আর হবে না। মৃতদেহ দাহ করতে সময় লাগবে। শিলিগুড়িতে রোজই করোনা সংক্রামিত হয়ে অনেকে মারা যাচ্ছেন। একটি মৃতদেহ দাহ করতে কম করে এক ঘণ্টা সময় লাগলেও এই হিসাবে গোটা দিনে হাতেগোনা কয়েকটির বেশি মৃতদেহ দাহ করা সম্ভব নয়। তার ওপর একটিমাত্র চুল্লিতে মৃতদেহ দাহ করার কাজ চলায় সমস্যা আরও বেড়েছে। বাধ্য হয়ে অ্যাম্বুল্যান্সগুলিকে মৃতদেহ নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেখানে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

আর এই সুযোগেই দালালদের পোয়াবারো। অভিযোগ, দু-তিন হাজার টাকা দিলে দালালরা অ্যাম্বুল্যান্সগুলিকে সুবিধামতো এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। সীমান্তে পণ্য পরিবহণকারী ট্রাকগুলির ক্ষেত্রেও অনেকটা এই ব্যবস্থা দেখা যায়। অ্যাম্বুল্যান্সচালকদের অবশ্য কোনও সমস্যা নেই। তাঁরা যে টাকা দালালদের দিচ্ছেন সেই টাকা তাঁরা আগেভাগেই মৃতের পরিজনদের কাছ থেকে আদায় করে রাখছেন। আগেভাগে শ্মশানে মৃতদেহ নামিয়ে চালকরা আবার মৃতদেহ আনতে নার্সিংহোমগুলিতে ছুট লাগাচ্ছেন। গোটা বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অ্যাম্বুল্যান্সচালকরা মুখ খুলতে চাননি। গোটা বিষয়টিতে কোনও দুর্নীতি হয়ে থাকলে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিজেপি বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায় সরব হয়েছেন।