ডাক্তারিতে সুযোগ সাইকেলমিস্ত্রির মেয়ের

সৌরভ রায়, কুশমণ্ডি : অদম্য জেদ আর ইচ্ছেশক্তি থাকলে যে সব প্রতিকূলতাকে জয় করা যায়, তার একটা বড় উদাহরণ কুশমণ্ডির সাইকেল মেকানিকের মেয়ে সোমা। পারিবারিক অভাবকে পিছনে ফেলে সোমা এবছর সর্বভারতীয় নিট পরীক্ষার মেধাতালিকায় স্থান পেয়েছেন। তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্যে খুশি মা-বাবা ও শিক্ষকরা।

কুশমণ্ডির সাধুকুড়া গ্রামের বাসিন্দা গৌতম পাল। পড়াশোনা করলেও চাকরি জোটেনি। অগত্যা পেটের টানে সাইকেল রিপিয়ারিং করেন তিনি। যা আয় হয়, তা নিয়ে তিন ছেলেমেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে কোনওরকমে সংসার চালান তিনি। পরিবারে অভাবে নিত্যসঙ্গী। তবু ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ করেননি কখনও। আর তারই ফল হাতেনাতে মিলেছে বড় মেয়ে সোমার হাত ধরে। গৌতম পালের বড় মেয়ে সোমা পাল সর্বভারতীয় নিট পরীক্ষায় ৭২০-র মধ্যে ৬২৬ নম্বর পেয়েছেন। অল ইন্ডিয়া র‌্যাংকিং-এ ৯৭২৫ র‌্যাংক করেছেন তিনি। পাশাপাশি রাজ্য মেধাতালিকায় ৩৯৯ র‌্যাংক করে কলকাতা এসএসকেএম মেডিকেল কলেজে ডাক্তারি পড়ার সুযোগ মিলেছে। মেয়ে নজরকাড়া সাফল্যে খুশি বাবা গৌতম পাল। কিন্তু মেয়ের ডাক্তারি পড়ানোর খরচ কীভাবে চালাবেন একথা ভেবে দুশ্চিন্তায় রাত কাটছে তাঁর।

- Advertisement -

তিনি জানান, আমি সাইকেল রিপিয়ারিং করে সংসার চালাই। কিন্তু লকডাউনের জেরে টানা সাতমাস সেভাবে আয় হয়নি। পারিবারিক অভাবের মধ্যেও কোনও সরকারি সাহায্য পাইনি। আমার মেয়ে ডাক্তারি পড়ার সুযোগ পেয়েছে জেনে খুবই ভালো লাগছে। কিন্তু কীভাবে ব্যয়ভার বহন করব বুঝতে পারছি না। তবে সোমা পালের সাফল্যের কথা জানাজানি হতেই এগিয়ে আসেন পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞানমঞ্চ কুশমণ্ডি শাখার সদস্যরা। বিজ্ঞানমঞ্চের তরফে ২০ হাজার টাকা সোমার হাতে তুলে দেওয়া হয়। উপস্থিত ছিলেন কুশমণ্ডি হাইস্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক অখিল রাউত, প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক রঞ্জিত নিয়োগী প্রমুখ।

কুশমণ্ডি প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক উমাশংকর সরকার জানান, ছোট থেকেই অসম্ভব মেধাবী মেয়ে সোমা। কুশমণ্ডি ব্লকের প্রথম মহিলা ডাক্তার হতে যাচ্ছে সোমা। আমি তাঁকে অনেক শুভেচ্ছা জানাই। মঞ্চের সম্পাদক আশিস দাস জানান, ডাক্তারি পড়ার এই দীর্ঘ সময়ে সোমা পালের পাশে সবসময় থাকবে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞানমঞ্চ। সংগীতশিল্পী হিরান্ময় রাউত জানান, সোমার পড়াশোনার ক্ষেত্রে যাতে কোনও বাধা না আসে, তা আমরা দেখব।